হ্যা জাহান্নামে যাবে। যদি কোনো অমুসলিম ইসলাম সম্পর্কে না জেনে মারা যায় বা যারা পাগল ( মানসিক ভারসাম্যহীন) তাদেরকে হাশরের পরীক্ষা নেওয়ার হাদীস আছে, আর সে পরীক্ষাতে পাস করলে জান্নাত, পাস না করলে জাহান্নাম!
তবে আপনি যে কথা বলেছেন যে " তারা ইসলাম সম্পর্কে জানে তবে ভুল জানে "
আমার কথা হলো তারা নিজেরা কেন সেগুলো যাছাই করল না? তাদের সামনে যখন ইসলাম নিয়ে উল্টাপাল্টা বলা হলো তখন তারা কেন সেগুলো শুনার পর ইসলাম সম্পর্কে স্টাডি করল না?
আল্লাহ কি তাদের মগজ দেয় নি সত্য মিথ্যা পার্থক্য করার?
যদি দিয়ে থাকে তাহলে সে মগজ ব্যবহার করে কেন ধর্ম নিয়ে স্টাডি করল না? যদি করত নিরপেক্ষ ভাবে তাহলে ইনশাআল্লাহ হক খুজে পেত!
তারা একটু হক খুজার চেষ্টা করলেই আল্লাহ তাদের হেদায়েত প্রদান করত! কিন্তু তাদের সামনে যখন ইসলাম সম্পর্কে ভুল কথা বলা হয়েছে, ইসলাম এর বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তখন কেন তারা যাচাই করল না? আল্লাহ তো আমাদের সঠিক ভুল এর জ্ঞান দিয়ে পাঠিয়েছে। ইসলাম বলতে আল্লাহর দ্বীন জমিনে আছে এটা জানার পর সে সম্পর্কে স্টাডি কতে হবে, আর কেও নেক নিয়ত নিয়ে সত্য জানার জন্য স্টাডি করলে সে অবশ্যই হক খুজে পাবে ইনশাআল্লাহ !
কিন্তু সমস্যা হলো পাশ্চাত্য দেশের লোকেরা যখন ইসলামের ব্যাপারে জানতে পারলো তখন তারা সত্য জানার জন্য স্টাডি করে নি এবং চেষ্টাও করে নি! এখন এখানে দোষ কার? আল্লাহর নাকি ওই ব্রেনলেসগুলোর? অবশ্যই ওই ব্রেনলেসগুলোর, যাদেরকে আল্লাহ সত্য মিথ্যা যাছাই করার জ্ঞান দেওয়ার পরেও সে সেই জ্ঞান ব্যবহার করে হক বাতিল যাছাই করে নি! তাই দোষটা ওই পাশ্চত্য লোকেদেরই এবং এই কারণে সে জাহান্নামেরই উপযুক্ত আশা করি এতটুকু আপনার মগজে ঢুকেছে।
এখন আপনার কথার পরের অংশে আসি যেখানে আপনি বলেছেন " যারা মা বাবা দেখে অন্ধভাবে ভাবে ইসলাম পালন করে তারা কেন জাহান্নামে যাবে না?"
এখানে আমি দুটো পয়েন্ট বলছি, পয়েন্ট -১
প্রথমত আপনি আপনি সেই সব স্টুডেন্ট এর কথা চিন্তা করুন যারা অন্যের খাতা দেখে পাস করে, এখন আপনি কি বলবেন যে তারা অন্যের খাতা দেখে লেখেছে তাই তাদের পাস দেওয়া যাবে না?"
স্টুডেন্ট নিজে লেখে পাস করল নাকি আরেক জনেরটা দেখে লেখে পাস করল ওটা পরীক্ষার খাতা দেখা স্যারের দেখার বিষয় না, বরং পরীক্ষার খাতা দেখা স্যার এটা দেখে নাম্বার দেয় যে " স্টুডেন্ট খাতাতে লেখেছে কিনা এবং সেসব Ans সঠিক হয়েছে কিনা, যদি স্টুডেন্ট খাতাতে দেখে লেখে এবং তা সঠিক হয় তাহলে টিচার পাস দিতে বাধ্য!
আর যদি স্টুডেন্ট নিজের জ্ঞানে বা অন্যের টা দেখেও লেখতে না পারে তাহলে তো স্যার ফেল দিবেই!
আর সেই স্টুডেন্টকে ফেল দেওয়ার জন্য আপনি স্যারের উপর কোনো দোষারোপ করতে পারবেন না কেননা স্যার তো খাতাতে লেখাই পায় নি তো পাস দিবে কি করে?
ঠিক একই রকম ভাবে যারা অন্ধভাবে মা বাবারটা দেখে ইসলাম পালন করে তারাও দুনিয়া নামক পরীক্ষা থেকে পাস করে যাবে, কেননা তারা অন্যেরটা দেখে হলেও ইসলাম পালন করেছে আর এক আল্লাহকে বিশ্বাস করে ইসলামের বিধি বিধান পালন করেছে......... তাই এদেরও ( যারা মা বাবাকে দেখে ইসলাম এতে এসেছে বা ফলো করে) তাদেরলেও জান্নাত দেওয়া যুক্তি সঙ্গত বলেই আমি মনে করি!
