Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিশির দিনগুলো গল্প-৫ : মানুষের দৃষ্টি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (22,802 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিশির দিনগুলো

গল্প-৫ : মানুষের দৃষ্টিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

১৫ জুলাই, ২০২৬


স্বামী মারা যাওয়ার পর তার পোশাক বদলায়নি, বদলে গেছে মানুষের চোখ।


অভিক চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস নিশি খুব একটা বাইরে বের হতো না।


কিন্তু ঘরে বসে থাকলে তো সংসার চলে না। চাকরি আছে, বাজার আছে, মেঘ আর মিশির পড়াশোনার খরচ আছে। তাই একদিন আবার আগের মতো বাসে চড়ে অফিসে যাওয়া শুরু করল।


প্রথম কয়েক দিনেই সে বুঝে গেল, সবকিছু আর আগের মতো নেই।


আগে যারা হাসিমুখে কথা বলত, তাদের অনেকেই এখন এমনভাবে তাকায় যেন তাকে নতুন করে চিনছে।


একদিন বাসে দেখল, অনেক সিট খালি পড়ে আছে। তবু একজন এসে ঠিক তার পাশেই বসল। অকারণে কথা বলার চেষ্টা করল।


নিশি জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে রইল।


অফিস থেকে কোনোদিন একটু দেরি করে ফিরলে গলির মুখে কারও না কারও প্রশ্ন তৈরি থাকত।


"আজ এত দেরি হলো?"


কথাটা শুনতে খুব সাধারণ। কিন্তু নিশি বুঝত, প্রশ্নটা সময় নিয়ে নয়। প্রশ্নটা তাকে নিয়েই।


একদিন বাজারে মাছ কিনছিল। পেছনে দুজন মহিলা দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন।


"ওই যে, অভিকের বউ না?"

"হ্যাঁ। এখন চাকরি করে শুনেছি।"

আরেকজন নিচু গলায় বললেন, "আগের চেয়ে বেশ গুছিয়ে চলাফেরা করছে।"


নিশি শুনতে পেয়েছিল। শুনেও মাথা তুলল না।


বাড়ি ফিরে আয়নার সামনে অনেকক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে ছিল। সাধারণ একটা সুতির শাড়ি। চুল খোঁপা করা। মুখে একটু পাউডারও নেই। তবু এত কথা!


এরপর থেকে সে আরও সাবধানে চলতে শুরু করল।


অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলে ধরত না। খুব প্রয়োজন ছাড়া কোথাও যেত না। কারও সঙ্গে অকারণে বেশি কথা বলত না।


এসব সে নিজের ইচ্ছায় করেনি। পরিস্থিতি তাকে শিখিয়ে দিয়েছিল।


একদিন অফিসে একটা ঘটনা ঘটল।


এক সহকর্মী হেসে বললেন, "আপনি তো একা থাকেন। একদিন বাইরে বসে একটু গল্প করলে ক্ষতি কী?"


নিশি খুব ভদ্রভাবে, কিন্তু স্পষ্ট গলায় বলল,

"অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করতে চাই। অফিসের বাইরে আমার কোনো আলোচনা নেই।"


এর বেশি কিছু সে বলেনি। কিন্তু সারাদিন কথাটা মাথা থেকে নামেনি।


রাতে বাড়ি ফিরে চুপচাপ বসে ছিল।


মেঘ এসে জিজ্ঞেস করল,

"মা, মন খারাপ?"


নিশি একটু চুপ করে থেকে বলল,

"একটা কথা মনে রাখিস। কেউ যদি ভাবে, তুই একা বলে তোকে যা খুশি বলা যায়, তখন চুপ করে থাকবি না। নিজের সম্মান নিজেকেই রক্ষা করতে হয়। কেউ এসে রক্ষা করে দিয়ে যাবে না।"


মেঘ কিছু বলল না। শুধু মায়ের হাতটা ধরে বসে রইল। পাশে বসে থাকা মিশিও চুপ করে ছিল।


হয়তো ওরা পুরোটা বুঝতে পারেনি। কিন্তু মায়ের মুখের ক্লান্তিটা ঠিকই বুঝেছিল।


সময়ের সঙ্গে নিশি এই দৃষ্টিগুলোর সঙ্গে চলতে শিখে গেল।


সে তিনটে নিয়ম নিজের জন্য তৈরি করে নিল।


এক, কাজের বাইরে কারও কাছে কোনো কৈফিয়ত দেবে না। দুই, অপ্রয়োজনীয় কথায় হাসিমুখে না বলে দেবে। তিন, কোনো ইঙ্গিত বা বাজে কথা শুনলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করবে, সে অফিস হোক বা পাড়া।


মানুষের কথা থামেনি। কৌতূহলও কমেনি।


তবে একটা জিনিস বদলে গিয়েছিল।


আগে এসব শুনে সে কষ্ট পেত। এখন আর নিজের মূল্য মানুষের কথায় মাপে না।


অভিক মারা যাওয়ার পর নিশির জীবন বদলেছিল। কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি বদলে গিয়েছিল মানুষের দৃষ্টি।


সেই দৃষ্টির সঙ্গেই তাকে প্রতিদিন পথ চলতে হয়েছে।


আর চলতে চলতেই সে বুঝে গেছে, একজন নারীকে দুর্বল করে না তার একাকীত্ব। দুর্বল করে সেই সমাজ, যে তাকে মানুষ হিসেবে দেখার আগে তার পরিচয়ের বিচার করতে বসে।


চলবে.........গল্প-৬ : চাকরির দরজা (নিশির ইচ্ছে করছিল বলে, "এত বছর একা হাতে সংসারের চাপ সামলেছি, অফিস কি তার চেয়েও কঠিন?")

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1129 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22802। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4245
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিশির দিনগুলো গল্প-১০ : নতুন সকাল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সব হারিয়েও [...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৯ : সমাজের বিচার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ একজন বিধবা &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৮ : একাকী রাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ দিনের ভিড়ে সে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৭ : ঈদের দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সবাই যখন নতুন কা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

নিশির দিনগুলো গল্প-৬ : চাকরির দরজা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ স্বামী হারানোর পর সে শুধু একজন বিধবা হয়ে থাকল না, হয়ে গেল একজন চাকরিপ্রার্থীও। অভিক চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস নিশ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    66 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...