#একটি_নিরপেক্ষ_ও_যুক্তিসঙ্গত_আলোচনা
#গাজওয়াতুল_হিন্দ_সম্পর্কে_সংক্ষিপ্ত_একটা_পর্যালোচনা
গাজওয়াতুল হিন্দ কি হয়ে গিয়েছে নাকি হবে?
© প্রিন্স ফ্রেরাসে
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে আজকাল আহলে হাদীস কিছু আলেম এবং তাদের ওয়েবসাইট গুলোতে বলা হচ্ছে যে গাজওয়াতুল হিন্দ নাকি সংঘটিত হয়ে গিয়েছে... বা এখন নাকি কোনো আর গাজওয়াতুল হিন্দ নেই ইত্যাদি ইত্যাদি, এরা আবার তাদের মতের পক্ষে ইবনে কাছীর রহিমাহুল্লাহ সহ কিছু ইমামদের বক্তব্যেও নিয়ে আসে....
আমি মোঃ মেহেদী হাসান বলছি যে গাজওয়াতুল হিন্দ হয় নি বরং হবে, আর এটাই বিশুদ্ধ এবং যুক্তি সঙ্গত ও দলীল ভিত্তিক মত।
আহলে হাদীস আলেম এবং তাদের ওয়েবসাইট এতে বলা হয়েছে যে গাজওয়াতুল হিন্দ এর ব্যাপারে একটা হাদীস সহীহ আর বাকি গুলো জাল যঈফ! এটাও সঠিক নয় বরং গাজওয়াতুল হিন্দ এর ব্যাপারে কয়েকটা রেওয়াত হাসান সহীহ বা বিশুদ্ধ ইনশাআল্লাহ । আমি মোঃ মেহেদী হাসান কয়েকটা পয়েন্ট এতে এই বিষয়ে আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ ।
পয়েন্ট -
১. গাজওয়াতুল হিন্দ হয় নি বরং হবে এই সম্পর্কে বড় বড় সালাফি আলেমদের বক্তব্য
২. গাজওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে কি রকম রেওয়াত এসেছে
৩. ইবনে কাছীর এই বিষয়ে কি বলেছেন
৪. শেষ জামানার কখন বা কত সালে কোন তারিখে হবে?
৫. গাজওয়াতুল হিন্দ এর জন্য আমাদের কি করণীয় উচিত!
গাজওয়াতুল হিন্দ হয় নি বরং শেষ জামানাতে হবে এই বিষয়ে এই বিষয়ে হাদীস দেখলে বুঝা যায়, হাদীস -
যেমন ছাওবান (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের দু’টি দল রয়েছে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। তাদের একটি দল হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আরেকটি দল যারা ঈসা (আঃ)-এর পক্ষে থাকবে’ (নাসাঈ হা/৩১৭৫; আহমাদ হা/২২৪৪৯; ছহীহাহ হা/১৯৩৪)
সবার ঐক্য মতে এই হাদীস সহীহ ইনশাআল্লাহ এতে সন্দেহ নেই। এখন দেখার বিষয় হলো দুটো দলের কথা বলা হচ্ছে , একটা হিন্দে যুদ্ধকারী, আরেকটা ঈসা এর পক্ষে থাকবে যারা ( যুদ্ধ করবে যারা..) এখানে রাসূল সাঃ ঈসা এর কথাও বলেছেন, আর ঈসা নবী যে শেষ জামানাতে আসবে এটা জানা কথা, হাদীসের ভাষ্য হলো এরকম যে " একটা দল হিন্দ ( দক্ষিণ এশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা..) এতে যুদ্ধ করবে আর একই সময় আরেক দল ঈসা নবী এর সাথে থাকবে..... ।
আর আমি আমার এই ভাষ্যের পক্ষে কিতাবুল ফিতান এর রেওয়ায়েত নিয়ে আসছি, কিতাবুল ফিতান এতে এসেছে -
ওয়ালিদ বিন মুসলিম রহিমাহুল্লাহ জাররাহ বিন মালীহ থেকে, তিনি বিশিষ্ট তাবেয়ী আরতাত রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; আরতাত রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইয়ামানী খলিফার নেতৃত্বে কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) ও রোম বিজয় হবে। তাঁর সময়েই দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে। তাঁর যুগেই ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই হিন্দুস্তানের যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তিনি হবেন হাশেমী বংশের লোক। আবু হুরায়রাহ (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) হিন্দের এই যুদ্ধ সম্পর্কেই (হাদীস) বর্ণনা করেছেন ( কিতাবুল ফিতান লিল নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ, রেওয়ায়েত নং-১২৩৮ : সনদের মান: সহীহ ইনশাআল্লাহ, কেননা সকল রাবী সিকাহ )
