Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

eID: #1607 এর সম্পাদনার ইতিহাস

মূল লেখায় ফিরে যান

বর্তমান ভার্সনসম্পাদনা 29 নভেম্বর 2025 করেছেন প্রিন্স ফ্রেরাসে

কালোজিরা কি সত্যিই সকল রোগের মহা ঔষধ


#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টি_কোণ
#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ







সিরিজ পর্ব-২ 






কালোজিরা নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি ও সংশয় নিরসন 






আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 






প্রথমেই হাদীসটা দেখে নেই 






" তোমরা এই কালোজিরা ব্যবহার করবে। কেননা এতে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের প্রতিষেধক রয়েছে " ( তিরমিজি-২০৪০)  






এই হাদীসটা দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে  " এতই যখন সকল রোগের ঔষধ কালোজিরা তাহলে মুসলিমরা কেন শুধু কালোজিরা খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করে না কেন??? "






 যাইহোক পয়েন্টে আসি










পয়েন্ট -১. উক্ত হাদীস দ্বারা রাসূল সাঃ কখনোই এটা বুঝাতে চান নি যে " পৃথিবীর সকল রোগের ঔষধ শুধু কালোজিরাতেই আছে । বরং এই হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো " কালোজিরা এর উপকারিতা" । আর বর্তমান মেডিকেল সাইন্স এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে কালোজিরা যেসব কাজ করতে পারে তা অন্যান্য ঔষধি উপাদান কখনোই করতে পারে না। গুগলে সার্চ করলে এই বিষয়ে হাজার- খানেক আর্টিকেল পেয়ে যাবেন যেখানে কালোজিরার ব্যাপারে শত শত উপকার এর কথা বলা আছে ; যেটা পৃথিবীর অন্য কোনো ঔষধি গাছ বা উপাদান এতে অতি সস্তাই পাওয়া যাবে না। আমাদের বুঝতে হবে যে রাসূল সাঃ থেকে এরকম অনেক হাদীস এসেছে যেগুলো কোনো একটা বিষয় এর গুরুত্বটা বুঝানোর জন্য বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ " কাফের আর মোমিনের মধ্যে পার্থক্য হলো  নামায " এখন এই হাদীস দ্বারা কিন্তু কেও এটা বলে না যে কেও ফজর না আদায় করলে সে কাফের হয়ে যাবে। বরং উক্ত হাদীস দ্বারা  নামায একজন মুসলিম এর জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমল তা বুঝানো হয়েছে। তাই তো রাসূল সাঃ অন্য হাদীসে বলেছে " কেও যদি জানতো ফজরের নামাযের... তাহলে সে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও ফজরের সালাত জামাআতের সহীত আদায় করত "। তো এরকম ভাবে অনেক হাদীস আছে যেগুলো গুরুত্ব বুঝানোর জন্য ব্যাপক কোনো ( বিশেষ) শব্দে ব্যবহার করা হয়। এটা মূলত এক ধরনের ভাষা অলংকার । আমরাও এরকম অনেক ভাবে এই অলংকার ব্যবহার করে থাকি। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুল এর পাঠ্য বই এতে বলা হয়েছে " পানির অপর নাম জীবন " এখন কেও কিন্তু এই বাক্য দ্বারা এটা বুঝে না যে শুধু সারাদিন পানি খেলেই বেঁচে থাকা যাবে। আসলে পানি এর গুরুত্ব বুঝানোর জন্য উক্ত বাক্য ব্যবহার করা হয়। যেরকম টা রাসূল সাঃ নিজে করেছেন কালোজিরা এর ক্ষেত্রে । তারমানে এই না যে শুধু কালোজিরা খেলেই আমি সকল রোগ- ব্যাধি থেকে রেহাই পাবো। 






পয়েন্ট -২. রাসূল সাঃ যখন এই হাদীস বর্ণনা করেন তখন কোনো সাহাবী এরকমটা বুঝেন নি যে " কালোজিরা সারাদিন খেলেই আমি সুস্থ থাকব মৃত্যু পযন্ত  " আর রাসূল সাঃ এরকমটা বুঝান নি। যদি তাই হতো তাহলে রাসূল সাঃ আলাদা করে বিভিন্ন রোগ- ব্যাধি এর উপর আমাদের দোয়া- দরুদ, রোকাইয়া শিখাতেন না। আমরা বিভিন্ন হাদীস থেকে বিভিন্ন রোগ - ব্যাধি থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য বিভিন্ন আমলের কথা পেয়ে থাকি। যেগুলো একেক রোগে আলাদা আলাদা করে ব্যবহার করা হয়। যদি রাসূল সাঃ সত্যিই " কালোজিরা মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " বুঝাতেন তাহলে তিনি আমাদেরকে আলাদা করে অন্যান্য গাছ- গাছরা ও চিকিৎসা কাজে ব্যবহিত উপাদান এর কথা বলতেন না। উদাহরণস্বরূপ মধুর কথাটাই বলা যায়। হাদীসে ও কোরআনে এর ব্যাপক উপকারিতার কথা পাওয়া যায়। রাসূল সাঃ যদি সত্যিই " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " হতো তাহলে তিনি আলাদা করে মধুসহ আরও অন্যান্য... এর কথা বলতেন না। তো আমরা সহজ ভাবেই বুঝতে পাচ্ছি যে রাসূল সাঃ এর " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথা দ্বারা আসলে কি উদ্দেশ্য করা হচ্ছে । আর মজার ব্যাপার হলো এই হাদীসের মানে রাসূল সাঃ এর যুগের কাফের - মুশরিকরাও এটা বুঝে নি যে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ তাই মোমিনদের শুধু কালোজিরা খেতে হবে " ; যদি কাফের - মুশরিকরাও এরকম বুঝতো যে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " তাহলে তারা এই হাদীসের ফায়দা লুটতো আর রাসূল সাঃ ও সাহাবিদের বলত যে " আজ থেকে তোমরা শুধু কালোজিরা খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করবে কারণ তোমাদের রাসূল সাঃ বলেছে 






" কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " 






কিন্তু মজার ব্যাপার হলো হাদীস ও বিখ্যাত সীরাতগ্রন্থ তে কাফেরদের এরকম দাবি করার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তাই আমরা সহজেই বুঝতে পাচ্ছি যে রাসূল সাঃ কখনোই " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথা উদ্দেশ্য করে নি বরং তিনি " কালোজিরা এর গুরুত্বপূর্ণতা বুঝাতে চেয়েছেন "। 






