#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-৭
হাদীসে কি নারীর বীর্য সম্পর্কে ভুল কিছু বলা হয়েছে?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
একজনের পোস্ট দেখলাম,সেটা আমার কপি করে পোস্ট করা হচ্ছে । তাই ভাবলাম এই বিষয়ে লেখা উচিত। আমি তানিয়া নামক মেয়েটার পোস্ট এর সঠিক অনুবাদ দিয়ে ( ইসলামিক সেন্টার) পোস্ট ব্যাখ্যা করব ইনশাআল্লাহ । আসলে মুসলিম এর
হাদীসটার বাংলা অনুবাদ দেখে বিভ্রান্ত হলেও এটা বিভ্রান্ত হওয়ার মতো কিছু না। অনেকে অভিযোগ করে যে " নারীদের বীর্য হয় কি করে? এবং সেটা আবার হলুদও হয় নাকি?"
আমাদের বুঝতে হবে যে সে সময় আরবে এই বিষয়টা কি রকম করে দেখা হতো। আসলে কোরআনে নুতফা শব্দ এর অর্থ বীর্য হয় ( দেখুন: নাহল -৪ নং আয়াত: বাংলা অনুবাদ- মুজিবর রহমান: English Translation : sahi international; মুজিবর রহমান নুতফা এর অনুবাদ শুক্র / বীর্য করেছে আর সাহি ইন্টারন্যাশনাল করেছে স্পার্ম "sparm ")
এখন বুঝতে হবে নুতফা/ নুতপাতিন ( শুক্বিন্দু/ মিশ্রশুক্র) বলতে কি বুজানো হতো। আমরা যদি আল ইনসান এর তাফসীর দেখি তাহলে দেখতে পাবো যে নুতফাতিন বা মিশ্র শুক্র বলতে নারী পুরুষের ডিম্বানু ও শুক্রানু বুঝানো হয় ( দেখুন: নাহল-৪ নং আয়াতের তাফসীর: তাফসীরে ফাতহুল মাজিদ)
কোরআনের শাব্দিক ও তাফসীর এর আলোকে বুঝতে পাচ্ছি যে ইসলামি মোতাবেক নুতফাতিন বা মিশ্রবীর্য বলতে নারীর ডিম্বানু ও পুরুষের শুক্রানুকেই বুঝায়। যেহেতু এখানে কথা হচ্ছে কোরআন হাদীস বা ইসলামিক ট্যাডিশন নিয়ে তাই আমি স্কলাররা এসব বিষয় কিভাবে দেখেছেন সেটা আগে ক্লিয়ার করলাম।
এখন আসি হাদীসে। আসলে এই টিনা নামে মেয়েটা অনুবাদে গন্ডগোল করছে। তার ইসলামিক সেন্টার প্রকাশিত মুসলিম এর অনুবাদের screenshots দিয়ে দিয়েছি। সেখানে বলা হচ্ছে যে " পুরুসের বীর্য সাদা বর্ণের আর নারীরটা হলুদ বর্ণের। আমরা প্রথমেই উল্লেখ করছি যে নারীদের বীর্য বলতে তার ডিম্বানুকে বুঝানো হয়েছে।
[ বীর্য বলে উল্লেখ করার দুটো কারণ হতে পারে -
১. সে সময়ে ডিম্বাণুকে বীর্যই ভাবা হতো
২. বীর্য হলো সেই বস্তু যা সন্তান জন্ম এর বীজ। আর সেই বীজ বুঝাতে নারীর ডিম্বানুকেও শুক্র বলা হইছে ( আল্লাহ আলাম)
প্রাচীন সময়ে মানুষ মনে করত সন্তান ছেলে মেয়ে হওয়ার পিছনে নারী দায়ি কিন্তু নবীজি বলছেন যে সন্তান হওয়ার পিছনে নারী পুরুষ দু- জন দায়ী ]
এখন যদি আমরা সে হিসাবে হাদীসটা এর ভাষ্য প্রদান করি তাহলে দেখতে পাবো যে " এখানে কোনো ভুল নেই বরং উক্ত অংশটুকু বৈজ্ঞানিক আর এটা ক্লিয়ার হবে হাদীসের পরবর্তী অংশ দেখে তা হলো " আর তা হলো হলদে.."
