আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
পবিত্র কোরআন নিয়ে অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়, এর মধ্যে বেশি করা হয় আকাশ সম্পর্কিত। তাই আমি ছোট একটা সংজ্ঞা + উসূল নিয়ে আলোচনা করব একটা বিশেষ শব্দকে কেন্দ্র করে তাহলে আশা করি কোরআনের পর আসা ৩০% বৈজ্ঞানিক ভুল এর অভিযোগ এর জবাব আপনি নিজেই সাথে সাথে দিতে পারবেন যদিও আপনি কখনো ওই অভিযোগ প্রথমে শুনেন নি।
তো চলুন শুরু রা যাক।
পবিত্র কোরআনে ব্যবহিত একটা শব্দ হলো " সামা" যার অর্থ সাধারণ তো আকাশ করা হয়, কিন্তু এই আকাশ অনুবাদটা সব জায়গায় ১০০% সঠিক না। প্রথমে বুঝতে হবে "সামা"কি? উত্তর হলো " জমিন থেকে উচুতে যা আছে তার সবই " সামা" এটা বুজার জন্য একটা আয়াত লক্ষ্য করুন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন-
" اَلَمۡ تَرَ کَیۡفَ ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا کَلِمَۃً طَیِّبَۃً کَشَجَرَۃٍ طَیِّبَۃٍ اَصۡلُہَا ثَابِتٌ وَّ فَرۡعُہَا فِی السَّمَآءِ ﴿ۙ۲۴﴾
তুমি কি লক্ষ্য করনা আল্লাহ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন? সৎ বাক্যের তুলনা উৎকৃষ্ট বৃক্ষ যার মূল সুদৃঢ় এবং যার প্রশাখা উর্ধ্বে বিস্তৃত ।
See you not how Allah sets forth a parable? - A goodly word as a goodly tree, whose root is firmly fixed, and its branches (reach) to the sky (i.e. very high).( ইব্রাহিম -২৪)
লক্ষ্য করুন এখানে " শাখা প্রশাখা উধ্বে বিস্তৃত .. " এর জন্য আরবিতে " সামা " শব্দ এসেছে গাছ কিন্তু আকাশে না এবং এর শাখা- প্রশাখাও আকাশে না, তাহলে সামা কেন ব্যবহার হলো? উত্তর হলো সেগুলোর শাখা- প্রশাখা আকাশে না হলেও তা জমিন থেকে উপরে, তাই এখানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন সামা শব্দ ব্যবহার করেছেন। সামা শব্দ এর অনেক অর্থ হয় যেমন heaven, sky, astroid ect. এরকম করে নতুন অর্থও প্রদান করা যাবে, আপনি চাইলে আকাশের স্যাটেলাইট কেও " সামা" বলে সম্বোধন করতে পারেন। কোরআনে সামা শব্দ এর কোথায় কি অর্থ হবে সেটা বুঝতে হবে সামা শব্দ টা বাক্যে কোন পরিস্থিতিতে আর কোন ভাব ও বচন এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন একটা অভিযোগ লক্ষ্য করুন, এক জন নাস্তিক মুলক এর -৩ নং আয়াত দিয়েচে আর কয়েকটা অভিযোগ করছে সেগুলো হলো-
১. আল্লাহর ভাষ্য মতে আকাশ কঠিন
২. আল্লাহ সাত আসমানের কথা বলেছে কিন্তু বিজ্ঞান মোতাবেক সাত আকাশ নেই
৩. আল্লাহ নাকি জানেন না আকাশ গ্যাসীও পদার্থ দিয়ে তৈরি.....
অভিযোগ গুলো তার কতটুকু যুক্তিসঙ্গত + আজও সটিক নাকি তা বুজতে এখন আমরা আগে আয়াতটা দেখব। আয়াতটা হলো-
الَّذِیۡ خَلَقَ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا ؕ مَا تَرٰی فِیۡ خَلۡقِ الرَّحۡمٰنِ مِنۡ تَفٰوُتٍ ؕ فَارۡجِعِ الۡبَصَرَ ۙ ہَلۡ تَرٰی مِنۡ فُطُوۡرٍ ﴿۳﴾
আল্লাযী খালাকা ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিন তিবা-কান মা- তারা- ফী খালকির রাহমা-নি মিন তাফা-উত ফারজি‘ইল বাসারা হাল তারা- মিন ফুতূর।
তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবেনা; আবার দেখ, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি?
Who has created the seven heavens one above another, you can see no fault in the creations of the Most Beneficent. Then look again: Can you see any rifts? ( মুলক-৩)
লক্ষ্য করুন আয়াতে " সামা" শব্দটা এসেছে। আমি প্রথমেই ইব্রাহিম এর আয়াতের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছি যে " জমিন থেকে উপরে যা তা সবই " সামা"। সূরা মুলক-৩ আয়াতে সামা দ্বারা ঊর্ধ্বে এক মহাজাগতিক স্পেস উদ্দেশ্য । একন কথা হলো গিয়া কোরআনের কোনো আয়াত দেখলে এরকম কিছু পাবেন না যে " সামা" শব্দটা দ্বারা কঠিন কিছু সব সময় বুঝানো হয়.. "। সামা শব্দ দ্বারা বায়ুমন্ডল যেমন বুঝানো হয় তেমনি গ্রহাণুও বুঝানো হয়। আর এই দুটোর প্রথমটা গ্যাসীও দ্বিতীয়টা কটিন, তার মানে হলো সামা শব্দটা ক্ষেত্র বিশেষ কঠিন বায়বীয় দুটোই উদ্দেশ্য করে। এখন মূল পয়েন্টে আসি -
আল্লাহর ভাষ্য মতে কি সত্যই আকাশ কঠিন?