পয়েন্ট -৩. আপাতত প্রথম দুইটা পয়েন্ট সাইটে রাখলাম। নাস্তিকরা যদি হাদীস দ্বারা " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এরকম টাও বুঝায় তাহলেও রাসূল সাঃ এর বাণী ভুল প্রমাণিত হবে না। কারণ রাসূল সাঃ শুধু উপকার এর কথা বলছে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ"। কিন্তু তিনি আমাদের পদ্ধতির কথা বলেন নি। কোন পদ্ধতিতে কালোজিরা খেলে সকল রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যাবে এরকম কোনো পদ্ধতি তিনি বলে যান নি। রাসূল সাঃ সকল বিষয় এর পদ্ধতির কথা বলে গেছেন। " উদাহরণস্বরূপ সাওম আমাদের জন্য ঢাল স্বরুপ " এখন এই সাওমটা কোন পদ্ধতিতে আদায় করলে আমাদের জন্য ঢাল স্বরুপ হবে সেটা কিন্তু তিনি বলে গেছেন। এরকম করে প্রত্যেকটা বিষয় এর..... । তো রাসূল সাঃ " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথাটা নাস্তিকদের মানে হিসাবে ধরে নিলেও হাদীসকে পুরোপুরি ভাবে অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করা যায় না। আগে তাঁরা দলীল পেশ করুক কোন পদ্ধতিতে কালোজিরা খেলে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তখন না হয় আমরা উক্ত পদ্ধতিতে কালোজিরা খাবো ; তারপর যদি দেখা যায় রোগ হচ্ছে তখন ধরে নিতে হবে রাসূল এর হাদীস বৈজ্ঞানিক ভাবে ভুল। তাই আগে তারা দলীল পেশ করুক তারপর হাদীস ভুল প্রমাণ করুক। 






আশা করি কথা ক্লিয়ার।






তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন 






কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️






আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 






প্রিন্স ফ্রেরাসে, 




সম্পাদনা 29 নভেম্বর 2025 করেছেন প্রিন্স ফ্রেরাসে

কালোজিরা কি সত্যিই সকল রোগের মহা ঔষধ


#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টি_কোণ







সিরিজ পর্ব-২ 






কালোজিরা নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি ও সংশয় নিরসন 






আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 






প্রথমেই হাদীসটা দেখে নেই 






" তোমরা এই কালোজিরা ব্যবহার করবে। কেননা এতে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের প্রতিষেধক রয়েছে " ( তিরমিজি-২০৪০)  






এই হাদীসটা দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে  " এতই যখন সকল রোগের ঔষধ কালোজিরা তাহলে মুসলিমরা কেন শুধু কালোজিরা খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করে না কেন??? "






 যাইহোক পয়েন্টে আসি










পয়েন্ট -১. উক্ত হাদীস দ্বারা রাসূল সাঃ কখনোই এটা বুঝাতে চান নি যে " পৃথিবীর সকল রোগের ঔষধ শুধু কালোজিরাতেই আছে । বরং এই হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো " কালোজিরা এর উপকারিতা" । আর বর্তমান মেডিকেল সাইন্স এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে কালোজিরা যেসব কাজ করতে পারে তা অন্যান্য ঔষধি উপাদান কখনোই করতে পারে না। গুগলে সার্চ করলে এই বিষয়ে হাজার- খানেক আর্টিকেল পেয়ে যাবেন যেখানে কালোজিরার ব্যাপারে শত শত উপকার এর কথা বলা আছে ; যেটা পৃথিবীর অন্য কোনো ঔষধি গাছ বা উপাদান এতে অতি সস্তাই পাওয়া যাবে না। আমাদের বুঝতে হবে যে রাসূল সাঃ থেকে এরকম অনেক হাদীস এসেছে যেগুলো কোনো একটা বিষয় এর গুরুত্বটা বুঝানোর জন্য বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ " কাফের আর মোমিনের মধ্যে পার্থক্য হলো ফজরের হলো  নামায " এখন এই হাদীস দ্বারা কিন্তু কেও এটা বলে না যে কেও ফজর না আদায় করলে সে কাফের হয়ে যাবে। বরং উক্ত হাদীস দ্বারা ফজরের দ্বারা  নামায একজন মুসলিম এর জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমল তা বুঝানো হয়েছে। তাই তো রাসূল সাঃ অন্য হাদীসে বলেছে " কেও যদি জানতো ফজরের নামাযের... তাহলে সে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও ফজরের সালাত জামাআতের সহীত আদায় করত "। তো এরকম ভাবে অনেক হাদীসি হাদীস আছে যেগুলো গুরুত্ব বুঝানোর জন্য ব্যাপক কোনো ( বিশেষ) শব্দে ব্যবহার করা হয়। এটা মূলত এক ধরনের ভাষা অলংকার । আমরাও এরকম অনেক ভাবে এই অলংকার ব্যবহার করে থাকি। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুল এর পাঠ্য বই এতে বলা হয়েছে " পানির অপর নাম জীবন " এখন কেও কিন্তু এই বাক্য দ্বারা এটা বুঝে না যে শুধু সারাদিন পানি খেলেই বেঁচে থাকা যাবে। আসলে পানি এর গুরুত্ব বুঝানোর জন্য উক্ত বাক্য ব্যবহিত ব্যবহার করা হয়। যেরকম টা রাসূল সাঃ নিজে করেছেন কালোজিরা এর ক্ষেত্রে । তারমানে এই না যে শুধু কালোজিরা খেলেই আমি সকল রোগ- ব্যাধি থেকে রেহাই পাবো। 






পয়েন্ট -২. রাসূল সাঃ যখন এই হাদীস বর্ণনা করেন তখন কোনো সাহাবিই সাহাবী এরকমটা বুঝেন নায় নি যে " কালোজিরা সারাদিন খেলেই আমি সুস্থ থাকব মৃত্যু পযন্ত ইত্যাদি ইত্যাদি পযন্ত  " আর রাসূল সাঃ এরকমটা বুঝান নি। যদি তাই হতো তাহলে রাসূল সাঃ আলাদা করে বিভিন্ন রোগ- ব্যাধি এর উপর আমাদের দোয়া- দরুদ, রোকাইয়া শিখাতেন না। আমরা বিভিন্ন হাদীস থেকে বিভিন্ন রোগ - ব্যাধি থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য বিভিন্ন আমলের কথা পেয়ে থাকি। যেগুলো একেক রোগে আলাদা আলাদা করে ব্যবহার করা হয়। যদি রাসূল সাঃ সত্যিই " কালোজিরা মৃত্যু ব্যাতিত ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " বুঝাতেন তাহলে তিনি আমাদেরকে আলাদা করে অন্যান্য গাছ- গাছরা ও চিকিৎসা কাজে ব্যবহিত উপাদান এর কথা বলতেন না। উদাহরণস্বরূপ মধুর কথাটাই বলা যায়। হাদীসে ও কোরআনে এর ব্যাপক উপকারীতার কথা পাওয়া যায়। রাসূল সাঃ যদি সত্যিই " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত উপকারিতার কথা পাওয়া যায়। রাসূল সাঃ যদি সত্যিই " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " হতো তাহলে তিনি আলাদা করে মধুসহ আরও অন্যান্য... এর কথা বলতেন না। তো আমরা সহজ ভাবেই বুঝতে পাচ্ছি যে রাসূল সাঃ এর " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথা দ্বারা আসলে কি উদ্দেশ্য করা হচ্ছে । আর মজার ব্যাপার হলো এই হাদসের হাদীসের মানে রাসূল সাঃ এর যুগের কাফের - মুশরিকরাও এটা বুঝে নায় নি যে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ তাই মোমিনদের শুধু কালোজিরা খেতে হবে " ; যদি কাফের - মুশরিকরাও এরকম বুঝতো যে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " তাহলে তারা এই হাদীসের ফায়দা লুটতো আর রাসূল সাঃ ও সাহাবিদের বলত যে " আজ থেকে তোমরা শুধু কালোজিরা খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করবে কারণ তোমাদের রাসূল সাঃ বলেছে 






" কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " 






কিন্তু মজার ব্যাপার হলো হাদীস ও বিখ্যাত সীরাতগ্রন্থ তে কাফেরদের এরকম দাবি করার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তাই আমরা সহজেই বুঝতে পাচ্ছি যে রাসূল সাঃ কখনোই " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথা উদ্দেশ্য করে নি বরং তিনি " কালোজিরা এর গুরুত্বপূর্ণতা বুঝাতে চেয়েছেন "। 






পয়েন্ট -৩. আপাতত প্রথম দুইটা পয়েন্ট সাইটে রাখলাম। নাস্তিকরা যদি হাদীস দ্বারা " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এরকম টাও বুঝায় তাহলেও রাসূল সাঃ এর বাণী ভুল প্রমাণিত হবে না। কারণ রাসূল সাঃ শুধু উপকার এর কথা বলছে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ"। কিন্তু তিনি আমাদের পদ্ধতির কথা বলেন নি। কোন পদ্ধতিতে কালোজিরা খেলে সকল রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যাবে এরকম কোনো পদ্ধতি তিনি বলে যান নি। রাসূল সাঃ সকল বিষয় এর পদ্ধতির কথা বলে গেছেন। " উদাহরণস্বরূপ সাওম আমাদের জন্য ঢাল স্বরুপ " এখন এই সাওমটা কোন পদ্ধতিতে আদায় করলে আমাদের জন্য ঢাল স্বরুপ হবে সেটা কিন্তু তিনি বলে গেছেন। এরকম করে প্রত্যেকটা বিষয় এর..... । তো রাসূল সাঃ " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথাটা নাস্তিকদের মানে হিসাবে ধরে নিলেও হাদীসকে পুরোপুরি ভাবে অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করা যূয় যায় না। আগে তাঁরা দলীল পেশ করুক কোন পদ্ধতিতে কালোজিরা খেলে মৃত্যু ব্যাতিত ব্যতিত সকল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তখন না হয় আমরা উক্ত পদ্ধতিতে কালোজিরা খাবো ; তারপর যদি দেখা যায় রোগ হচ্ছে তখন ধরে নিতে হবে রাসূল এর হাদীস বৈজ্ঞানিক ভাবে ভুল। তাই আগে তারা দলীল পেশ করুক তারপর হাদীস ভুল প্রমাণ করুক। 






আশা করি কথা ক্লিয়ার।






তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন 






কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️






[ যদি শেয়ার না কর তাহলে এটা চিনো🔪🔪🔪 কারণ এই বিষয় এতে লেখার জন্য আমাকে আলাদাভাবে মাথাটা ২০০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এতে ঘামাতে হয়েছে






আল্লাহ হাফেজ আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 






প্রিন্স ফ্রেরাসে 


প্রিন্স ফ্রেরাসে
হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 






প্রিন্স ফ্রেরাসে, 




সম্পাদনা 29 নভেম্বর 2025 করেছেন প্রিন্স ফ্রেরাসে

সকালে উঠে সাতটা খেজুর খেলে কালোজিরা কি সত্যিই সেই দিন শরীলে বিষ কাজ করে না?সকল রোগের মহা ঔষধ

#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টি_কোণ 


#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টি_কোণ







সিরিজ পর্ব-১ 

আজওয়া খেজুর পর্ব-২ 






কালোজিরা নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি ও সংশয় নিরসন 
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 

কিছু হাদীস






আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 






প্রথমেই হাদীসটা দেখে নেন 

" ১. হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আজওয়া জান্নাতের ফল, এতে বিষক্রিয়ার নেই 






" তোমরা এই কালোজিরা ব্যবহার করবে। কেননা এতে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের প্রতিষেধক রয়েছে…।’ (তিরমিজি: ২০৬৬)

২. হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ জাদুটোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি: ৫৭৬৮)

৩. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘মদিনার উঁচু ভূমির আজওয়া খেজুরে আরোগ্য রয়েছে।’ অথবা তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে এই খেজুর আহার করা বিষনাশক (প্রতিষেধক)।’ (মুসলিম: ৫১৬৮)

৪. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘সকালে সবার আগে (খালি পেটে) (মদিনার) উঁচু ভূমির আজওয়া খেজুর খেলে তা (সর্বপ্রকার) জাদু অথবা বিষক্রিয়ার আরোগ্য হিসেবে কাজ করে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৫৯২) এখানে উঁচু ভূমি বলতে বোঝানো হয়েছে মদিনার পূর্ব দিকের কয়েক মাইল দূরের কয়েকটি গ্রাম।

৫. হজরত সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমি অসুস্থ হলে রাসুল (সা.) রয়েছে " ( তিরমিজি-২০৪০)  






এই হাদীসটা দেখিয়ে ফালতু একটা দাবি করে বসে থাকে মূর্খ নাস্তিকগুলো তো আমরা এখন থেকে সেসব হাদীসগুলো পর্যালোচনা করব  ইনশাআল্লাহ  এবং সঠিকটা খুুঁজে বাহির করব। 

তো চলুন শুরু করা যাক। 

শৈশবকাল থেকে একটা হাদীস অবশ্যই শুনে আসছেন। সেটা হলো " সকালে উঠে সাতটা খেজুর খেলে সেই দিন বিষ জাদুটনা কোনো ক্ষতি করতে পারে না "( বুখারী- ৫৭৬৮)  

হাদীসটাকে মুরব্বিরা এবং মসজিদের ইমামসহ কিছু আম পাবলিক এমন ভাবে উপস্থাপন করে যাতে মনে হয় সাতটা খেজুর খাওয়ার পর সাপের বিষ খেলে কোনো ক্ষতিই হবে না। নাস্তিকরা তো দাবি করা হচ্ছে যে  " এতই কাজ হবে না কারণ হাদীসে বলা হয়েছে ' প্রতিদিন খালি পেটে খেতে হবে ' তো আসল খেজুর যেহেতু ( হাদীসে বর্ণিত আজওয়া খেজুর) কোনটা জানি না তাই সবগুলো একসাথে খেলে হাদীসের একটা শর্ত ভঙ্গ হবে সেটা হলো ' প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়ার শর্ত ' কারণ সবগুলো জাতেরটা খাওয়ার সময় আসলটা না খেয়ে অন্য জাতেরটা খেলে হাদীসের শর্তপূরণ হচ্ছে না তাই " বিষ খেলে ক্ষতি হবে না ' এই দাবিটার সত্যতাও পূরণ হচ্ছে না যখন সকল রোগের ঔষধ কালোজিরা তাহলে মুসলিমরা কেন শুধু কালোজিরা খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করে না কেন??? "






