“অতিরঞ্জন এবং ফাঁকা আওয়াজ”—এই দুইয়ের উপরই চলছে বাংলাদেশের রাজনীতি। বাস্তব কাজের চেয়ে কথার জোর এখানে বেশি, যুক্তির চেয়ে স্লোগান শক্তিশালী, আর ন্যায়ের চেয়ে পরিচয়ের দাম বেশি। কে কী বলছে, সেটা মুখ্য না; কে কাকে চিৎকারে দমিয়ে রাখতে পারছে, সেটাই রাজনীতির বড় সাফল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ব্যবস্থায় যারা সৎ পথে হাঁটতে চায়, তাদের পরিণতি প্রায় একই হয়। তারা জায়গা পায় না, নিরাপত্তা পায় না, বরং সন্দেহের চোখে দেখা হয়। ওসমান হাদির ঘটনাই তার উদাহরণ। মানুষ তার জন্য দোয়া করছে, জনপ্রিয়তা তৈরি হচ্ছে—তবুও বাস্তবতা হলো, সৎ হওয়ার মূল্য এ দেশে এখনো দিতে হয় চড়া দামে। এখানে সততা কোনো শক্তি না, বরং ঝুঁকি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ন্যায়বিচার কোনো কাঠামো নয়, এটি কেবল বক্তৃতার একটি শব্দ। যতদিন ন্যায়বিচার বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন এই বাংলা স্বাধীন হবে না—এই কথাটি কোনো আবেগী বক্তব্য না, এটি সরল বাস্তবতা। কারণ যেখানে বিচার নেই, সেখানে স্বাধীনতা কাগজে থাকে, জীবনে নয়।
এই শূন্যতার মধ্যেই বেঁচে থাকে কিছু চিরচেনা শব্দ—
‘চেতনা’, ‘রাজাকার’—এই দুই শব্দকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যেন এগুলোই শেষ সত্য। যুক্তি না থাকলে চেতনা, প্রশ্ন উঠলে রাজাকার—এই দুই দিয়েই সব চাপা দেওয়া যায়। এটিই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।
কিন্তু এগুলোও আসলে ফাঁকা আওয়াজ। শব্দ আছে, ওজন নেই। প্রভাব আছে, দায় নেই। বাংলা কথায় যেটাকে বলে চাপাবাজি—ঠিক সেটাই চলছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে।
ফলে রাজনীতি আর সমাধানের জায়গা থাকে না, হয়ে ওঠে শব্দের লড়াই। এখানে সত্য টেকে না, টেকে আওয়াজ। আর যতদিন এই আওয়াজই ক্ষমতার মূলধন থাকবে, ততদিন সৎ মানুষের জায়গা সংকুচিতই হবে।
এই বাস্তবতায় প্রশ্ন একটাই—
আমরা কি সত্যিই ন্যায়বিচার চাই, নাকি শুধু আরও জোরে ফাঁকা আওয়াজ?
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।