আমি ছোটবেলা থেকে দেখেছি—
যে ছেলেটা ভদ্র, চুপচাপ, নম্র;
সে-ই হয় ক্লাসের easiest target।
স্কুলে এমন দুই-তিনজন ছিল—
যাদের সবাই ঠাট্টা করত, খোঁচা দিত,
“মজা”র নামে কখনো মানুষটাকে মানুষই ভাবেনি।
অদ্ভুতভাবে জানি না কেন—
আমি বরং তাদের সঙ্গই বেশি পছন্দ করতাম।
তাদের নীরবতা, ভদ্রতা আমাকে টানতো।
ওদের পাশে দাঁড়ালে তারা যেভাবে বদলে যেত—
আমি আজও সেটা ভুলিনি।
হয়তো এ কারণেই
বুলিং, খোঁচা দেওয়া, তুচ্ছ করা—
এসব কিছু আমি কখনো সহ্য করতে শিখিনি।
আমি সবসময় সেই মানুষটার পাশে দাঁড়াই,
যার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকে না।
এবং আজ আবারও সেই একা মানুষের চরম পরিণতি দেখলাম।
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
মুশফিকুজ্জামান।
গায়ের রঙ আর শরীর নিয়ে
বন্ধুদের নিয়মিত বডি শেমিং—
মজার আড়ালে প্রতিদিনের মানসিক নির্যাতন।
আজ ক্যাম্পাসেই তার লাশ পাওয়া গেল।
স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার।
একটা “মজা” তাকে আর বাঁচতে দিল না।
এই মৃত্যুর দায় একা তার নয়—
যারা তাকে খোঁচা দিত,
যারা দেখেও চুপ থাকত,
যারা ভাবত—“আরেহ, মজা করছি!”
তাদের সবার।
বডি শেমিং কখনো harmless fun না।
এটা কারও ভিতরটা ধ্বংস করে দেয়।
চুপ করে সহ্য করা মানে শক্ত হওয়া না—
এটা ধীরে ধীরে মরে যাওয়া।
আমরা কি বুঝি?
নাকি শুধু তখনই কান্না করি,
যখন একজন চুপচাপ ছেলে
নিজেকে শেষ করে ফেলে?
মুশফিকের বন্ধু 'Al Shahriar Emon' এর করা ফেসবুক লাইভে মুশফিককে ঘিরে বডি শেমিং এর বাস্তব অভিজ্ঞতা সত্যিই আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র।
মুশফিক চলে গেছে,
কিন্তু আমাদের চারপাশে
আরও কতজন চুপচাপ “মুশফিক” বেঁচে আছে?
দয়া করে—
আপনার আশেপাশে যাকে সবাই অবহেলা করে,
যাকে নিয়ে মজা করে,
যে কিছু বলে না…
তাকে একবার খুঁজে দেখুন।
একবার পাশে দাঁড়ান।
হয়তো আপনার একটি সিদ্ধান্ত
একটি জীবন বাঁচিয়ে দেবে।
বডি শেমিং কোনো মজা নয়।
এটা বন্ধ হতেই হবে—এখনই।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।