 যাইহোক পয়েন্টে আসি










পয়েন্ট -১. উক্ত হাদীস দ্বারা রাসূল সাঃ কখনোই এটা বুঝাতে চান নি যে " পৃথিবীর সকল রোগের ঔষধ শুধু কালোজিরাতেই আছে বরং এই হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো " কালোজিরা এর উপকারিতা" আর বর্তমান বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা হাদীসগুলো পড়ার পর বুঝে। 

৫. শেষ পয়েন্টে একটাই কথা বলতে চাই, সেটা হলো " রাসূল সাঃ এর কথার মানে যদি আমরা নাস্তিকদের মতো করে ধরে মেডিকেল সাইন্স এতেও কোনো সন্দেহ নেই তাতেও কোনো সমস্যা নেই; কারণ হাদীসগুলোতে বলা হয়েছে প্রতিদিন সাতটা করে খেজুর খেতে হবে খালি পেটে। তারপর বিষ খেলে কোনো কাজ যে কালোজিরা যেসব কাজ করতে পারে তা অন্যান্য ঔষধি উপাদান কখনোই করতে পারে না। গুগলে সার্চ করলে এই বিষয়ে হাজার- খানেক আর্টিকেল পেয়ে যাবেন যেখানে কালোজিরার ব্যাপারে শত শত উপকার এর কথা বলা আছে ; যেটা খেলে বিষ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না! আগে আপনারা সেটা প্রমাণ করুন। এখন নাস্তিকরা হয় তো আবারও বলতে পারেন যে " প্রতিদিন সব জাতের খেজুর সাতটা করে খেলেই তো হয়। তো আমি উত্তরে বলতে চাই যে পৃথিবীর অন্য কোনো ঔষধি গাছ বা উপাদান এতে অতি সস্তাই পাওয়া যাবে না। আমাদের বুঝতে হবে যে রাসূল সাঃ থেকে এরকম অনেক হাদীস এসেছে যেগুলো কোনো একটা বিষয় এর গুরুত্বটা বুঝানোর জন্য বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ " কাফের আর মোমিনের মধ্যে পার্থক্য হলো ফজরের নামায " এখন এই হাদীস দ্বারা কিন্তু কেও এটা বলে না যে কেও ফজর না আদায় করলে সে কাফের হয়ে যাবে। বরং উক্ত হাদীস দ্বারা ফজরের নামায একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদিনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচিসহ চূর্ণ করে তা দিয়ে তোমার জন্য সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়।’ (আবু দাউদ: ৩৮৩৫)

৬. উরওয়া (রহ.) বর্ণনা করেন, আয়েশা (রা.) পরপর সাত দিন সাতটি আজওয়া খেজুর খেয়ে সকালের উপবাস ভাঙার অথবা এই অভ্যাস তৈরি মুসলিম এর জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমল তা বুঝানো হয়েছে। তাই তো রাসূল সাঃ অন্য হাদীসে বলেছে " কেও যদি জানতো ফজরের নামাযের... তাহলে সে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও ফজরের সালাত জামাআতের সহীত আদায় করত "। অতএব আপনারা আগে রাসূল সাঃ এর বর্ণিত প্রকৃত সেই আজওয়া খেজুর আগে আমুন তারপর আমরা না হয় পরীক্ষা দিয়ে উক্ত হাদীসের সভ্যতা প্রমাণ করব কেমন। 

তো এই পাঁচটা ছোট পয়েন্টে তো এরকম ভাবে অনেক হাদীসি আছে যেগুলো গুরুত্ব বুঝানোর জন্য ব্যাপক কোনো ( বিশেষ) শব্দে ব্যবহার করা হয়। এটা মূলত এক করে ফেলেছে। দুটো শব্দের ভাব মানে সম্পূর্ণ আলাদা। মৃত্যু এর আক্ষরিক অর্থ হলো " জীবনের সমাপ্তি " আর ক্ষতি শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো " ক্ষয়প্রাপ্ত ধরনের আজওয়া খেজুর পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো রাসূল সাঃ হাদীসে কোন জাতের আজওয়া খেজুর এর কথা বলছে???? ভাষা অলংকার আমরাও এরকম অনেক ভাবে এই অলংকার ব্যবহার করে থাকি। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুল এর পাঠ্য বই এতে বলা হয়েছে " পানির অপর নাম জীবন " এখন কেও কিন্তু এই বাক্য দ্বারা এটা বুঝে না যে শুধু সারাদিন পানি খেলেই বেঁচে থাকা যাবে। আসলে পানি এর গুরুত্ব বুঝানোর জন্য উক্ত বাক্য ব্যবহিত করা হয়। যেরকম টা রাসূল সাঃ নিজে করেছেন কালোজিরা এর ক্ষেত্রে তারমানে এই না যে শুধু কালোজিরা খেলেই আমি সকল রোগ- ব্যাধি থেকে রেহাই পাবো। 






পয়েন্ট -২. রাসূল সাঃ যখন এই হাদীস বর্ণনা করেন তখন কোনো সাহাবিই এরকমটা বুঝেন নায় যে " কালোজিরা সারাদিন খেলেই আমি সুস্থ থাকব মৃত্যু পযন্ত এরকমটা ভাবে নিই যে ' আজওয়া খেজুর খাওয়ার পর বিষ পান করলে মৃত্যু বা কোনো ক্ষতি হবে না। ইসলামের এর ১২ শত বছরেও এই হাদীসগুলোর উপর ভিত্তি করে কেও এরকম হাস্যকর দাবি করে নি আর কেও এরকম হাস্যকর মানেও বুঝে নি যা ইত্যাদি ইত্যাদি " আর রাসূল সাঃ এরকমটা বুঝান নি। যদি তাই হতো তাহলে রাসূল সাঃ আলাদা করে বিভিন্ন রোগ- ব্যাধি এর উপর আমাদের দোয়া- দরুদ, রোকাইয়া শিখাতেন না। আমরা বিভিন্ন হাদীস থেকে বিভিন্ন রোগ - ব্যাধি থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য বিভিন্ন আমলের কথা পেয়ে থাকি। যেগুলো একেক রোগে আলাদা আলাদা করে ব্যবহার করা হয়। যদি রাসূল সাঃ সত্যিই " কালোজিরা মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " বুঝাতেন তাহলে তিনি আমাদেরকে আলাদা করে অন্যান্য গাছ- গাছরা চিকিৎসা কাজে ব্যবহিত উপাদান এর কথা বলতেন না। উদাহরণস্বরূপ মধুর কথাটাই বলা যায়। হাদীসে কোরআনে এর ব্যাপক উপকারীতার কথা পাওয়া যায়। রাসূল সাঃ যদি সত্যিই " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " হতো তাহলে তিনি আলাদা করে মধুসহ আরও উল্টা বুঝে। কিছু লোক দাবি করে " কোনো মোমিন আজওয়া খেজুর খাওয়ার পর বিষ খেয়ে মৃত্যু বরণ না করলে বুঝব কোরআন হাদীস ইসলাম সত্য আর আমরা ইসলাম গ্রহণ করব ইত্যাদি ইত্যাদি।  

