#গঙ্গার_সৎ_অসৎ
পর্ব ৩
[ লেখকের অনুমতি নিয়ে ই- নলেজ আইডিয়াতে গল্পটাকে কোনো রকম সংযোজন - বিয়োজন ছাড়া আপলোড করা হয়েছে । আসল লেখার লিংক নিচে ]
তহমিনা বেগম তার দ্বিতীয় স্বামী ইকু বেপারীর সাথে জেলা সদরের হাসপাতালে এসেছে। ডাক্তার দেখাবে। সিরিয়াল আসার জন্য অপেক্ষা করছে। অনেক রোগী অপেক্ষা করছে। তার নাম্বার আসতে এখনও অনেক দেরী হবে। তহমিনার বার বার মিসক্যারেজ হয়। আজ ছয় বছর হলো ইকুর সাথে তার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু ইকু বেপারী কে সে সন্তানের সুখ দিতে পারে নাই। অথচ তহমিনার বয়স মাত্র ৩০ বছর এবং প্রথম সংসারে তিনটা সন্তান আছে। কিন্তু সে নিজেকে স্বামী সোহাগী ভাগ্যবতী মনে করে। কারন ইকু কোনোদিন তাকে বাচ্চা না হওয়ার জন্য মুখে কোনো কটু কথা বলে নাই। তহমিনা শুনেছে গঙ্গাপুর গ্রামের ফয়েজ চৌধুরীর মৃত্যুর কথা। এজন্য তার বুকটা হু হু করে। সে ভাবে "আহা পোলাডা বড় ভালা আসিলো, ঈদে চান্দে গেরামে সবাইর ঘরে ঘরে যাইয়া কত আপন কইরা সবাইরে বুকে টাইনা নিতো, জাত পাতের বালাই আসিলো না পোলাডার মনে, দেহা হইলেই কইতো কাকী লেহাপড়া শেষ কইরা ইলেকশনে খাড়ামু, সিল ডা আমারেই দিবা, তোমার ভোটে জিতলেই একটা হাসপাতাল দিমু, এই গেরামের আর কারো চিকিৎসার লাগি মাজারের বাবা আর পুরোহিত বাবার কাছে যাওন লাগবো না,,,,,,,,,,
কিছুদিন আগে ইকু বেপারীদের গ্রামেও সৎ মায়ের হাতে ছোটো বাচ্চা খু**ন হয়েছে। তাই তহমিনা সারাক্ষন তার ছেলে রহিমের কথা মনে করে চিন্তায় থাকে। কারন রহিম আর আলেয়া তো থাকে নিজেদের বাবার সাথে কিন্ত সৎ মায়ের সংসারে। তহমিনা ভাবে "না জানি কাসেম মিয়ার নতুন বৌ আমার পোলাপানডির লগে কি করে" ঠিকমতো বোধহয় খাইতেও দেয় না, আইচ্ছা ঐ বেডি আমার পোলাপানগুলিরে মাইরধোর করে নাতো, আহারে বুকের ধনের কথা মনে পড়লে কইলজা ছিড়া যায়",,,,,,,,,,,, এগুলো ভেবে পরক্ষনে তহমিনা নিজেই লজ্জা পায়। এক অনুশোচনায় তার বিবেক তাকে তাড়া করে।
তহমিনা আর কাসেম মিয়ার জমজ দুই ছেলের নাম রহিম আর করিম। ওদের বয়স এখন সাত শেষ হয়ে আটে পড়বে। রহিম আর আলেয়া থাকে কাসেম মিয়ার কাছে। আর করিম গত এক বছর ধরে থাকে তহমিনার কাছেই। করিম কে তহমিনা নিজের ইচ্ছায় নিজের কাছে রাখে নাই। ঘটনা হয়েছে কি এক ঈদে আলেয়া, রহিম আর করিম গেছে নানা বাড়ি, অর্থাৎ তহমিনার বাপের বাড়িতে। তহমিনার বাপের বাড়ির লোকজন এসে কাসেম মিয়া এবং তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলো তহমিনার ঐ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার জন্য। তারপর থেকে কাসেম মিয়া তিন সন্তান কে মাঝে মাঝে নানাবাড়ি বেড়াতে যেতে দিতো। এতে তহমিনার ও সন্তানদের দেখার সুযোগ হতো।