উত্তর হলো না একদমই না কারণ আয়াতের মধ্যে ফুতূর বা কুদ শব্দ দেখে নাস্তিক যুক্তি দিসে আকাশ কঠিন কিন্তু যুক্তি ভুল। প্রথম কথা কোরআনের এই আয়াতে বলে নাই আকাশ কঠিন, যখন কোরআন বলে নাই আকাশ কঠিন তখন কোরআনের নামে ত্যানাবাজি করে তা চালিয়ে দেওয়াকে আমাদের ফিলোসোফিদের ভাষদয় বলে স্ট্রম্যান ফ্যালাসি। দ্বিতীয় তো এখানে " দয়াময় এর সৃষ্টি " বা ফী খালকির রাহমানির তাবাউত " বলতে সমগ্র সৃষ্টিকেই উদ্দেশ্য তবে জোড় দেওয়া হয়েছে আসমানকে। এখন কথা হলো সমগ্র সৃষ্টিই কি কঠিন? উত্তর হলো না, তাই উক্ত যুক্তিকে ডিফেন্ড করে আসমানকে কঠিন বলা সম্পূর্ণ বোকামি। সপ্ত আসমান দেখতে কি রকম সেটা আমরা কেও জানি না আর জানানও হয় নি। তবে কিছু মুরব্বি বলেন প্রথম আসমান লোহার, দ্বিতীয় আসমান পিতর.... এরকম সাত আসমান নাকি সাত ধাতুতে তৈরি, এটা সম্পূর্ণ জাল কথা, এর কোনো সহীহ ভিত্তি নেই। এক কথায় বলতে গেলে সপ্ত আসমান সম্পর্কে তেমন তথ্য আমাদের প্রদান করা হয় নি, তাই আমাদের এই বিষয়ে চুপ থাকতে হবে। এই গেলো প্রথম পয়েন্ট । দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো সত্যই কি সপ্ত আসমান আছে? উত্তর হলো কোরআন বলছে তাই মুসলিম হিসাবে বলব যে আছে, বিজ্ঞান মহাকাশ সম্পর্কে ৫% ও জানে না, তাই বিজ্ঞান দিয়ে সপ্ত আকাশ যাছাই করা বোকামি। বিজ্ঞান সপ্ত আকাশ সম্পর্কে হ্যা আর না কিছুই বলে না, তাই এটা নিয়ে লাফালাফি করার দরকার নেই। তারপরে বলছে আল্লাহ নাকি জানে না আকাশ গ্যাসীও পদার্থ দিয়ে তৈরি... আর এর প্রমাণ মুলক-৩ নং আয়াত...। ভাইরে কেও বুঝতে পারল না এখানে বায়ুমন্ডল এর কথা বলা হইছে আর তুই বুঝে গেলি? এখানে কখনোই বায়ুমন্ডলকে আকাশ বলা হয় নি কারন আল্লাহ সূরা সাজদাহ-১২ এতে বলছে " সপ্ত আসমান এর প্রথম আসমানকে তিনি নক্ষত্র দিয়ে সাজিয়েছেন "( কোরআন-৪১/১২) অর্থাৎ প্রতম আসমানকে নক্ষত্র দিয়ে সাজিয়েছে আর আমাদের বায়ুমন্ডল যা পৃথিবীর জমিন থেকে কয়েকশো উপর পযন্ত বিস্তৃত এখানে নক্ষত্র নেই, যার মানে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল মুলক-৩ এর বলা কোনো আকাশ বা সামা না। অতএব এক সামাকে আরেক সামাতে বসিয়ে বাল পাকনামি করার কোনো মানেই হয় না। যেখানে মুলক-৩ পৃথিবীর বায়ুমন্ডল এর কথা বলেই নি সেখানে আল্লাহ গ্যাসীও বিষয় সম্পর্কে জানতেন নাকি জানতেন না ওরকম প্রশ্নটাই রা ছাগলামি উক্ত আয়াতের ভিত্তিতে। এক কথায় বলতে গেলে তার তিনটা অভিযোগই অসার ও বাতিল।
এক কথায় বলতে গেলে সামা শব্দটা কখন কোন অর্থে ব্যবহিত হয়েছে সেটা উক্ত আয়াতের প্রয়োগবিধির উপর ডিপেন্ড করে অর্থ প্রদান করা হবে......
তো আজকে এই পযন্তই..
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন,
লেখক ও গবেষক : মোঃ মেহেদী হাসান ( প্রিন্স ফ্রেরাসে) ✍️
তালিবুল ইলম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ববিদ
Student of Science ( Ssc-2024)
Md Mehedi Hasan
ফলো মাই পেজ নাস্তিকদের যুক্তি খন্ডন
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।