তো আমি প্রথমে একটা উসূল বলে দেয় পয়েন্টে যাওয়ার আগে। হাদীসের একটা অন্যতম মূলনীতি হলো " কোনো বিষয় এর উপর হাদীস পর্যালোচনা করতে হলে উক্ত বিষয় সম্পর্কে প্রায় সকল হাদীস পর্যালোচনা করে রায় প্রদান করতে হবে অন্যান্য... এর কথা বলতেন না। তো আমরা সহজ ভাবেই বুঝতে পাচ্ছি যে রাসূল সাঃ এর " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথা দ্বারা আসলে কি উদ্দেশ্য করা হচ্ছে আর মজার ব্যাপার হলো এই হাদসের মানে রাসূল সাঃ এর যুগের কাফের - মুশরিকরাও এটা বুঝে নায় যে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ তাই মোমিনদের শুধু কালোজিরা খেতে হবে " ; যদি কাফের - মুশরিকরাও এরকম বুঝতো যে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " তাহলে তারা এই হাদীসের ফায়দা লুটতো আর রাসূল সাঃ সাহাবিদের বলত যে " আজ থেকে তোমরা শুধু কালোজিরা খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করবে না। নাস্তিকরা হয় তো বলতে পারে যে এটা তো সোজা, বাজার থেকে আজওয়া খেজুর কিনে এনে খেলেই তো হয় তারপর একদিন জনসমুক্ষে বিষ খেয়ে প্রমাণ দিলেই তো হয়!। তো আমি তাদের বলতে চাই যে " বর্তমানে বাজারে ১০ থেকে প্রায় ১৫ কারণ তোমাদের রাসূল সাঃ বলেছে 






" কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ






কিন্তু মজার ব্যাপার হলো হাদীস বিখ্যাত সীরাতগ্রন্থ তে কাফেরদের এরকম দাবি করার জন্য নির্দেশ দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২৩৯৪৫)

৭. হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর প্রতিদিন আহার করে, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ নির্মূল হয়ে যায়।’ (কানজুল উম্মাল: ২৮৪৭২) "

তো আমরা আজওয়া খেজুর সম্পর্কে কয়েকটা হাদীস দেখলাম। এখন এখান থেকে কয়েকটা পয়েন্ট নোটিশ করব। সেগুলো হলোঃ 

১. হাদীসগুলোর কোনো জায়গাতে বলা হয় নি যে " সাতটা আজওয়া খেজুর খেয়ে বিষ খেলে তার কোনো মৃত্যু হবে না বরং হাদীসে বলা হয়েছে কোনো ক্ষতি হবে না। নাস্তিকরা ক্ষতি আর মৃত্যু শব্দ পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তাই আমরা সহজেই বুঝতে পাচ্ছি যে রাসূল সাঃ কখনোই " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথা উদ্দেশ্য করে নি বরং তিনি " কালোজিরা এর গুরুত্বপূর্ণতা বুঝাতে চেয়েছেন "। 
এখন আজওয়া খেজুর সম্পর্কে হাদীসগুলো






পয়েন্ট -৩. আপাতত প্রথম দুইটা পয়েন্ট সাইটে রাখলাম। নাস্তিকরা যদি হাদীস দ্বারা " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " এরকম টাও বুঝায় তাহলেও রাসূল সাঃ এর বাণী ভুল প্রমাণিত হবে না। কারণ রাসূল সাঃ শুধু উপকার এর কথা বলছে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ"। কিন্তু তিনি আমাদের পদ্ধতির কথা বলেন নি। কোন পদ্ধতিতে কালোজিরা খেলে সকল রোগ থেকে মুক্ত হওয়া অথবা কিছু হারানো বা কিছু বাদ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি । 

২. হাদীসগুলো ভালোভাবে নোটিশ করলে আমরা বুঝতে পারব যে এখানে বিষ শব্দটা " ব্যথা" শব্দের সমার্থক যাবে এরকম কোনো পদ্ধতি তিনি বলে যান নি। রাসূল সাঃ সকল বিষয় এর পদ্ধতির কথা বলে গেছেন। " উদাহরণস্বরূপ সাওম আমাদের জন্য ঢাল স্বরুপ " এখন এই সাওমটা কোন পদ্ধতিতে আদায় করলে আমাদের জন্য ঢাল স্বরুপ হবে সেটা কিন্তু তিনি বলে গেছেন। এরকম করে প্রত্যেকটা বিষয় এর..... তো রাসূল সাঃ " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথাটা নাস্তিকদের মানে হিসাবে ব্যবহিত হয়েছে ( যেমন আমরা বলে থাকি " আমার বুক বিষ করছে অথবা আমার বুকে ব্যথ্যা করছে। দুটো বাক্যের মানে কিন্তু একটাই যদিও আলাদা দুটো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু শব্দ দুটো সমার্থক হওয়ার কারণে একই অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে ।) 

৩. আজওয়া খেজুর সম্পর্কে সাদ এর বুকে ব্যথা " এর ঘটনা থেকে বুঝতে পাচ্ছি যে এখানে আজওয়া খেজুর দ্বারা ইন্টারনাল টক্সিন ( বিষ) এর কথা বলা হচ্ছে Not এক্সটার্নাল টক্সিন অতএব নাস্তিকরা যে দাবি করে " বিষ খেয়ে উক্ত হাদীসের সত্যতা প্রমাণ করতে " সেই দাবি পুরোই হাস্যকর কারণ হাদীসে ইন্টারনাল বিষ এর কথা বলা হয়েছে; যা দেহে উৎপন্ন হয়। আর ওইসব বিষ কোনো ক্ষতি করতে পারে না আজওয়া খেজুর খেলে নিয়মিত। 

 ৪. সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো " রাসূল সাঃ যখন উক্ত হাদীসগুলল মক্কা মদিনাতে বর্ণনা করছিল তখন কোনো সাহাবী এমনকি কাফের মুশরিকরাও ধরে নিলেও হাদীসকে পুরোপুরি ভাবে অবৈজ্ঞানিক ভুলের প্রমাণ করা যূয় না। আগে তাঁরা দলীল পেশ করুক কোন পদ্ধতিতে কালোজিরা খেলে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তখন না হয় আমরা উক্ত পদ্ধতিতে কালোজিরা খাবো ; তারপর যদি দেখা যায় রোগ হচ্ছে তখন ধরে নিতে হবে রাসূল এর হাদীস বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি কোণ সিরিজে হাদীস নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবির জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ ভাবে ভুল। তাই আগে তারা দলীল পেশ করুক তারপর হাদীস ভুল প্রমাণ করুক। 






আশা করি বিষয়টা ক্লিয়ার হয়েছে। 

কথা ক্লিয়ার।






তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন 






কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️ 

✍️✍️✍️






[ আল- হাদীসের যদি শেয়ার না কর তাহলে এটা চিনো🔪🔪🔪 কারণ এই বিষয় এতে লেখার জন্য আমাকে দেখতে আসেন। সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের ওপর রাখেন। আমি তাঁর শীতলতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। এরপর তিনি বলেন, ‘তুমি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। কাজেই তুমি সাকিফ গোত্রের অধিবাসী হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও। কেননা, সে আলাদাভাবে মাথাটা ২০০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এতে ঘামাতে হয়েছে






আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ

হাফেজ আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 






প্রিন্স ফ্রেরাসে 


প্রিন্স ফ্রেরাসে
সম্পাদনা 29 নভেম্বর 2025 করেছেন প্রিন্স ফ্রেরাসে

সকালে উঠে সাতটা খেজুর খেলে কি সত্যিই সেই দিন শরীলে বিষ কাজ করে না?