তো এভাবে একদিন করিম নিজের ইচ্ছায় জোর করে মা তহমিনার সাথে যেতে চায়। কিছুতেই সে মাকে ছাড়বে না। তখন তহমিনা এক রকম বাধ্য হয়ে ছেলেকে নিয়ে আসে নিজের দ্বিতীয় সংসারে। সে ভেবেছিলো এই বাড়ির লোকজন করিমকে সহ্য করতে পারবে না, বিশেষ করে ইকু বেপারী হয়তো প্রচন্ড অসন্তুষ্ট হবে। কিন্তু সে অবাক হলো, যখন দেখলো ইকু খুব স্নেহ করে করিমকে। আজ ও সে হাসপাতালে এসেছে করিমকে শাশুড়ীর কাছে রেখে। এরা সবাই করিমকে স্নেহ করে।
কিন্তু আলেয়ার বাপ কাসেম মিয়া অনেক ঝামেলা করেছিলো, তার ছেলে করিম কে সে কিছুতেই ঐ চরিত্রহীনা তহমিনার কাছে থাকতে দিবে না। সে দুই গ্রামের চেয়ারম্যান আর মেম্বরদের ডেকে সালিশ বৈঠক করে হুলস্থুল করেছে। সালিশী বৈঠকে এটাই রায় হয়েছে যে জমজ দুই ছেলের এক ছেলে থাকবে বাপের কাছে, এক ছেলে মায়ের কাছে।
তহমিনা আগের অনেক কিছু ভাবছে, হঠাৎ মোবাইল বাজার শব্দে তার ভাবনায় বাধা হলো। ইকু বেপারীর ফোন বাজলো।
ইকু বেপারী মোবাইল নিয়ে ওয়েটিং রুম থেকে বের হয়ে গেলো। কথা শেষ করে আবার এসে তহমিনার পাশে বসলো। তহমিনা জিগেস করলো কার ফোন আইসে? ইকু বললো তুমি চিনবা না। তহমিনা জোরে একটা নি:শ্বাস ছেড়ে বললো ইদানীং তুমি ফোন পাইলেই ঘরের বাহিরে যাইয়া কথা কও। আমার সামনে কথা কইতে অসুবিধা কি তুমার?
ইকু তহমিনার গালে একটা কিস করে বললো আমারে সন্দেহ করো তুমি? তহমিনা একটা ঝাটকা দিয়ে গাল সড়িয়ে বললো "যেইহানে হেইহানে মন চাইলেই চুমা চাট্রি কইরো নাতো। তোমার চুমায় বিড়ির গন্ধ"। এবার ইকু বাকা হাসি দিয়ে বললো এই গন্ধেই তো বিয়ার আগে পাগল হইসিলা মিনা।
ইকু যখন মিনা বলে ডাকে, তহমিনার সব রাগ পানি হয়ে যায়। সে তখন আরো ঘেষে যায় ইকুর কাছে। মনে মনে নিজেকে শাসন করে আর ভাবে " ইকু বেফারীর মতো স্বোয়ামী পাওন ভাইগ্যের বেফার। আলেয়ার বাপ আসিলো বদ রাগী, বদ মেজাজী, কোনোদিন সোহাগ কইরা কথা কয় নাই, সোহাগ কইরা ধরে নাই, রাইত হইলেই গর্ত একটা পাইয়া লাগাইতো। লাগাইতে লাগাইতে আলেয়া, রহিম, করিম, তিন তিনডা ছাওয়াল পয়দা করসে, কিন্তু ছাওয়ালের মায়রে কোনোদিন এমন কইরা কাসে টাইনা চুমা দেয় নাই"",,,,,,,,,,,,,,
✍️ #Imi_Chowdhury
#ইমি_চৌধুরী
চলবে,,,,,,,
পর্ব ২
https://www.facebook.com/share/p/cNayD3FboUNKK8yj/?mibextid=oFDknk
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।