এই হাদীস দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে গেলো যে গাজওয়াতুল হিন্দ ঈসা নবী এর সময়ে হবে এবং ঈসা নবী যে শেষ জামানাতে আসবেন তা আমাদের সকলে অবগত আছেন, আর আমি এই রেওয়াতেত যেটা তাবেঈ আরতাত রহিমাহুল্লাহ এর কথার মাধ্যমেই নাসাঈ-৩১৭৫ এর হাদীসের উক্ত ভাষ্য পেশ করেছি।
অতএব আমরা তাবেঈ আরতাত এর আসার দ্বারা নাসাঈ এর হাদীস ভাষ্য দ্বারা এটা সাবিত করে দিলাম যে গাজওয়াতুল হিন্দ শেষ জামানাতেই হবে ইনশাআল্লাহ ।
তো এই তো গেলো গাজয়াতুল হিন্দ এর শেষ জামানাতে হওয়ার দলীল। এখন জানবো সালাফি বড় স্কলাররা কি বলেন -
হামূদ তুওয়াইজিরী রহিমাহুল্লাহ বলেন -
গাজওয়াতুল হিন্দ হয় নি বরং তা হবে
( ইতহাফুল জামাআহ ১/৩৬৬,)
সালেহ আল মুনাজ্জিদ বলেন -
গাজওয়াতুল হিন্দ হয় নি আরং হবে ঈসা নবীর সময়ে শেষ জামানাতে ( ইসলাম সুওয়াল ও জাওয়াব: প্রশ্নোত্তর নং- ১৪৫৬৩৬)
আর এরা সবাই কিতাবুল ফিতান এর রেওয়ায়ত এর আলোকে এই ফতোয়া প্রদান করেছেন।
তো এই তো গেলো আমাদের প্রথম পয়েন্ট ।
এখন আসি দ্বিতীয় পয়েন্ট এতে।
আপনাদের অবগতির জন্য জানানো হচ্ছে যে চারজন রাবী ( প্রথম দু- জন সাহাবী, পরের দু- জন তাবেঈ থেকে গাজওয়াতুল হিন্দ এর রেওয়াতেত আমাদের কাছে এসেছে, তারা হলেন -
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু
সাওবান রাদিআল্লাহু
আরতাত ইবনু মুনযির রহিমাহুল্লাহ
কাব আল আহবার রহিমাহুল্লাহ
গাজওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে আমরা যা জানি তা তাদের মাধ্যমেই ঘুড়ে ফিরে এসেছে। আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু এর একটা হাদীস ব্যাতিত অন্যগুলো নিয়ে যুগের মুহাদ্দিসগন বিতর্ক করেছেন। অনেকে সেগুলো সহীহ বলেছেন আবার যঈফ বলেছেন। তবে আমি মোঃ মেহেদী হাসান এটা বলব যে এসব হাদীস বিষয়ে বিভিন্ন লেখা পড়ে ঘাটাঘাটি করে যা বুঝেছি তা হলো -
" এদের থেকে বিশুদ্ধ অবিশুদ্ধ দুটো সনদেই দেওয়ায়েত এসেছে। যা আমরা পর্যালোচনা করলে বুঝতে পারি যে গাজওয়াতুল হিন্দ শেষ জামানাতেই হবে ইনশাআল্লাহ .... "
আর এটাই আমার সংক্ষিপ্ত মত এই বিষয়ে।
উল্লেখ্য যে গাজওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে নানান আজগুবি কথা বলা হয় যা ভিত্তিহীন। গাজওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে মাত্র হাতে গুনা হাদীস আর আছার আছে যার, বিশুদ্ধ তা এর ক্ষেত্রে সবোচ্চ এর মান ৪ টা হবে হয় তো ( আল্লাহ আলাম) আর ছোট করে আবু হুরাইয়া থেকে এর ফজিলত এসেছে ( যেটা উপরে লেখাতে প্রথমেই আমি পেশ করেচি যে " গাজওয়াতুল হিন্দ এতে যে শরিক হবে তারা জান্নাতি ইনশাআল্লাহ ) আর আবু হুরায়রা নিজে গাজওয়াতুল হিন্দ পেলে তাতে অংশ গ্রহণ করতেন ইত্যাদি ইত্যাদি... । তো এই বিষয়ে অনলাইনে তাহকীকসহ আর্টিকেলগুলো পেয়ে যাবেন আপনারা পরে নিবেন ইনশাআল্লাহ ....