#আল_হাদীস_এর_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টি_কোণ 

#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টি_কোণ 

সিরিজ পর্ব-১ 

আজওয়া খেজুর নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি ও সংশয় নিরসন 

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 

কিছু হাদীস দেখিয়ে ফালতু একটা দাবি করে কিছু বসে থাকে মূর্খ নাস্তিক। তো আমরা এখন হাদীসগুলো পর্যালোচনা করব ইনশাআল্লাহ  

নাস্তিকগুলো তো আমরা এখন থেকে সেসব হাদীসগুলো পর্যালোচনা করব  ইনশাআল্লাহ  এবং সঠিকটা খুুঁজে বাহির করব। 

তো চলুন শুরু করা যাক। 

শৈশবকাল থেকে একটা হাদীস অবশ্যই শুনে আসছেন। সেটা হলো " সকালে উঠে সাতটা খেজুর খেলে সেই দিন বিষ ও জাদুটনা কোনে কোনো ক্ষতি করতে পারে না "( বুখারী- ৫৭৬৮)  

হাদীসটাকে মুরব্বিরা এবং মসজিদের ইমামসহ কিছু আম পাবলিক এমন ভাবে উপস্থাপন করে যাতে মনে হয় সাতটা খেজুর খাওয়ার পর সাপের বিষ খেলে কোনো ক্ষতিই হবে না। নাস্তিকরা তো আরও উল্টা বুঝে। কিছু লোক দাবি করে " কোনো মোমিন আজওয়া খেজুর খাওয়ার পর বিষ খেয়ে মৃত্যু বরণ না করলে বুঝব কোরআন হাদীস ও ইসলাম সত্য আর আমরা ইসলাম গ্রহণ করব ইত্যাদি ইত্যাদি।  

তো আমি প্রথমে একটা উসূল বলে দেয় পয়েন্টে যাওয়ার আগে। হাদীসের একটা অন্যতম মূলনীতি হলো " কোনো বিষয় এর উপর হাদীস পর্যালোচনা করতে হলে উক্ত বিষয় সম্পর্কে প্রায় সকল হাদীস পর্যালোচনা করে রায় প্রদান করতে হবে "। 

এখন আজওয়া খেজুর সম্পর্কে হাদীসগুলো দেখে নেন 

" ১. হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আজওয়া জান্নাতের ফল, এতে বিষক্রিয়ার প্রতিষেধক রয়েছে…।’ (তিরমিজি: ২০৬৬)

২. হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদুটোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি: ৫৭৬৮)

৩. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘মদিনার উঁচু ভূমির আজওয়া খেজুরে আরোগ্য রয়েছে।’ অথবা তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে এই খেজুর আহার করা বিষনাশক (প্রতিষেধক)।’ (মুসলিম: ৫১৬৮)

৪. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘সকালে সবার আগে (খালি পেটে) (মদিনার) উঁচু ভূমির আজওয়া খেজুর খেলে তা (সর্বপ্রকার) জাদু অথবা বিষক্রিয়ার আরোগ্য হিসেবে কাজ করে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৫৯২) এখানে উঁচু ভূমি বলতে বোঝানো হয়েছে মদিনার পূর্ব দিকের কয়েক মাইল দূরের কয়েকটি গ্রাম।

৫. হজরত সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমি অসুস্থ হলে রাসুল (সা.) আমাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের ওপর রাখেন। আমি তাঁর শীতলতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। এরপর তিনি বলেন, ‘তুমি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। কাজেই তুমি সাকিফ গোত্রের অধিবাসী হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদিনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচিসহ চূর্ণ করে তা দিয়ে তোমার জন্য সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়।’ (আবু দাউদ: ৩৮৩৫)

৬. উরওয়া (রহ.) বর্ণনা করেন, আয়েশা (রা.) পরপর সাত দিন সাতটি আজওয়া খেজুর খেয়ে সকালের উপবাস ভাঙার অথবা এই অভ্যাস তৈরি করার জন্য নির্দেশ দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২৩৯৪৫)

৭. হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর প্রতিদিন আহার করে, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ নির্মূল হয়ে যায়।’ (কানজুল উম্মাল: ২৮৪৭২) "

তো আমরা আজওয়া খেজুর সম্পর্কে কয়েকটা হাদীস দেখলাম। এখন এখান থেকে কয়েকটা পয়েন্ট নোটিশ করব। সেগুলো হলোঃ 

১. হাদীসগুলোর কোনো জায়গাতে বলা হয় নি যে " সাতটা আজওয়া খেজুর খেয়ে বিষ খেলে তার কোনো মৃত্যু হবে না বরং হাীসে হাদীসে বলা হয়েছে কোনো ক্ষতি হবে না। নাস্তিকরা ক্ষতি আর মৃত্যু শব্দ এক করে ফেলেছে। দুটো শব্দের ভাব ও মানে সম্পূর্ণ আলাদা। মৃত্যু এর আক্ষরিক অর্থ হলো " জীবনের সমাপ্তি " আর ক্ষতি শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো " ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া অথবা কিছু হাড়ানো হারানো বা কিছু বাদ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি । 

২. হাদীসগুলো ভালোভাবে নোটিশ করলে আমরা বুঝব বুঝতে পারব যে এখানে বিষ শব্দটা " ব্যাথা" ব্যথা" শব্দের সমার্থক হিসাবে ব্যবহিত হয়েছে ( যেমন আমরা বলে থাকি " আমার বুক বিষ করছে অথবা আমার বুকে ব্যাথ্যা ব্যথ্যা করছে। দুটো বাক্যের মানে কিন্তু একটাই যদিও আলাদা দুটো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু শব্দ দুটো সমার্থক হওয়ার কারণে একই অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে ।) 

৩. আজওয়া খেজুর সম্পর্কে সাদ এর বুকে ব্যাথা ব্যথা " এর ঘটনা থেকে বুঝতে পাচ্ছি যে এই খানে এখানে আজওয়া খেজুর দ্বারা ইন্টারনাল টক্সিন ( বিষ) এর কথা বলা হচ্ছে Not এক্সটার্নাল টক্সিন । অতএব নাস্তিকরা যে দাবি করে " বিষ খেয়ে উক্ত হাদীসের সভ্যতা সত্যতা প্রমাণ করতে " সেই দাবি পুরোই হাস্যকর । কারণ হাদীসে ইন্টারনাল বিষ এর কথা বলা হয়েছে; যা দেহে উৎপন্ন হয়। আর ওইসব বিষ কোনো ক্ষতি করতে পারে না আজওয়া খেজুর খেলে নিয়মিত। 

