Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি পর্ব–২ : সন্দেহের শুরু

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (23,023 পয়েন্ট)   5 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি  

পর্ব–২ : সন্দেহের শুরু image  

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন


"বিশ্বাস ভাঙে চিৎকার করে নয়, ধীরে ধীরে নীরব হয়ে।"


সারারাত এক ফোঁটাও ঘুম হলো না অভিকের।


চোখ বন্ধ করলেই ফোনের স্ক্রিনটা জ্বলে ওঠে। সেই এক লাইন—"কাল তোমাকে না দেখে খুব খারাপ লাগছিল..."। একটা লাইন দিয়ে একটা মানুষকে দোষী করা যায় না, সে জানে। তবু মাথার ভেতর পোকার মতো কুরে খাচ্ছে কথাটা। কার লেখা? নিশি কাকে না দেখে খারাপ লাগে?


ভোরের দিকে চোখ লেগে এসেছিল। নিশির গলায় ঘুম ভাঙল। “মেঘলা, উঠো। স্কুলের দেরি হয়ে যাবে।”


সব স্বাভাবিক। মেঘলা ব্যাগ গোছাচ্ছে, মিশি জুতোর ফিতা নিয়ে যুদ্ধ করছে, নিশি চুলায় রুটি সেঁকছে।


শুধু অভিকের ভেতরটা আর স্বাভাবিক নেই।


নাস্তার টেবিলে বসে সে আড়চোখে নিশিকে দেখল। নিশি রুটির প্লেট এগিয়ে দিল। চোখাচোখি হতেই নিশি এক সেকেন্ড তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল।


আগে হলে এই দৃষ্টি খেয়ালই করত না অভিক। আজ করল।


অফিসে ঢুকেও কিছুই ভালো লাগল না। মিটিংয়ে বসে আছে, সামনে প্রজেক্টরের আলোয় গ্রাফ কাঁপছে। কিন্তু মাথার ভেতর অন্য গ্রাফ—কবে থেকে নিশি বদলেছে? প্রথম কবে ফোনটা উল্টো করে রেখেছিল?


নিজেকেই ধমকাল অভিক। “ছি, কী ভাবছি আমি? একটা মেসেজ দেখে নিজের বউকে সন্দেহ?”


কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে হলো, সন্দেহ তো আর আকাশ থেকে পড়ে না। কিছু তো হয়েছে।


বিকেল চারটায় নিজের অস্থিরতা চাপতে না পেরে ফোন করল।  

“হ্যালো।”  

“কী করো?”  

“রান্না। মিশির টিফিনের জন্য নুডলস করছি।”  

“মেয়েরা?”  

“পড়ছে।”  

“আচ্ছা। রাখি।”


তেইশ সেকেন্ড।


ফোনটা রাখতেই বুকের ভেতর খালি লাগল। একসময় এই মেয়েটার সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেও শেষ হতো না। আজ তেইশ সেকেন্ডেই সব কথা ফুরিয়ে যায়।


সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখল, নিশি সোফায় বসে ফোন দেখছে। দরজার শব্দে এমনভাবে ফোনটা লক করল যেন হাত থেকে পড়ে যাবে। তারপর হাসার চেষ্টা করল।  

“এসেছ?”  

“হুঁ।”


অভিক জুতা খুলতে খুলতে জিজ্ঞেস করল না, “কী দেখছিলে?” ইচ্ছে করল। কিন্তু গলার কাছে শব্দগুলো আটকে গেল। যদি নিশি বলে বসে, “তুমি আমাকে সন্দেহ করো?” সেই প্রশ্নের উত্তর তার কাছে নেই।


রাতে খাওয়ার টেবিলে মিশি স্কুলের গল্প করছে। “জানো বাবা, আজকে আমাদের ক্লাসে...”  

মেঘলা বলল, “আমার কাল টেস্ট আছে।”


অভিক শুনছে। কিন্তু চোখ নিশির দিকে। নিশি মেয়েদের কথা শুনছে, মাথা নাড়ছে। কিন্তু মাঝেমাঝে চোখ চলে যাচ্ছে ফোনের নিভে থাকা স্ক্রিনে।


হঠাৎ স্ক্রিনটা জ্বলে উঠল। নিশি বিদ্যুতের গতিতে ফোনটা তুলে নিল। মেসেজটা পড়ল। এক মুহূর্তের জন্য ঠোঁটের কোণে একটা হাসি খেলে গেল। তারপর আবার সেই শান্ত, গম্ভীর মুখ।


ওই এক মুহূর্তের হাসিটা অভিকের বুকে এসে বিঁধল।


এই হাসি সে চেনে। বিয়ের পর প্রথম প্রথম নিশি অভিকের মেসেজ পেয়ে এভাবেই হাসত। সেই হাসি এখন অন্য কারো নামে লেখা।