তৃতীয় পয়েন্ট -
অনেকে ইবনে কাছীর এর হাওয়ালা নিয়ে এসে এটা বলেন যে গাজওয়াতুল হিন্দ হয়ে গেছে, যেমনটা স্যার আবু বকর যাকারিয়া তার বক্তব্যে দেখলাম উল্লেখ করল আসলে তারা ইবনে কাছীর এর কথাগুলো হয় তো ভালো করে পড়েন নি, তাহলে বুঝতে পারতেন যে ইবনে কাছীর রহিমাহুল্লাহ একটা জামানাতে তা সীমাবদ্ধ রাখেন নি। আবু হুরায়রা যে বলছেন " যারা গাজওয়াতুল হিন্দ এতে অংশ নিবে তারা জান্নাতি... "
তো তিনি নবীজির এর ভবিষ্যৎ এর পক্ষে প্রমাণ হিসাবে তার কিতাবে শুরুর দিকে ভারতে আক্রমণকারী মুজাহিদদের আলোচনা ইবনে কাছীর নিয়ে এসেছেন,আর সেখানে কয়েকটা মুজাহিদ এর দলের নাম বলেছেন , যার দ্বারা বুঝা যায় যে ইবনে কাছীর একটা ধারাবাহিকতা বর্ণনা করেছে।
মূলত ইবনে কাছীর রাসূল সাঃ এর ভবিষ্যৎ বাণীর পক্ষে প্রমাণ হিসাবে সেসব ঘটনা নিয়ে এসেছে, আর সেগুলো তিনি নিয়ে এসে বলেন যে আর গাজওয়াতুল হিন্দ হবে না! বরং তার লেখনী দেখলে মনে হবে যে আরও হবে! আর সে হিসাবে আমরা শেষ জামানা এর যুদ্ধকেও গাজওয়াতুল হিন্দ বলতে পারি। ইবনে কাছীরের কথার সাথে আমাদের বিরোধ নেই, তিনি আবু হুরাইরা এর হাদীস নিয়ে ভবিষ্যৎ বাণী হিসাবে বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে এসে বলেছেন গাজওয়াতুল হিন্দ হয়েছে, আর তিনি বলেন যে আর হবে না, আর আমরা বলি যে যুদ্ধ আগেও হয়েছে তবে চূড়ান্ত গাজওয়াতুল হিন্দ বাকি আছে যা আমরা অন্য রেওয়ায়েত দ্বারা বুঝতে পারি....( আল্লাহ আলাম)
চতুর্থ পয়েন্ট -
ফেসবুক ইউটুবে কিছু গোমরাহ ব্যক্তিকে এটা বলতে ও লিখতে দেখবেন যে তারা বলে এই সালে ইমাম মাহদী আসবে, এইসালে গাজওয়াতুল হিন্দ হবে ইত্যাদি । জন্মের পর থেকে শুনতাছি, ২০১৪ সালে ইমাম মাহদী আসবো, ২০১৮ সালে আসবো,২৪ সালে, ২৬ সালে, ২৮ সালে, ৩৬ সালে ইমাম মাহদী আসবো গাজওয়াতুল হিন্দ হবো ইত্যাদি কথা। মলত এসব যারা বলে তারা গোমরা কেননা তারা গায়েবি বিষয়ে নিজেরাই ভবিষ্যৎ বাণী করে বসে আছে। গাজওয়া কবে হবে বা কোন সালে হবে তা আমরা বলতে পারি না, তবে আমি মোঃ মেহেদী হাসান এতটুকু বলতে পারি যে চূড়ান্ত গাজওয়াতুল হিন্দ এর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আমরা এখন হয় তো যুদ্ধের থেকে কিছুটা পিছনেই অবস্থান করছি অথবা আমি ভুলেও হতে পারি, এমনকি গাজওয়াতুল হিন্দ এই ১০০ বছরে নাও হতে পারে ( আল্লাহ আলাম) মূল কথা হলো এগুলো গায়েব এর আওতাভুক্ত এবং এসব সম্পর্কে দিন তারিখ ঠিক করার ইখতেয়ার আমাদের নেই। তাই এসব বিষয়ে নিরব থাকব ইনশাআল্লাহ । আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন।