 ৪. সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো " রাসূল সাঃ যখন উক্ত হাদীসগুলল মক্কা মদিনাতে বর্ণনা করছিল তখন কোনো সাহাবী এমনকি কাফের মুশরিকরাও পযন্ত এরকমটা ভাবে নেই নিই যে ' আজওয়া খেজুর খাওয়ার পর বিষ পান করলে মৃত্যু বা কোনো ক্ষতি হবে না। ইসলামি ইসলামের এর ১২ শত বছরেও এই হাদীসগুলোর উপর ভিত্তি করে কেও এরকম হাস্যকর দাবি করে নি আর কেও এরকম হাস্যকর মানেও বুঝে নি যা বর্তমান বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা হাদীসগুলো পড়ার পর বুঝে। 

৫. শেষ পয়েন্টে একটাই কথা বলতে চাই, সেটা হলো " রাসূল সাঃ এর কথার মানে যদি আমরা নাস্তিকদের মতো করে ধরে নেই তাতেও কোনো সমস্যা নেই; কারণ হাীসগুলোতে হাদীসগুলোতে বলা হয়েছে প্রতিদিন সাতটা করে খেজুর খেতে হবে খালি পেটে। তারপর বিষ খেলে কোনো কাজ করবে না। নাস্তিকরা হয় তো বলতে পারে যে এটা তো সোজা, বাজার থেকে আজওয়া খেজুর কিনে এনে খেলেই তো হয় তারপর একদিন জনসমুক্ষে বিষ খেয়ে প্রমাণ দিলেই তো হয়!। তো আমি তাদের বলতে চাই যে " বর্তমানে বাজারে ১০ থেকে প্রায় ১৫ ধরনের আজওয়া খেজুর পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো রাসূল সাঃ হাদীসে কোন জাতের আজওয়া খেজুর এর কথা বলছে???? যেটা খেলে বিষ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না! আগে আপনারা সেটা প্রমাণ করুন। এখন নাস্তিকরা হয় তো আবারও বলতে পারেন যে " প্রতিদিন সব জাতের খেজুর সাতটা করে খেলেই তো হয়। তো আমি উত্তরে বলতে চাই যে এতই কাজ হবে না কারণ হাদীসে বলা হয়েছে ' প্রতিদিন খালি পেটে খেতে হবে ' তো আসল খেজুর যেহেতু ( হাদীসে বর্ণিত আজওয়া খেজুর) কোনটা জানি না তাই সবগুলো একসাথে খেলে হাীসের হাদীসের একটা শর্ত ভঙ্গ হবে সেটা হলো ' প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়ার শর্ত ' কারণ সবগুলো জাতেরটা খাওয়ার সময় আসলটা না খেয়ে অন্য জাতেরটা খেলে হাদীসের শর্তপূরণ হচ্ছে না তাই " বিষ খেলে ক্ষতি হবে না ' এই দাবিটার সত্যতাও পূরণ হচ্ছে না "। অতএব আপনারা আগে রাসূল সাঃ এর বর্ণিত প্রকৃত সেই আজওয়া খেজুর আগে আমুন তারপর আমরা না হয় পরীক্ষা দিয়ে উক্ত হাদীসের সভ্যতা প্রমাণ করব কেমন। 

তো এই পাঁচটা ছোট পয়েন্টে আশা করি বিষয়টা ক্লিয়ার হয়েছে। 

[ আল- হাদীসের অবৈজ্ঞানিক ভুলের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি কোণ সিরিজে হাদীস নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবির জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ ] 

তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন 

কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️ 

আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ

প্রিন্স ফ্রেরাসে 

প্রিন্স ফ্রেরাসে
লিখেছেন 29 নভেম্বর 2025 , লেখক: প্রিন্স ফ্রেরাসে

সকালে উঠে সাতটা খেজুর খেলে কি সত্যিই সেই দিন শরীলে বিষ কাজ করে না?

#আল_হাদীস_এর_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টি_কোণ 

সিরিজ পর্ব-১ 

আজওয়া খেজুর নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি ও সংশয় নিরসন 

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ 

কিছু হাদীস দেখিয়ে ফালতু একটা দাবি করে কিছু মূর্খ নাস্তিক। তো আমরা এখন হাদীসগুলো পর্যালোচনা করব ইনশাআল্লাহ  

তো চলুন শুরু করা যাক। 

শৈশবকাল থেকে একটা হাদীস অবশ্যই শুনে আসছেন। সেটা হলো " সকালে উঠে সাতটা খেজুর খেলে সেই দিন বিষ ও জাদুটনা কোনে ক্ষতি করতে পারে না "( বুখারী- ৫৭৬৮)  

হাদীসটাকে মুরব্বিরা এবং মসজিদের ইমামসহ কিছু আম পাবলিক এমন ভাবে উপস্থাপন করে যাতে মনে হয় সাতটা খেজুর খাওয়ার পর সাপের বিষ খেলে কোনো ক্ষতিই হবে না। নাস্তিকরা তো আরও উল্টা বুঝে। কিছু লোক দাবি করে " কোনো মোমিন আজওয়া খেজুর খাওয়ার পর বিষ খেয়ে মৃত্যু বরণ না করলে বুঝব কোরআন হাদীস ও ইসলাম সত্য আর আমরা ইসলাম গ্রহণ করব ইত্যাদি ইত্যাদি।  

তো আমি প্রথমে একটা উসূল বলে দেয় পয়েন্টে যাওয়ার আগে। হাদীসের একটা অন্যতম মূলনীতি হলো " কোনো বিষয় এর উপর হাদীস পর্যালোচনা করতে হলে উক্ত বিষয় সম্পর্কে প্রায় সকল হাদীস পর্যালোচনা করে রায় প্রদান করতে হবে "। 

এখন আজওয়া খেজুর সম্পর্কে হাদীসগুলো দেখে নেন 

" ১. হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আজওয়া জান্নাতের ফল, এতে বিষক্রিয়ার প্রতিষেধক রয়েছে…।’ (তিরমিজি: ২০৬৬)

২. হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদুটোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি: ৫৭৬৮)

৩. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘মদিনার উঁচু ভূমির আজওয়া খেজুরে আরোগ্য রয়েছে।’ অথবা তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে এই খেজুর আহার করা বিষনাশক (প্রতিষেধক)।’ (মুসলিম: ৫১৬৮)

৪. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘সকালে সবার আগে (খালি পেটে) (মদিনার) উঁচু ভূমির আজওয়া খেজুর খেলে তা (সর্বপ্রকার) জাদু অথবা বিষক্রিয়ার আরোগ্য হিসেবে কাজ করে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৫৯২) এখানে উঁচু ভূমি বলতে বোঝানো হয়েছে মদিনার পূর্ব দিকের কয়েক মাইল দূরের কয়েকটি গ্রাম।

৫. হজরত সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমি অসুস্থ হলে রাসুল (সা.) আমাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের ওপর রাখেন। আমি তাঁর শীতলতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। এরপর তিনি বলেন, ‘তুমি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। কাজেই তুমি সাকিফ গোত্রের অধিবাসী হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদিনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচিসহ চূর্ণ করে তা দিয়ে তোমার জন্য সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়।’ (আবু দাউদ: ৩৮৩৫)