তবু নিজেকে বলল, “না। আমি ভুল ভাবছি। হতেই পারে কোনো বান্ধবী। মজার কিছু লিখেছে।”


খাওয়া শেষে নিশি প্লেট গোছাতে গোছাতে বলল, “আমি একটু বারান্দায় যাচ্ছি। মাথাটা ধরেছে।”


অভিক মাথা নাড়ল। মিনিট দশেক পর পানির জন্য উঠে দেখল, নিশি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। গলা এতটাই নিচু যে শব্দ বোঝা যায় না। শুধু বোঝা যায়, ওপাশের কথা শুনে নিশি মাঝে মাঝে হাসছে।


অভিকের পায়ের শব্দে কথা থেমে গেল। নিশি ঘুরে স্বাভাবিক গলায় বলল, “ঘুমাওনি?”  

“পানি খেতে এলাম।”  

“ও।”


দুজনের মাঝখানে একটা গ্লাসের দেয়াল। দেখা যায়, ছোঁয়া যায় না।


রাত বাড়ে। অভিক জেগে থাকে।


মনে পড়ে গত ছয় মাসের টুকরো ছবি। হঠাৎ ফোনে লক দেওয়া। মাঝরাতে ওয়াশরুমে গিয়ে দেরি করে ফেরা। কারণ ছাড়া রেগে যাওয়া। আবার কোনো কোনো দিন অকারণে খুশি। শুক্রবারে বাইরে যেতে না চাওয়া।


আগে এগুলোকে ‘মেয়েদের মুড সুইং’ ভেবে উড়িয়ে দিয়েছে। আজ মনে হচ্ছে, সবগুলো বিন্দু জোড়া দিলে একটা ছবি হয়। যে ছবির নাম ভয়।


আবার নিজেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। “আমিই তো বদলে গেছি। অফিস, টার্গেট, প্রমোশন—এসবের পেছনে ছুটতে ছুটতে কবে শেষ নিশির চোখের দিকে তাকিয়েছি? কবে শেষ ওর গল্প শুনেছি? হয়তো ওর একাকীত্বের সুযোগ কেউ নিয়েছে।”


এই ভাবনাটা সন্দেহের চেয়েও বেশি কষ্ট দেয়। কারণ তখন দোষটা আর নিশির থাকে না। দোষটা নিজের।


কিন্তু তার পরেই আবার সেই মেসেজ—"কাল তোমাকে না দেখে খুব খারাপ লাগছিল..."। অফিসের বসকে না দেখলে কার খারাপ লাগে? বন্ধুকে না দেখলে এভাবে লেখে?


প্রশ্ন আর উত্তর মিলে মাথার ভেতর কুস্তি চলে সারারাত।


ভোরে অফিসে যাওয়ার সময় নিশি মেয়েদের টিফিন দিচ্ছে। চুলগুলো হাতখোঁপা করা, কপালে ছোট্ট একটা ঘামের বিন্দু। এই মেয়েটাকে সে বারো বছর ধরে চেনে। এই মুখের প্রতিটা রেখা তার মুখস্থ।


এই মুখ মিথ্যে বলতে পারে?


অভিক ব্যাগটা কাঁধে নিতে নিতে বলল, “আসি।”  

নিশি বলল, “সাবধানে যেও।”


রোজকার সংলাপ। কিন্তু আজ প্রতিটা শব্দের ওজন আলাদা।


বাস থেকে নামতেই সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলল অভিক।


এভাবে হয় না। এই অর্ধেক ঘুম, অর্ধেক খাওয়া, অর্ধেক বাঁচা—এভাবে মানুষ বাঁচে না। সন্দেহ একটা ঘুণপোকা। আজ না থামালে পুরো সংসারটাই খেয়ে ফেলবে।


হয় নিশিকে সরাসরি জিজ্ঞেস করবে। হয় সত্যিটা নিজে খুঁজে বের করবে।


কারণ বিশ্বাসে ফাটল ধরলে সেটা জোড়া লাগে না। কিন্তু সত্যি জানলে অন্তত ভাঙাটা কোথায়, সেটা বোঝা যায়।


অফিসের গেটে দাঁড়িয়ে অভিক লম্বা একটা শ্বাস নিল।


আজ রাতেই কিছু একটা হবে।


চলবে...

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1140 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23023। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4254
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–১০ : শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৮ : ক্ষমা চাইলেই কি সব ঠিক হয়ে যায়?   মোহাম্মদ জাহিদ হো&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৭ : যে স্বপ্নের জন্য সব হারিয়েছিল    মোহাম্মদ জাহিদ হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৬ : একা বাবার সংসার   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন "নিজের কষ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1554 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    77 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. মাইদুল ইসলাম মুকুল

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...