#গঙ্গার_সৎ_অসৎ
পর্ব -১১
[ লেখকের অনুমতি নিয়ে ই- নলেজ আইডিয়াতে গল্পটাকে কোনো রকম সংযোজন - বিয়োজন ছাড়া আপলোড করা হয়েছে । আসল লেখার লিংক নিচে ]
আগত নারীর নাম পান্না। বিশাল ঝামেলা হলো ইকু বেপারীর বাড়ির উপরে। সালিশ বিচার বসলো, পুলিশ আসলো, পান্নার পরিবারের লোকজন আসলো, গ্রামের চেয়ারম্যান, মেম্বর এলো। এতো ঝামেলার কারনে ছেলে পক্ষ আর তহমিনার ননদকে দেখতে আসে নি, মাঝ পথ থেকে তারা ফিরে গেছে। গ্রাম অঞ্চলে কোনো ঝামেলা হলে সেই খবর বাতাসের আগে ছড়ায়। পান্না সুন্দরী, বেশ ভালোই লম্বা এবং অল্প বয়সী একজন নারী। সে বিয়ের দাবীতে ইকুর বাড়ীতে এসে উঠেছে। পুলিশ আর গ্রামের মোড়লদের সামনে ইকুর একটাই কথা "এই বাইচ্চা যে আমার,গ্যারান্টি কি, এই মাইয়া বারো ঘাটের পানি খাওয়া বারো ভা***তারি"। পান্না সকলের সামনে মোবাইলে ধারন করা তাদের বিশেষ মূহুর্তের ভিডিও দেখালো। ইকু পুলিশের দিকে তাকিয়ে উচু কন্ঠে বললো " আমি স্বীকার যাই, তার সাথে আমার সম্পর্ক হয়েছে, কিন্তু কোনো বাইচ্চার বা বিবাহের কথা আমি দেই নাই, সে যতোবার আমার সাথে জেলা সদরের হোটেলে দেহা করসে, ততোবার আমি তারে টাহা দিসি, আমার বিশ্বাস টাহা দিলে সে সব বেডাগো লগেই সম্পর্ক করবো"।
তহমিনা সব শুনে ঘরের ভেতরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে।
পান্না চিৎকার করে বললো "ঠিকাছে আমি যদি অন্য বেডাগো লগে শুইয়াও থাকি, তবুও এই বাইচ্চা ইকু বেফারীর, আমি নাটক সিনেমায় হুনসি এক পদের পরীক্ষা নিরীক্ষা আছে, ঐটা করেন আফনেরা, প্রমান হইয়া যাইবো বাইচ্চা কার"।
পুলিশ অফিসার সব শুনে সিদ্ধান্ত দিলো বাচ্চা জন্মের পরে পুলিশ নিজের তত্বাবধানে এই বাচ্চার DNA টেস্ট করবে। পুলিশ জিগেস করলো পান্নাকে "তুমি কি ইকু বেফারীর নামে কোনো মামলা দিতে চাও"? পান্না ইকুর দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা সুরে বললো "না, মামলা করুম কেন পেডের বাইচ্চার বাপের নামে, আমি জানি সে অবশ্যই আমাকে বিবাহ করবে"। সালিশ বিচার শেষে সবাই চলে গেলো, পান্নাও তার পরিবারের সাথে চলে গেলো।
হঠাৎ তুফানের তান্ডব শেষ হলে আবহাওয়া যেমন সুনসান নিরব হয়ে যায়, ইকুর বাড়ীর অবস্থাও তাই। ইকুর ছোটো বোনটির বিয়ের কথাবার্তা শুরু হলে সবসময় ই এমন কোনো না কোনো ঝামেলা হয়। এই ঝামেলা ঐ ঝামেলা হতে হতে মেয়েটি এখন গ্রামের চোখে আইবুড়ি।
