#তুমি_অনিবার্য
লেখনি: ইসরাত জাহান
পর্ব: ০৫
মেহুর 'বিব্রত-পদধ্বনি' গ্রন্থাগারের মেঝের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে যখন মিলিয়ে গেল, তখন ঈশান একা দাঁড়িয়ে রইল এক 'গভীর-শান্তির' কেন্দ্রে। তার হাতে ধরা পুরনো অভিধানটি ছিল সেই মুহূর্তের 'নিঃশব্দ সাক্ষী'। সে জানতো, মেহুর দ্রুত প্রস্থান ছিল পরাজয় নয়, বরং 'স্বীকারোক্তির' প্রথম পদধ্বনি। যে 'নিরাবরণ কঠোরতা' সে মেহুর চোখে দেখেছিল, তা আসলে ছিল নিজের 'অটল-বিশ্বাস' হারানোর ভয়। ঈশান হাসল—এক 'অপেক্ষমাণ-বিজয়ীর' হাসি।
সে ধীরেসুস্থে অভিধানটি নামিয়ে রাখল বইয়ের স্তূপের পাশে। ঘরটি তখনো 'প্রজ্ঞা ও প্রাচীনত্বের' এক চমৎকার মিশ্রণে ভরা, কিন্তু এখন সেখানে মিশে গেছে এক 'নবীন-অস্থিরতা', এক 'প্রচ্ছন্ন-আবেগিক-বিস্ফোরণের' রেশ। পুরনো কাগজের সেই 'ধ্রুপদী সৌরভ'ও যেন এখন মেহুর শরীরের 'অনির্দিষ্ট-গন্ধের' সঙ্গে মিলে এক 'জটিল-মিশ্রণ' তৈরি করেছে। ঈশানের কাছে এই মুহূর্তে বইয়ের বিন্যাস বা 'গাণিতিক-শৃঙ্খলা'র চেয়ে ঢের বেশি জরুরি ছিল তার 'আবেগিক-অঙ্কপাতন'।
ঈশান জানত, মেহুর 'অটল-বিশ্বাস' এবং 'অক্ষয় বন্ধুত্বে'র দেয়ালটি ভাঙা সহজ ছিল না। তার উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট: মেহুকে তার নিজের 'স্বীকৃত-সংজ্ঞা'র বাইরে এনে দাঁড় করানো। মেহুর রাগ তাকে বুঝিয়েছে, তার 'পরীক্ষা-যন্ত্র' কাজ শুরু করেছে।
"স্থির আলো আর প্রচ্ছন্ন অন্ধকার," ঈশান মৃদুস্বরে আওড়াল।
-"মেহু, তুই অন্ধকারের ভয়ে পালাস। কিন্তু সেই অন্ধকারেই তো আলো সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়। তোর ভেতরের 'অবিচল বিশ্বাসে'র ফাটলটা আমি দেখতে পাচ্ছি।"
সে শেলফের দিকে তাকাল, যেখানে বইগুলো এখনো অগোছালো। ঈশান উপলব্ধি করল, মেহুকে এখন একা থাকতে দিতে হবে। তার 'নিশ্চিত ভিত্তি' যখন ভেঙে গেছে, তখন সে তার ভেতরের 'অনুবর্তী-অনুভূতিগুলো' নিয়ে এক 'অভ্যন্তরীণ-সংগ্রাম' শুরু করবে।
____
মেহু তখন বাগানের এক কোণে, একটি বেঞ্চে বসে। তার 'প্রচণ্ড-আন্দোলিত' মন শান্ত হতে পারছিল না। ঈশানের সেই 'সৌম্য-আকর্ষণীয়' মুখশ্রী, তার চোখের 'গভীর-প্রশ্ন' এবং সেই 'মৃদু-কন্ঠে' বলা 'অনিবার্য-সহায়তা'র কথাগুলো তার মনের মধ্যে 'দুরন্ত-দ্বিধা'র জন্ম দিচ্ছিল। তার 'জোরপূর্বক-ঘোষণা'টি ("তুই শুধু আমার বন্ধু, ঈশান। শুধু বন্ধু!") এখন তার নিজের কানেই এক 'মিথ্যা-প্রতিপন্ন' শব্দের মতো শোনাল। সে কেন এত 'ক্ষিপ্ত' হলো?
