সবুজ বন, দিঘি-ঝিলে ঘেরা, নদীর কলকল ধ্বনি,
সকালবেলা সূর্য উঠল, জেগে উঠল ধরণী।
জলাশয়ে ঝিলিক দিয়ে নাচে হাজার মাছ,
তাদের মাঝে সবার প্রিয়—ভুরুঙ্গা মাছের আভাস।
যুবকেরা ভোরের বেলা বাঁশি বাজায় হেসে,
ডেকে বলে—“চলো সবাই নদীর তীরে এসে।
আজকে ধরব ভুরুঙ্গা মাছ, ভরে তুলব ঝুড়ি,
মাছের ঘ্রাণে মাতুক গ্রাম, খুশি হোক ঘুরি।”
তরুণীরা ঘাটে দাঁড়িয়ে হেসে বলে গান,
“ভাইয়েরা যাবে মাছ ধরতে, আনবে সুখের টান।”
শিশুরা ছুটে বেড়ায় খেলে, জল ছিটিয়ে হাসে,
ভুরুঙ্গা মাছের নাচন দেখে নদী মেতে ভাসে।
দিন কেটে যায়, ঋতু ঘুরে আসে, ফসল হয় পাকা,
ভুরুঙ্গা মাছের আহ্বান যেন লোককথায় ঢাকা।
বারে বারে ডাক ওঠে গ্রামে—“ভুরুঙ্গা মারি রে!”,
শতবারে, সহস্রবারে নামটা মিশে পড়ে।
প্রথমে নাম হয় ভুরুঙ্গা-মারি, গ্রামবাসীর মুখে,
সে নামেই লিখল কাহিনি গ্রামের সুখ-দুঃখে।
কালের টানে, কথার সুরে পাল্টে নিলো ধ্বনি,
“ভুরুঙ্গামারী” হলো শেষে, চিরচেনা সে ধ্বনি।
আজও যখন কেউ বলে, “আমি ভুরুঙ্গামারীর সন্তান,”
শোনা যায় ইতিহাস ভরা, শিকড়ের সে গান।
ভুরুঙ্গা মাছ নেই হয়তো, আছে শুধু স্মৃতি,
নামের মাঝে জীবন্ত থাকে গ্রামীণ কবিতা অমৃতি।
কলমে:মায়াবী ইলমাজ মেঘ
তারিখ : ১১/০৯/২০২৫
প্রকাশিত তারিখ: ১১/০১/২০২৬