করিম তহমিনার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে, ইকু বেপারী ঘরে ঢুকলো, কিন্তু তহমিনা ফিরেও তাকালো না তার দিকে। ইকু মায়ের কোলে মাথা দিয়ে রাখা ঘুমন্ত করিম কে একটা ঝাকি দিয়ে বললো "এই ওঠ্, ঘরের বাহিরে যা"। তহমিনা অবাক হয়ে গেলো। এই প্রথম সে ইকুর চোখে করিমের জন্য জিঘাংসা ঘৃনা দেখতে পেলো, সে তো জানে না, তার ছোট্র করিম বহু আগে থেকেই ইকুর জিঘাংসার স্বীকার।
তহমিনা খাটের এক কোনায় বসে শব্দহীন কাদছে, তার অশ্রু ঝরছে, কিন্তু শরীর কাপছে না, ঠোট নড়ছে না। ইকু তার পাশে এসে বসেছে, হাত ধরে বললো "ভুল হইসে মিনা"। তহমিনা হাত টা সড়িয়ে দিলো, কিছুই বললো না, উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
কিছুক্ষন পরে তহমিনা ছেলে করিমকে সাথে নিয়ে বাপের বাড়ি রওনা দিলো।
পড়ন্ত বিকেল, মুর্শিদ বাবার মাজারে মুশকিল আসান বাবার কাছে তার ভক্তদের লাইন। কেউ এসেছে তাবিজ নিতে, কেউ এসেছে তার পায়ের কাছে সেজ্দাহ দিতে, বাবার ছোয়া পেলেই তাদের মুশকিল দূর হবে। আবিদ খেয়াল করলো এক গরীব দিন মজুর পিতা এসেছে তার ১৪ বছর বয়সী পাগল মেয়েকে নিয়ে মাজারে। তার বিশ্বাস মুর্শিদ বাবার দয়ায় তার মেয়ে সুস্থ হবে,মুর্শিদ বাবা থেকে কেউ ফিরে না খালি হাতে। গ্রামের মুসলিম হিন্দু সকল সম্প্রদায়ের জন্য ই মুর্শিদ সাই রুহানি দয়া করেন।
আবিদ মাজারে এসেছে সূজন আর শম্ভুকে সাথে নিয়ে। সেও সিরিয়াল খাতায় নাম লিখিয়েছে, মাজারের বাবার দেখা পাওয়ার জন্য। বাবা থেকে তাবিজ নিয়ে সে তার মুশকিল আসান করতে চায়, এই কথা সে লিখেছে সিরিয়াল খাতায় কারন হিসেবে। মাজারের খাদেম ভ্রু কুচকে আবিদের দিকে তাকিয়ে বললেন "আফনে কেডা? আগে তো কহনো দেহি নাই, মুশকিল আসান বাবা নতুন ভক্তগো লগে পহেলা দিন দেহা করেন না, আফনে বসেন, মুর্শিদী বন্দনা করেন, আফনের ভক্তি আর বিশ্বাস থাকলে বাবার দর্শন পাইবেন"। সুজন আর শম্ভু এগিয়ে গেলো খাদেমের কাছে। এরা দুজন তো খাদেমের কাছে পরিচিত। শম্ভু অতি বিনয়ের সাথে খাদেম কে বললো "হুজুর ইনি হইলেন আমাগো ফয়েজ দার বন্ধু, চৌধুরী বাড়ীর মেহমান, দূর ঢাকা থেইকা আইসেন বাবার কাছে মুশকিল নিয়া, বাবা ছাড়া কে আসান করবো কন তো, একটু দেহা করার ব্যবস্থা কইরা দেন হুজুর,,,,,,,,, "
জনাব খাদেমের ভ্রু আবারো কুঞ্চিত হলো, সে যেনো কিছুক্ষন কি ভাবলেন,তারপরে ওয়েটিং রুম থেকে মাজারের ভেতরে ঢুকলেন। প্রায় দশ মিনিট পরে সে এসে আবিদের দিকে তাকিয়ে বললো "আফনের লগে বাবা দেহা করবে, বাবায় এহন জলসা ঘরে, ভক্তদের সাথে নিয়া মুর্শিদ বন্দনা করতেসেন, আফনেরা জলসা ঘরে যান"।