মেহু স্বীকার করতে বাধ্য হলো, ঈশানের 'তীক্ষ্ণ-অন্তর্বোধী' চোখগুলো সত্যি তার হৃদয়ের 'গভীরতম-গুপ্ততা' ভেদ করতে চাইছিল এবং সফল হয়েছিল। সে ভয় পাচ্ছে এই 'অনিবার্য' সত্যকে যে, ঈশান আর কেবল তার বন্ধু নয়। তার এই 'অস্বীকার' করা অনুভূতিগুলো এখন 'প্রবল বেগে' মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে, বাগানের গেট দিয়ে প্রবেশ করল একটি নতুন মুখ আলিয়া। আলিয়া ছিল মেহুর দূর সম্পর্কের আত্মীয় এবং একসময় তার পুরোনো কলেজের সহপাঠী। সে ছিল 'আত্মবিশ্বাসী-সৌন্দর্যের' এক প্রতীক, যার হাঁটার ভঙ্গিতেই ছিল এক 'স্পষ্ট-অধিকারবোধ'। তার পোশাক ছিল 'অত্যাধুনিক-রুচি'র পরিচয়, যা মেহুর 'সাধারণ খাদি-কুর্তি'র চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার চোখে ছিল এক 'অগভীর-আত্মবিশ্বাস' এবং ঈশানের প্রতি এক 'সুস্পষ্ট-আগ্রহের' ঝলক।
আলিয়া মেহুর কাছে এলো, তার চোখে এক 'পরিমিত হাসি' কিন্তু মেহুর দিকে তাকাতেই তার হাসিটা সামান্য ম্লান হলো।
-"হাই মেহু! শুনলাম তুই নাকি বই গোছানোর জন্য কাউকে ডেকেছিস। কাজ চলছে কেমন? এত দ্রুত চলে এলি যে?" আলিয়ার স্বর ছিল 'অনাড়ম্বর-আন্তরিক', কিন্তু তার চোখ দুটি দ্রুত গ্রন্থাগারের দিকে এক 'পর্যবেক্ষকের' দৃষ্টিতে তাকাল, যেন সে আগে থেকেই জানত ঈশান ভেতরে আছে।
মেহু নিজেকে 'সংবরণ' করার শেষ চেষ্টা করে বলল,
- "হ্যাঁ, ঈশান সাহায্য করছে। সে... তার 'গাণিতিক-শৃঙ্খলা' দিয়ে কাজটা সামলাচ্ছে।"
আলিয়া একটু হাসল। এই হাসি ছিল 'পরিহাসের' কাছাকাছি। -"ঈশান? তোমার সেই 'দার্শনিক-বিস্ফোরণ'ওয়ালা বন্ধু? শুনেছি, সে নাকি আজকাল তোমার জীবনের 'অনিবার্য' কিছু একটা হয়ে উঠেছে। আমি ঠিক বুঝতে পারি না, এই 'অপ্রয়োজনীয় গভীরতা'র ছেলেগুলোকে তুমি কেন এত গুরুত্ব দাও। যাইহোক, আমি যাই, দেখি... হয়তো আমার 'সহজ-বিন্যাস' তোমার ওই 'জটিল-সংকলন'কে একটু সাহায্য করতে পারবে।"
আলিয়ার কথায় ঈশানের প্রতি এক 'লুকায়িত-আগ্রহ' এবং মেহুকে সামান্য 'বিচলিত' করার এক 'সুচিন্তিত-অভিপ্রায়' স্পষ্ট ছিল।
আলিয়ার এই 'সুচিন্তিত-শব্দ-চয়ন' এবং তার 'অগভীর-আত্মবিশ্বাস' মেহুর বুকে সরাসরি আঘাত হানল। সে ঈশানের প্রতি আলিয়ার 'সুস্পষ্ট-আগ্রহ' এবং তার 'লুকায়িত-প্রেমের' ইঙ্গিতটি এক তীব্র 'ঈর্ষার-জ্বালা'র মাধ্যমে অনুভব করল। মেহু কখনো ঈর্ষা করেনি, কিন্তু এখন, এই মুহূর্তে, তার হৃদয়ে এক 'প্রচণ্ড-দহন' শুরু হলো। সে বুঝতে পারল, তার ভেতরে ঈশানের জন্য যে অনুভূতি জন্ম নিচ্ছে, তা শুধু বন্ধুত্বের 'স্থির আলো' নয়, বরং এক 'অবাধ্য আবেগের' 'প্রচ্ছন্ন-অন্ধকার'।
আলিয়া গ্রন্থাগারের দিকে এগিয়ে গেল, তার 'প্রত্যয়ী-পদধ্বনি' ঈশানের দিকে যেন এক 'অনিবার্য-আকর্ষণে'র বার্তা নিয়ে গেল।
গ্রন্থাগারে, আলিয়া ঈশানের মুখোমুখি হলো। ঈশান বইয়ের স্তূপ থেকে একটি 'জটিল-সংকলন' বই হাতে নিল।