হাদীসে পুরুষের বীর্যকে সাদা বলা হইছে আর নারীর বীর্য ( ডিম্বানুকে) হলদে। আর নারীর ডিম্বানু যে হলদে কালার সেটা আপনারা screenshots এতই দেখতে পাচ্ছেন ( পিক এর সূত্র: নিউ সায়িন্স-১১ জুন ২০০৮) আর উপরোক্ত তথ্য+ হাদীসের শেষোক্ত কথা দ্বারা আমরা পুরো ক্লিয়ার করে এই ভাষ্যতে উপনীত হচ্ছি যে হাদীসে কোনো ভুল নেই কারণ ডিম্বাণু দেখতে আসলেই হলদে কালার এর যেমন করে পুরুষের বীর্য সাদা। এখন আসি পরবর্তী লাইন এতে। নবীজি পরবর্তী লাইনে বলছে যে
" পুরুষের বীর্য প্রাধন্য লাভ করলো পুরুষের মতো হয় হয় সন্তান আর নারীরটা প্রাধন্য লাভ করলে হয় মায়ের মতো..."
হাদীসটাতে মূলত সাধারণ দৃষ্টিতে বলা হইছে
আমরা বায়োলজির আলোকে জানি যে " পুরুষের স্পার্ম আর নারীর ডিম্বানু মিলিত হয়ে জাইগোট এর মাধ্যমে ভ্রুন গঠন হয়। আর এখানেই হলো আসল কাজ। আমরা জানি
"মানুষের ক্রোমোজোম দুটি প্রকারে বিভক্ত করা যেতে পারে: অটোসোম s (শরীরের ক্রোমোজোম(গুলো)) এবং অ্যালোসোম ( X এবং Y ক্রোমোজোম,যৌন ক্রোমোজোম)। কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য একজন ব্যক্তির লিঙ্গের সাথে যুক্ত এবং সেক্স ক্রোমোজোমের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। অটোসোমে বাকি জিনগত বংশগত তথ্য থাকে। কোষ বিভাজনের সময় সবাই একইভাবে কাজ করে।
মানুষের (পুরুষ ও নারী উভয়ের) কোষে ২৩ জোড়া (মোট ৪৬টি) ক্রোমোজোম থাকে। এর ২২ জোড়া অটোসোম এবং ২৩ তম জোড়া হল সেক্স ক্রোমোজোম (X এবং Y ক্রোমোজোম)। মহিলাদের দুটি X ক্রোমোজোম (XX) থাকে,পুরুষদের একটি X এবং একটি Y ক্রোমোজোম (XY) থাকে।
X ক্রোমোজোম, Y ক্রোমোজোমের তুলনায় তিনগুন লম্বা এবং X ক্রোমোজোমে 900টি প্রোটিন কোডিং জিন রয়েছে, Y ক্রোমোজোমে 100 প্রোটিন কোডিং জিন আছে । মহিলারা পিতার কাছ থেকে একটি X ক্রোমোজোম এবং মায়ের কাছ থেকে অন্য X ক্রোমোজোমটি উত্তরাধিকার সূত্রে পায়। পুরুষ সবসময় পিতার কাছ থেকে Y ক্রোমোজোম,মায়ের কাছ থেকে X ক্রোমোজোম পায় ।[৪০] স্ত্রী স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রতিটি কোষে দুটি X ক্রোমোজোম থাকে,যার একটি X ক্রোমোজোমের নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তা ট্রান্সক্রিপশন ঘটতে বাধা দেয়, X-লিঙ্কযুক্ত জিনের বিষাক্ত ডবল ডোজ না ঘটা নিশ্চিত করে ( সূত্র: বাংলাা উইকিপিডিয়া )
এখন যদি হাদীসের ভাষ্য প্রদান করি তাহলে জিনিসটা হবে -
" পুরুষের বীর্য প্রাধন্য পেলে ( মানে পুরুষের Y ক্রোমোজম এর কারণে) ছেলে আর আর মেয়ের বীর্য ( ডিম্বাণু এর মধ্যে থাকা X ক্রোমোজম) প্রাধন্য পেলে মেয়ে হয়... "
আশা করি সকল ডাউট ( সংশয়) ক্লিয়ার।
লেখক ও গবেষক : মোঃ মেহেদী হাসান ( প্রিন্স ফ্রেরাসে) ✍️
তালিবুল ইলম ও তুলনামূলক ধর্মতত্তবিদ
Student of Science ( Ssc -2024)
Md Mehedi Hasan
ফলো মাই পেজ: নাস্তিকদের যুক্তি খন্ডন
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।