শেষ বিষয়-
দুনিয়ার অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে , মুসলিমরা সকল দিকে নির্যাতিত হচ্ছে , পাক ভারত উপমহাদেশে মুশরিকরা আমাদের জান নেওয়ার জন্য উটে পরে লেগেছে। আমাদের বাংলাদেশের নাপাক মু! শ! রিক গুলো যে বসে নেই তা আমরা ভালো করে জানি। এখন থেকে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং সামরিক ও সামরিক ভাবে আমাদের শারীরিক এবং মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে
আমি বলব যে ব্যাংক এতে টাকা না রেখে তা দিয়ে সোনা কিনুন, আপনার স্ত্রীকে সোনার গয়না বানিয়ে দিন, যেটা যুদ্ধের সময় আপনার বা আমাদের মুসলিম মুজাহিদ এর যুদ্ধের পিচনে তারা ব্যয় করবেন। ডলার ক্রয় হতে বিরত থাকুন।
এই সময়ে দুটো জায়গায় ইনভেস্ট বেশি করুন -
১. সোনা
২. গবাদী পশু ( গরু, ছাগল... ) কিনুন
যুদ্ধের সময় খাদ্য সংকট ব্যাপক ভাবে দেখা দিবে তাই এমন সোর্স রাখতে হবে যা আমাদের অল্পতে শক্তি দিবে। আমার মতে গবাদি পশু রাখলে, যেমন গরু পালা শুরু করলে, গরু প্রতিদিন কয়েক লিটার দুধ দিবে, আর সে দুধ খেয়ে আমরা ভালো শক্তি পাবো এবং অল্পতে আমাদের শক্তির জোগান হবে, আর গরুকে মাঠে খেতে ঘাস খাওয়ালেই ভালো পরিমাণ দুধ খাওয়ানো যাবে.... এছাড়া বাড়ির উঠানে ( যারা গ্রামে থাকেন) ও তারা নিজেদের জমিতে বেশি বেশি যা পারেন তাই লাগানো শুরু করুন। যুদ্ধের সময় খাদ্য এর মন্দা অবস্থা থাকবে। তাই নিজেরাই ফল গাছ, ঔষুধ এর গাছ গাছালি লাগানো শুরু করুন.....।
আর আমাদের ভৌগলিক বিষয়ে জ্ঞান রাখা প্রয়োজন কেননা যুদ্ধের সময় হয় তো আমাদেরর হাত থেকে৷ গুগল ম্যাপ ছুটে যাবে , তাই নিজ স্মৃতিতে এসব রাখা প্রয়োজন।
পুরুষ ভাইয়েরা শারীরিক বিয়াম করুন, আর ঘরের নারীদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করুন। নিজের বাচ্চাদেরও এসব শিক্ষা দিন। সংযমী হতে শিখুন। বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজের জ্ঞান অর্জন করুনআর সকল বিষয়ে আল্লাহ এর উপর তাওয়াক্কুল করুন....
আমাদের রব আমাদের অবশ্যই সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ এবং আমরা বিজয়ী লাভ করব ইনশাআল্লাহ.....
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।