৬. উরওয়া (রহ.) বর্ণনা করেন, আয়েশা (রা.) পরপর সাত দিন সাতটি আজওয়া খেজুর খেয়ে সকালের উপবাস ভাঙার অথবা এই অভ্যাস তৈরি করার জন্য নির্দেশ দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২৩৯৪৫)

৭. হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর প্রতিদিন আহার করে, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ নির্মূল হয়ে যায়।’ (কানজুল উম্মাল: ২৮৪৭২) "

তো আমরা আজওয়া খেজুর সম্পর্কে কয়েকটা হাদীস দেখলাম। এখন এখান থেকে কয়েকটা পয়েন্ট নোটিশ করব। সেগুলো হলোঃ 

১. হাদীসগুলোর কোনো জায়গাতে বলা হয় নি যে " সাতটা আজওয়া খেজুর খেয়ে বিষ খেলে তার কোনো মৃত্যু হবে না বরং হাীসে বলা হয়েছে কোনো ক্ষতি হবে না। নাস্তিকরা ক্ষতি আর মৃত্যু শব্দ এক করে ফেলেছে। দুটো শব্দের ভাব ও মানে সম্পূর্ণ আলাদা। মৃত্যু এর আক্ষরিক অর্থ হলো " জীবনের সমাপ্তি " আর ক্ষতি শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো " ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া অথবা কিছু হাড়ানো বা কিছু বাদ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি । 

২. হাদীসগুলো ভালোভাবে নোটিশ করলে আমরা বুঝব পারব যে এখানে বিষ শব্দটা " ব্যাথা" শব্দের সমার্থক হিসাবে ব্যবহিত হয়েছে ( যেমন আমরা বলে থাকি " আমার বুক বিষ করছে অথবা আমার বুকে ব্যাথ্যা করছে। দুটো বাক্যের মানে কিন্তু একটাই যদিও আলাদা দুটো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু শব্দ দুটো সমার্থক হওয়ার কারণে একই অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে ।) 

৩. আজওয়া খেজুর সম্পর্কে সাদ এর বুকে ব্যাথা " এর ঘটনা থেকে বুঝতে পাচ্ছি যে এই খানে আজওয়া খেজুর দ্বারা ইন্টারনাল টক্সিন ( বিষ) এর কথা বলা হচ্ছে Not এক্সটার্নাল টক্সিন । অতএব নাস্তিকরা যে দাবি করে " বিষ খেয়ে উক্ত হাদীসের সভ্যতা প্রমাণ করতে " সেই দাবি পুরোই হাস্যকর । কারণ হাদীসে ইন্টারনাল বিষ এর কথা বলা হয়েছে; যা দেহে উৎপন্ন হয়। আর ওইসব বিষ কোনো ক্ষতি করতে পারে না আজওয়া খেজুর খেলে নিয়মিত। 

 ৪. সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো " রাসূল সাঃ যখন উক্ত হাদীসগুলল মক্কা মদিনাতে বর্ণনা করছিল তখন কোনো সাহাবী এমনকি কাফের মুশরিকরাও পযন্ত এরকমটা ভাবে নেই যে ' আজওয়া খেজুর খাওয়ার পর বিষ পান করলে মৃত্যু বা কোনো ক্ষতি হবে না। ইসলামি এর ১২ বছরেও এই হাদীসগুলোর উপর ভিত্তি করে কেও এরকম হাস্যকর দাবি করে নি আর কেও এরকম হাস্যকর মানেও বুঝে নি যা বর্তমান বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা হাদীসগুলো পড়ার পর বুঝে। 

৫. শেষ পয়েন্টে একটাই কথা বলতে চাই, সেটা হলো " রাসূল সাঃ এর কথার মানে যদি আমরা নাস্তিকদের মতো করে ধরে নেই তাতেও কোনো সমস্যা নেই; কারণ হাীসগুলোতে বলা হয়েছে প্রতিদিন সাতটা করে খেজুর খেতে হবে খালি পেটে। তারপর বিষ খেলে কোনো কাজ করবে না। নাস্তিকরা হয় তো বলতে পারে যে এটা তো সোজা, বাজার থেকে আজওয়া খেজুর কিনে এনে খেলেই তো হয় তারপর একদিন জনসমুক্ষে বিষ খেয়ে প্রমাণ দিলেই তো হয়!। তো আমি তাদের বলতে চাই যে " বর্তমানে বাজারে ১০ থেকে প্রায় ১৫ ধরনের আজওয়া খেজুর পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো রাসূল সাঃ হাদীসে কোন জাতের আজওয়া খেজুর এর কথা বলছে???? যেটা খেলে বিষ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না! আগে আপনারা সেটা প্রমাণ করুন। এখন নাস্তিকরা হয় তো আবারও বলতে পারেন যে " প্রতিদিন সব জাতের খেজুর সাতটা করে খেলেই তো হয়। তো আমি উত্তরে বলতে চাই যে এতই কাজ হবে না কারণ হাদীসে বলা হয়েছে ' প্রতিদিন খালি পেটে খেতে হবে ' তো আসল খেজুর যেহেতু ( হাদীসে বর্ণিত আজওয়া খেজুর) কোনটা জানি না তাই সবগুলো একসাথে খেলে হাীসের একটা শর্ত ভঙ্গ হবে সেটা হলো ' প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়ার শর্ত ' কারণ সবগুলো জাতেরটা খাওয়ার সময় আসলটা না খেয়ে অন্য জাতেরটা খেলে হাদীসের শর্তপূরণ হচ্ছে না তাই " বিষ খেলে ক্ষতি হবে না ' এই দাবিটার সত্যতাও পূরণ হচ্ছে না "। অতএব আপনারা আগে রাসূল সাঃ এর বর্ণিত প্রকৃত সেই আজওয়া খেজুর আগে আমুন তারপর আমরা না হয় পরীক্ষা দিয়ে উক্ত হাদীসের সভ্যতা প্রমাণ করব কেমন। 

তো এই পাঁচটা ছোট পয়েন্টে আশা করি বিষয়টা ক্লিয়ার হয়েছে। 

[ আল- হাদীসের অবৈজ্ঞানিক ভুলের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি কোণ সিরিজে হাদীস নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবির জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ ] 

তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন 

কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️ 

আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ

প্রিন্স ফ্রেরাসে 

প্রিন্স ফ্রেরাসে
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
সেরা ১০ জন পরীক্ষক

    এ মাসের আইডিয়া গুরু:
    1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

      261 পয়েন্ট

      0 টি প্রতিক্রিয়া

      0 মন্তব্য

      13 টি আইডিয়া ব্লগ

    2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

      61 পয়েন্ট

      0 টি প্রতিক্রিয়া

      0 মন্তব্য

      3 টি আইডিয়া ব্লগ

    3. আল-মামুন রেজা

      20 পয়েন্ট

      0 টি প্রতিক্রিয়া

      0 মন্তব্য

      1 আইডিয়া ব্লগ

    4. Mayabi Ilmaz Megh

      1 পয়েন্ট

      0 টি প্রতিক্রিয়া

      0 মন্তব্য

      0 টি আইডিয়া ব্লগ

    ...