-"আপনি আলিয়া, তাই না? মেহুর পুরোনো বন্ধু,
"ঈশান জিজ্ঞেস করল। তার কন্ঠস্বর ছিল শান্ত, কিন্তু চোখে ছিল এক 'পর্যবেক্ষণকারী' দৃষ্টি।
আলিয়া হাসল, তার ভঙ্গি ছিল 'অত্যন্ত-আকর্ষণীয়'।
- "ঠিক বন্ধু নয়, ঈশান। একটু বেশি কিছু। বলা যায়, তার জীবনের 'গুরুত্বপূর্ণ-অংশ'। আর আপনি? মেহু তো আপনাকে শুধু 'কর্মসহায়ক' বলেছিল। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, আপনি মেহুর 'অনিবার্য' অংশ হতে চাইছেন। আপনার 'নিরন্তর-অভিপ্রায়' অন্য কিছু বলছে।"
আলিয়ার চোখে ছিল এক 'নিরাবরণ চ্যালেঞ্জ' এবং স্পষ্ট 'কর্তৃত্ববোধ'। ঈশান বুঝল, খেলাটা এখন আরও 'জটিল-সংকলন' হতে চলেছে। সে শান্ত, 'মৃদু-কন্ঠে' বলল,
-"আমি শুধু তার 'অনিবার্য' অংশ হতে চাইছি, আলিয়া। যে দূরত্ব মেহু আমাদের মধ্যে টেনে রেখেছিল, সেটা কি কেবলই 'কাল্পনিক-রেখা' ছিল, সেটাই দেখছিলাম। আর আপনি... আপনি হয়তো তার জীবনের সেই 'স্থির আলো', কিন্তু আমি তার 'প্রচ্ছন্ন-অন্ধকার' হতে এসেছি, যেখানে শুধু প্রেম অপেক্ষা করে।"
আলিয়া ঈশানের 'সৌম্য-আকর্ষণীয়' মুখশ্রীতে এক মুহূর্তের জন্য বিচলিত হলো। ঈশানের কথা বলার ধরণ এবং তার 'তীক্ষ্ণ-অন্তর্বোধী' দৃষ্টিতে সে এক ধরণের 'অনিবার্য-শক্তি' অনুভব করল। আলিয়া সামান্য ঝুঁকে এসে বলল,
-"প্রচ্ছন্ন অন্ধকার? আমি অন্ধকার পছন্দ করি না, ঈশান। আমি আলোতেই থাকি।
এদিকে, মেহু দূর থেকে তাদের দেখল ঈশান আর আলিয়ার 'অত্যন্ত-নিকটত্ব', তাদের 'নিচু টুলে'র পাশে দাঁড়িয়ে গভীর চোখে কথা বলা। মেহুর 'অটল-বিশ্বাস' এবং 'সমস্ত-সংযম' যেন ভেঙে গেল। তার হৃদয়ে তখন 'অনিবার্য' এক সত্যের জন্ম নিল সে ঈশানকে বন্ধুর চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে শুরু করেছে এবং আলিয়ার জন্য তাকে হারানোর ভয় পাচ্ছে।
মেহু দ্রুত সেখান থেকে সরে গেল। এই 'হঠাৎ-দূরত্ব' ঈশানের জন্য ছিল 'বিজয়-উচ্ছ্বাস', কিন্তু মেহুর জন্য ছিল এক 'নতুন-সংজ্ঞা'র দ্বারপ্রান্ত। সে তার অনুভূতির 'জটিল-সংকলন' নিয়ে এক 'প্রচণ্ড-আন্দোলিত' পথে হাঁটা শুরু করল
চলবে....??
(গল্পে মেহুর জীবনে এক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী আলিয়া এসেছে, যার 'অগভীর-আত্মবিশ্বাস' এবং ঈশানের প্রতি 'লুকায়িত-আগ্রহ' মেহুকে তার 'লুকায়িত-প্রেম' এবং 'অজ্ঞাত ঈর্ষা'র মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ঈশান এখন মেহুকে নিজের অনুভূতির 'নতুন মোড়' বুঝতে সাহায্য করছে, কিন্তু আলিয়াও তার 'অনিবার্য' আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এখন কি মেহু তার 'অটল-বিশ্বাস' ভেঙে ঈশানের 'অনিবার্য' প্রেমের ডাকে সাড়া দেবে? না কি আলিয়া তাদের মধ্যে এক 'স্থায়ী-দূরত্ব' তৈরি করবে?
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।