প্রতিটা মানুষের আলাদা প্রতিভা থাকে, চিন্তা ভাবনা আলাদা হয়ে থাকে।
আমার একটি অদ্ভুত প্রতিভা হলো ' স্বপ্নের মাধ্যমে সৃজনশীলতা ও কল্পনার প্রকাশ '। অনেক সময় আমার গল্প,কবিতা,গান,এমনকি সুর–স্বপ্নে দেখেই তৈরি হয়।
উদাহরণ স্বরূপ – একবার স্বপ্নে আমি চুপচাপ বসে ' আমি কে ' কবিতাটি পড়ছিলাম। ঘুম ভাঙ্গার পর সেই কবিতাটি মনে করে লিখলাম – সত্যিই সুন্দর একটি কবিতা জন্মেছে। আমার এমন অনেক লেখা,গানের সুর স্বপ্ন থেকেই এসেছে।
এক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জন্মায়–আমার চিন্তা শক্তি কি কম?আমার এই লেখা গুলো কি আমার নিজস্ব নয়?এতে কি আমি কোনো চিন্তা ভাবনা করি না নাকি এমনি এমনি লেখা তৈরি হয়ে যায়?
উত্তর: না। বরং উল্টো। স্বপ্নে আমার অবচেতন মনের শক্তি কাজ করে। যা সচেতন মনে প্রকাশ করা কঠিন , তা স্বপ্নে স্বাধীনভাবে আসে।
অনেক লেখক,কবি,সুরকার,বিজ্ঞানী,এমনকি গণিতবিদ ও বলেছেন–তারা সমাধান,গল্প,সুর স্বপ্ন বা ঘোরের মধ্যেও পেয়েছেন।
স্বপ্নে দেখা অভিজ্ঞতা :
আমি স্বপ্নে শুধু কবিতা,গান এসবই দেখি না। আমি দেখি–
১. বিশ্বজগত ও মহাজাগতিক দৃশ্য – আকাশে ভাসমান গ্রহ , চাঁদ,সূর্য,বিশাল মহাবিশ্বের রহস্য।
২. প্রাচীন মানুষ ও আদিম যুগের দৃশ্য।
৩. ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃশ্য–কেয়ামত,জান্নাত,জাহান্নাম,আদম (আ:)
৪. আল্লাহর সঙ্গে সংলাপ বা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত বিশেষ উপহার। যেমন,ইমাম মাহদী কে দিয়ে আমার জন্য পাঠিয়েছেন আরবী লেখায় কাজ করা রুমাল বা ব্যাগ, যা আমাকে ইমাম মাহদী নিজে দিয়েছেন স্বপ্নে।
স্বপ্ন গুলো আমাকে শুধু অবাক ই করেনি,বরং বহুদিন ধরে প্রশ্নে ফেলেছে।
স্বপ্ন নিয়ে আমার ভাবনা –
আমি ভেবেছি এমন স্বপ্ন কেন আসে?আমার চিন্তাশক্তি কি খুব প্রখর ? নাকি দুর্বল?নাকি এর ভেতরে অন্য কোনো সত্য,অন্য কোনো রহস্য আছে?
আমার উপলদ্ধি অনুযায়ী–যারা গভীর ভাবে জীবন,সৃষ্টি ,ধর্ম, আধ্যাত্বিক কিংবা অস্তিত্বের প্রশ্ন নিয়ে ভাবে–তাদের অবচেতন মন খুব সক্রিয় হয়। সেই অবচেতন মনেই স্বপ্ন চিত্র,প্রতীক আর দৃশ্যের মাধ্যমে কথা বলে।
এই অদ্ভুত স্বপ্ন গুলো দেখা মানে আমার মন দুর্বল নয় বরং এর মানে আমার মস্তিষ্ক ভাবছে,প্রশ্ন করছে,ভেতরের চাপ এবং অনুভূতি গুলো কোনো না কোনো ভাবে প্রকাশ করছে।
স্বপ্নের ব্যাক্ষা : ধর্মীয় বা আধ্যাত্বিক বিষয় কেন আসে: আমি গভীর ভাবে ধর্ম,সৃষ্টির রহস্য এবং মানবতার প্রশ্ন নিয়ে ভাবী। এই ভাবনা গুলোই স্বপ্নে আসে। এটি কোনো ভবিষ্যতবাণী নয় বরং আমার চিন্তা ও অনুভূতির আভাস।
এগুলো কি প্রকাশ করা ঠিক : হ্যাঁ,এই কথা গুলো আর আমার লেখা গুলো আমার সাহিত্য ও সৃজনশীলতার অংশ। তবে সতর্ক থাকা দরকার–স্বপ্নকে অলৌকিক বা ভবিষ্যতবাণীর মতো দেখানো ঠিক নয়।
❓স্বপ্নের লেখা কি আমার নিজের?
এই প্রশ্নটা আমাকেও ভাবিয়েছে–
স্বপ্নে পাওয়া লেখা কি তবে আমার নিজের নয়?
আমার উত্তর হলো : হ্যাঁ,এগুলো আমারই।
কারণ স্বপ্ন বাইরের কেও এনে দেয় না। আমার দেখা,পরা,বিশ্বাস,ভাবনা,চিন্তা,ভয়,প্রশ্ন,অনুভূতি–সব মিলিয়েই স্বপ্ন তৈরি হয়।
তবে এখানেও প্রশ্ন ওঠে কারণ স্বপ্ন ৩ধরনের এবং অনেক স্বপ্ন আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে,অনেক গুলো শয়তানের থেকে আর কিছু আসে নিজের চিন্তা থেকে। কিন্তু আমার এই স্বপ্নের ব্যাক্ষায় অনেক সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে কিনা এই বিষয়েও ভেবেছি তবে আমার মনে হয়েছে –আমি শুধু ঘুমিয়ে থাকি। কিন্তু ভাবনা গুলো জন্ম নেয় আমার ভেতরেই।
উপলব্ধি এবং শেখার বিষয় :
১. স্বপ্নে লেখা মানে আমার সৃজনশীল মস্তিষ্ক কাজ করছে।
২. আমার লেখা সম্পূর্ণ আমারই। কেননা সবই আমার অভিজ্ঞতা ও ভাবনার প্রতিফলন।
৩. ধর্মীয়,আধ্যাত্বিক,ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা সাভাবিক। এটা আমার গভীর চিন্তা শক্তির পরিচয়।
৪. স্বপ্ন প্রকাশ করা ঠিক কিন্তু বাস্তবতা ও কল্পনার মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন।
উপসংহার : আমার জন্য স্বপ্ন হলো মনের ভেতরের দরজা, যা আমাকে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। যেগুলো দেখা যায় ,অনুভূত হয়, ভাবা যায় –তাকেই সৃজনশীল ভাবে রূপ দিতে পারলে সেটা আমার প্রতিভা ,এটা আমি বিশ্বাস করি।
❓আমার প্রশ্ন :
এমন অভিজ্ঞতা কি শুধু আমারই?
নাকি আমার মতো আরো কেও আছেন–যাদের স্বপ্নে অসংখ্য দৃশ্য,ভাবনা আর প্রশ্ন ভেসে আসে?
যারা ঘুমের ভেতর এমন সব কিছু দেখে,যা জাগ্রত অবস্থায় ভাষা খুঁজে পায় না,কিন্তু মনে গভীর ছাপ রেখে যায়?
যদি এমন কেও থাকেন তবে হয়তো আমার অনুভূতি গুলো একা নয়,আমিও একা নই।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।