#গঙ্গার_সৎ_অসৎ
পর্ব ১
[ লেখকের অনুমতি নিয়ে ই- নলেজ আইডিয়াতে গল্পটাকে কোনো রকম সংযোজন - বিয়োজন ছাড়া আপলোড করা হয়েছে । আসল লেখার লিংক নিচে ]
নদীর পাড়ের ছোট্ট গ্ৰামটির নাম গঙ্গাপুর। শহরের আলো ঝলমলে চাকচিক্য এখনও এসে পৌঁছায়নি এই ছোট্ট ভূখণ্ডে। গ্ৰাম থেকে গঞ্জে বা হাটে যেতে হলেও মাঝারি আকারের খাল বা শাখা নদী নৌকা দিয়ে পাড় হয়ে যেতে হয়। হয়নি এখানে খালের উপরে এবং নদীর উপরে কোনো সেতু বা ব্রিজ। দেশের কর্তাব্যক্তিদের হয়তো মনেও নেই দেশের এক প্রত্যন্ত কোনায় আছে এই ছোট্ট গ্ৰামটি। এখানে বিদ্যুৎ এর ছোঁয়া লাগেনি এখনও। গ্ৰামের ভেতরে এখনও কেউ মোবাইল সেভাবে ব্যবহার করে না। দুই একজন কর্তা গোছের পুরুষ লোক গঞ্জে গিয়ে মোবাইল চার্জ দেয় এবং নেটওয়ার্ক পায়। গঞ্জ থেকে বহু দূরে মূল জেলা শহর। রিকশায় যেতে লাগে পুরা একদিন। গঞ্জ থেকে লঞ্চে গেলে লাগে আধা দিন।
তবুও এই ছোট্ট গ্ৰামে মোটামুটি সবি আছে। স্কুল, মাদ্রাসা, মক্তব, মসজিদ, বড় কোনো মন্দির না হলেও সাধুবাবার পূজার ঘর, প্রিস্টের প্রার্থনা ঘর, খাজা বাবার মাজার, সবি আছে। শুধু নেই কলেজ এবং হাসপাতাল। গঞ্জে হায়ার সেকেন্ডারি কলেজ আছে। এর উপরে পড়তে হলে জেলা শহরের কলেজে পড়তে হবে। যা দরিদ্র গ্ৰামের লোকদের জন্য খরচান্ত বিষয়। একশো শয্যা বিশিষ্ট অনুন্নত একটি হাসপাতাল আছে গঞ্জে। যেখানে ডাক্তার, নার্স এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম এর বিশাল কমতি আছে। জেলা শহরে ভালো হাসপাতাল আছে এবং নামকরা ভালো ডাক্তারের চেম্বার ও আছে। কিন্তু গ্ৰাম থেকে রোগী জেলা শহরের হাসপাতালে যেতে যেতে আধমরা হয়ে যায়, অনেকে মারাও যায়।
খ্রিস্টীয় মিশনারীজ এখানে ধর্ম প্রচারের জন্য একজন ফাদার নিয়োগ দিয়েছে। যদিও এই গ্ৰামে কোনো খ্রিস্টান সম্প্রদায় নেই।
নদীর পাড়ের এক ধারে জেলে সম্প্রদায়ের বাস, এরা মুসলিম। অন্য ধারে বেদে সম্প্রদায়ের বাস, এরা হিন্দু। এই দুই সম্প্রদায় ই বাস করে নৌকায়। নৌকাতেই এদের ঘর সংসার। নৌকার ভেতরেই এরা রান্না করে,খায়,ঘুমায় আর নদীতে গোসল করে।
গ্রামে মুসলিম হিন্দু, ধনী গরীব সবাই মিলে মিশেই বাস করে।
গ্রামের হাইস্কুলের পেছনে আছে পুকুর গাছ গাছালি বাগান। হেড স্যারের পছন্দে হয়েছে ফুলের বাগান।
স্কুলের ঘড়িতে বাজে বেলা দশটা। মাঝি বাড়ির সিরাজ মাঝির ২০ বছর বয়সী ছেলে সুজন স্কুলের পেছনের বাগানে শিমুল গাছের সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে আলেয়া কে এক নজর দেখার জন্য। আলেয়া উচু বংশীয় মিয়া বাড়ির কাসেম মিয়ার মেয়ে। পড়ে ক্লাস সেভেনে। বয়স ১৫। আলেয়াও প্রতিদিন এই সময়ে জানালার ধারে বসে অপেক্ষা করে সুজন আসার জন্য। আলেয়া থাকে ক্লাসে, ক্লাসের পড়ার ফাকে ফাকে সে সুজনের দিকে তাকায়। আর সুজন থাকে বাগানে গাছ গাছালির আড়ালে। ক্লাসের অন্যকেউ এখন পর্যন্ত এই বিষয়টা খেয়াল করে নি। দুজন দুজন কে শুধুই দেখে। কথা বলার সুযোগ নেই।
কিন্তু আজ দুজন দুজন কে ভালো করে দেখতেই পারলো না। দেখায় ছন্দপতন হলো স্কুলের বাহিরে রাস্তায় মানুষদের চিৎকারে।
গ্রামের মেঠো পথ ধরে মানুষ দৌড়াতে দৌড়াতে নদীর পাড়ের দিকে যাচ্ছে। তারা সবাই জোরে জোরে বলাবলি করছে, কেউ কেউ চিৎকার করছে "নদীর ধারে ভাইসা আইসে লা***শ, পাওয়া গেছে লা***শ",,,,,,,,
✍️ #ইমি_চৌধুরী
#Imi_Chowdhury
চলবে,,,,,,,,
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।