দ্বিতীয় পয়েন্ট -
একটা হাদীস আছে যেখানে বলেছে মানুষ ইসলামের ফিতরাত নিয়ে জন্মগ্রহণ করে কিন্তু পরবর্তীতে মা বাবার দ্বারা বাতিল পতে চলে যায় ( মিশকাত / ভাবার্থটা বললাম হুবুহু হাদীসটা উল্লেখ করি নি)
অর্থাৎ দুনিয়াতে সকল মানুষ মুসলিম হয়েই জন্মগ্রহণ করে এবং সেই মুসলিমের ফিতরাত তার মধ্যেই থাকি।
আর এই ফিতরাতের সাথে জড়িত থাকে হক বাতিল বিবেচনা করার সামর্থ্য বা জ্ঞান ।
আপনি যে বললেন
" অনেক মুসলিম বাবা মার অন্ধ অনুসরণ করে মুসলিম থাকে"
এটা ভুল দাবি। বুদ্ধি হওয়র পর কেও বাবা মার অন্ধ অনুসরণ করে না বিবেক দিয়ে যাছাই করেই তারা ইসলাম পালন করে, আপনি যেমন মগজ এর উল্টা ব্যবহার করে নাস্তিল হয়েছেন মুসলিম থেকে, আমিও মগজের সঠিক প্রয়োগ করে মুসলিমিই আছে আলহামদুলিল্লাহ । তাই আপনার এটা বলা ভুল যে মুসলি ঘড়ে জন্মগ্রহণ করে মুসলিমরা সেটাই ফলো করে অন্ধভাবে!
কোনো মুসলিম অন্ধভাবে কোনো কিছু ফলো করলে আজ দুনিয়াতে হানাফি সালাফি এত বিপ্লব হতো! মুসলিমরা মগজ খাটায় বলে তারা হক তালাশ করে, আর ছোট ছোট বিষয়েও তারা হক বাহির করে ( যেমন মাসআলাতে হানাফি সলাফিরা সঠিকটা গ্রহণ লরে আর বাতিলটা বর্জন করে ইত্যাদি ইত্যাদি..)
আর সঠিক ধর্ম খুঁজে বাহির করাটা খুব কষ্টের না বরং একেবারে সহজ, উদাহরণ দিচ্ছি
মানব জ্ঞান বলে কোনো কিছু এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে না, আর মুসলিমরা বা আস্তিকরা এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বলে কোনো কিছু যখন স্রষ্টা ছাড়া যেহেতু নিজে নিজে তৈরি হতে পারে না তাই এই জগতও নিজে নিজে অস্তিত্বে আসতে পারে না, তাই এই জগতেরও স্রষ্টা আছে ( এটা হলো বিশ্বাসীদের স্রষ্টার পক্ষে একটা আরগুমেন্ট )
এখান থেকে বুঝতে পারলাম যে বিশ্বাসিরা অন্ধ ভাবে কিছু মানে না বরং তারাও যুক্তি ও বিবে কাজে লাগিয়ে বিশ্বাস করে!
এখন আসি পরবর্তী ধাপে, একজন বিশ্বাসি ব্যক্তি মাত্র এটাও বুঝতে পারে যে জগৎ এতে একের অধিক স্রষ্টা থাকা সম্ভব না বরং একজন স্রষ্টা থাকবে, এক জিনিসের দু- জন স্রস্টা থাকা বাস্তব ও বিবেকের যুক্তি বর্জিত কাজ। আর যখন ব্যক্তি এটা বুঝতে পারে তখন সে আরেকটা আরগুমেন্ট দাড় করাতে পারে সঠিক ধর্মমত খুজার পক্ষে আর সেটা হলো-
" ওই ধর্ম সত্য না যেখানে একের অধিক স্রষ্টার ধারণা আছে, কেননা এক জগতের জন্য দু- জন স্রস্টা থাকা সম্ভব না যেমন করে এক সন্তানের দু- বাপ থাকা সম্ভব না! "
আর এই আরগুমেন্ট দাঁড় করানোর পর সে এটা দিয়ে আশেপাশের ধর্ম যাছাই করতে পারে। এখন মুসলিমরা যখন দেখে হিন্দুরা একাধিক ইশ্বরের আরাধনা করে তখন তারা এমনিতেই বুঝতে পারে যে এই ধর্মমত বাতিল, খ্রিষ্টানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য! । আর বৌদ্ধ ধর্মের একদল তো ইশ্বরকে মানে না। তো এসব যখন একজন মুসলিম দেখে তখন সে বুঝতে পারে যে সে হকের উপর আছে কেননা তার ইসলাম তাকে এক আল্লাহর কথা বলে আর দুনিয়ার সকল মুসলিম এক আল্লাহকেই বিশ্বাস করে.....
এরকম আরও অনেক বিষয় দেখানো যাবে সেগুলোর উপর ভিত্তি মুসলিমরা ইসলাম পালন করে এখন হতে পারে কারো সেই ভিত্তি দুর্বল বা কারোটা শক্তিশালী , কিন্তু যে ভিত্তিতেই বিশ্বাস করুক না কেন সে কিন্তু একটা যুক্তি দাড়াই বিশ্বাস করে অন্ধ বিশ্বাস নয়!
অতএব আপনার এই কথাও বাতিল সাবিত হচ্ছে যে মুসলিমরা অন্ধ বিশ্বাস করে বা মা- পিতার ধর্ম ইসলাম বলে সেও তা ফলো করে..."
আশা করি আপনি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুক আমিন!
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।