আগুন তো কোনো পদার্থ না তাহলে আগুন দিয়ে জ্বীন সৃষ্টি করা হলো কীভাবে???
মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
দাবিঃ আমরা জানি যে কোনো কিছু সৃষ্টি হয় পদার্থ থেকে। পদার্থ ছাড়া কিছু সৃষ্টি হয় না। কোরআনে সূরা জ্বীন এতে বলা হয়েছে আগুন দ্বারা নাকি জ্বীন কে সৃষ্টি করা হয়েছে যেটা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক?; কারণ আগুন কোনো পদার্থ না । প্রাচীন সময়ে মানুষ মনে করত পঞ্চতত্ত্ব ( মাটি, পানি, অগ্নি, বায়ু আকাশ বা পৃথিবী) দ্বারা সবকিছু সৃষ্টি আর ওগুলোকে পদার্থ ভাবতো। কোরআন যেহেতু কুসংস্কার যুগে এসেছে তাই কোরআনো আগুনকে পদার্থ ভেবে ভুল করে বলে দিয়েছে জ্বীন আগুন দ্বারা সৃষ্টি যেটা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক
জবাবঃ প্রথম কথা
সমগ্র কোরআন তন্ন তন্ন করে খুজলেও এই কথা পাওয়া যাবে না যে জ্বীন সাধারণ আগুন দিয়ে তৈরি। পবিত্র আল - কোরআনে বলা হয়েছে যে " জ্বীন জাতিকে ধোঁয়াবিহীন আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে "( কোরআন -১৫/২৭)
একানে এক বিশেষ আগুন এর কথা বলা হয়েছে সেটা এরকম আগুন যার কোনো ধোঁয়া নেই। আমরা সাধারণ যে আগুন দেখি তা ধোয়ার সৃষ্টি করে কারণ ওতে কাড়বন বিদ্যমান। আমরা যখন কার্বন জ্বালানি ব্যবহার করি তখন সেখান থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ও ছাই- ভষ্ম বের হয়ে ধূয়ার সৃষ্টি হয়।
তাই উক্ত আগুন দ্বারা জ্বীন সৃষ্টি কখনোই হয় নি।
তাহলে প্রশ্ন হবে ওই আগুন কোন আগুন???
উত্তরের জন্য আমরা চলে যাবো Big bang এর পরের সময়ে। আমরা জানি শক্তি থেকে মহাবিশ্বের সূচনা হয়। তার পরবর্তী সময়ে ফোটন কণা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সামনে আসে গয়াসীয় পদার্থ বিশেষ করে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস। তারও কিচু পরে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গয়াসের সমবয়ে সৃষ্টি হয় প্রাথমিক আকারে নক্ষত্র। তো সেই নক্ষত্রগুলো ছিল প্রচন্ড উত্তপ্ত । আর সেই সব নক্ষত্রের মধ্যে যে আগুন বিদ্যমান ছিল সেগুলে দিয়েই হয় তো তৈরি হয়েছে জ্বীন জাতির কারণ ওগুলো ছিল ধূয়াবিহীন।
[ আমি আমার লেখাতে" হয় তো "শব্দের ব্যবহার করেছি ; যেটা দ্বারা নির্দেশ করে " হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। যখন এমন কোনো তথ্য প্রদান করা হবে যেগুলোর অনেক গুলে ডেটা আছে আর সেগুলোর মধ্যে কিছু ডেটা আমরা জানি যা দ্বারা একই কাজ করা যায় তখন " হয় তো" শব্দ এর প্রয়োগ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ কাওকে ছুরি দিয়ে হ_ত্যা করা হলো। তো ওইখানে কয়েক ধরনের ছুরি আছে আমরা জানি না কোন ছুরি দিয়ে হ_ত্যা করা হয়েছে তখন আমরা সম্ভাবনাময় একটা ছুরির কথা উল্লেখ করতে গেলে " হয় তো " শব্দ ব্যবহার করব ; যার মানে " এই ছুরি দিয়ে হ_ত্যা করতেও পারে আবার নাও পারে ]
বর্তমান বিজ্ঞানিদের ধারণা । অধিক উত্তপ্ত যেসব নক্ষত্র মন্ডলী প্লাজমা
[ আমাদের সাধারণ তো প্রাথমিক অবস্থাতে শিখানো হয় পদাড়থের তিনটি অবস্থা " গঠিন, তরল, বায়বীয়, " কিন্তু এর বাহিরেও আরেক ধরনের পদার্থ আছে যার নাম প্লাজমা ] সৃষ্টি করে সেগুলো থেকে প্রাণ সৃষ্টি হওয়া সম্ভব । মানে নক্ষত্রের প্লাজমা থেকেও প্রাণ আসতে পারে।
আমাদের পৃথিবীর মতো সব প্রাণ যে কার্বন ভিত্তিক হবে তার কোনো মানে নেই।
আর জ্বীন শব্দ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাফসীরে আহসানুল বয়ান এতে বলা হয়েছে যে " জ্বীন মানে' ঢাকা ' বা অদৃশ্য । জ্বীনকে যেহেতু দেখতে পারি না তাই তাকে অদৃশ্য বা জ্বীন বলা হয় ।
বিজ্ঞান বলে প্রত্যেক কনার প্রতিকণা আছে। ইলেক্ট্রন এর প্রতিকণা প্রজিট্রন।
তো ওইরকম ভাবে মানুষের বিপরীতে হয় তো জ্বীন। জ্বীন হলো অদৃশ্য আর প্রজিট্রনও.... । আমরা জ্বীন এর মডেল মূলত বর্তমান বিজ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করতে পারবো না। কার্বন ভিত্তিক প্রাণের মডেল পযন্ত আমাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ । তাই জ্বীন এর মডেল কি রকম হবে সেটা অজানা।
তো আমরা এতটুকু বুঝতে পারলাম যে ধূয়াবিহীন ( প্লাজমা) আগুন হতে প্রাণ আসা সম্ভব ( অনেক আর্টিকেল পেয়ে যাবেন) [ উল্লেখ্য ৭৫% হাইড্রোজেন আর ২৫% হিলিয়াম এর সমবয়ে যে নক্ষত্র সৃষ্টি হয় তার আগুন ধূয়াবিহীন ]
তবে আমরা জানি না সেই প্রাণের মডেল কি রকম হবে। তাই ওটা নিয়ে মাথা.... । তো মূল কথা হলো " জ্বীন এর সৃষ্টি অবৈজ্ঞানিক না তা বুঝতে পারলাম।
আশা করি কথা ক্লিয়ার
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।