আবিদ জলসা ঘরে ঢোকার আগে মাজার বাড়িটার ভেতরে এবং বাহিরে পরিবেশ দেখলো। ছোট্র একটা গ্রামের মাজার হিসেবে এই মাজারের আয়তন ভালোই বড়। একটি এক তলা বিস্তৃত পাকা বাড়ী। সাধারণত বড় মাজারগুলো দেখতে যেমন হয়, এটাও ঠিক তেমন ই। আগর বাতি আর গোলাপজলের ঘ্রানে পুরো স্থান টা শোভিত। সাধারণ মানুষের কাছে এটা হঠাৎ করে মনে হবে একটা অন্যরকম পরিবেশ। মাজারের বারান্দায় চতুর্দিকে রেলিং দিয়ে ঘেরা আছে মুর্শিদ সাই এর কবর। মাজার সংলগ্ন উঠোনের শেষ প্রান্তে আছে বিশাল বড় এক ঘাট বাধানো পুকুর। আবিদ দেখলো পুকুরের সামনেও মানুষজন আগ্রহ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আবিদ এগিয়ে গেলো, লোকজনের কথাবার্তা শুনে বুঝলো কেউ কেউ দূর দূরান্তের গ্রাম থেকেও এসেছে, গঞ্জ এবং জেলা শহর থেকেও এসেছে অনেক মানুষ মুশকিল আসান করার জন্য বাবার কাছে। আবিদ দেখলো পুকুরে ইয়া বড় বড় মাছ, পানির উপরে মাছগুলো ভেসে ওঠে আবার ডুব দেয়, সে মাছ দেখে অবাক হলো, মাগুর আর শৈল মাছ এতো বড় হয় এটা তার জানা ছিলো না। সে আরো অবাক হলো যখন দেখলো কিছুক্ষন পর পুকুরে একটা কুমির ভেসে উঠেছে। সে অবাক হয়ে দেখলো কুমিরটাও মাছগুলোর মতো পানিতে খেলা করছে, ভেসে উঠে আর ডুবে যায়। সে অবাক হয়ে সুজন আর শম্ভুর দিকে তাকালো। সুজন আবিদের অবাক চেহারা দেখে হেসে বললো "আমরা ছোডোকাল থেইকাই এই পুগুর দেখতে দেখতে বড় হইসি ভাইজান, পুগুরে তিনডা আছে রাক্ষুসী মাছ আর তিনডা আছে কুমির, এই ছয়ডার বয়স একশো বছর, মুর্শিদ বাবায় যহন বাইচা আছিলো তহন থেইকা এগুলি আছে"।
কিছুক্ষন পরে সুজন আর শম্ভুর সাথে আবিদ মাজারের জলসা ঘরে ঢুকলো। মাজারের বাবা একটি কাঠের উচু খাটিয়ার উপরে তার কয়েকজন সাগরেদ এবং খাদেম কে নিয়ে বসে আছেন। তার চতুর্দিকে নিচে বসে আছে ভক্তরা। আবিদ, সুজন আর শম্ভুও বসলো নিচে।
সবাই বাবার সাথে একসাথে মুর্শিদ বন্দনা করছে
"খোদার ধন নবীকে দিয়া, খোদায় গেছেন গায়েব হইয়া,
নবীর ধন মুর্শিদ পাইয়া, শুইয়া আছেন মাজারে,
মুর্শিদ আমার খাজা বাবা, খাজা আমার সাই বাবা,
মুর্শিদ বাবার দিল বাসনা করে নবীর বন্দনা,
আমি মুর্শিদ পাইলে নবী পাইবো, নবী পাইলে খোদা পাইবো,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
✍️ #Imi_Chowdhury
#ইমি_চৌধুরী
Imi Chowdhury
চলবে,,,,,,,,,
পর্ব ১০
https://www.facebook.com/share/p/edkrr8V5H8yAdFpn/?mibextid=oFDknk
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।