Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিশির দিনগুলো গল্প-৩ : উত্তরাধিকার

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (22,802 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিশির দিনগুলো

গল্প-৩ : উত্তরাধিকারimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

১৫ জুলাই, ২০২৬


স্বামী বেঁচে থাকতে যে ঘরটা নিজের ছিল, তার মৃত্যুর পর সেই ঘরেই সে হয়ে গেল অতিথি।


অভিক চলে যাওয়ার এক মাসও হয়নি।


বাড়িতে তখনও আত্মীয়-স্বজনের আসা-যাওয়া চলছে। সেই ভিড়ের মধ্যেই নিশি টের পেল, বাড়িটার বাতাস যেন বদলে গেছে।


একদিন রান্নাঘরে গিয়ে দেখল, আলমারির চাবিটা আর আগের জায়গায় নেই।


বড় জা বললেন,

"চাবিটা এখন থেকে আমার কাছে থাকবে। সব হিসাব আমরাই দেখব।"


নিশি কিছু বলল না। ভাবল, হয়তো কয়েক দিনের জন্য।


কিন্তু দিন গড়াতে লাগল, আর সে বুঝতে পারল, এটা কয়েক দিনের ব্যাপার নয়।


যে রান্নাঘরে এত বছর নিজের ইচ্ছে মতো রান্না করেছে, সেখানে এখন কিছু করতে গেলেও অনুমতি নিতে হয়।


একদিন মিশি এসে বলল,

"মা, আমাদের ঘরের পর্দা কে বদলে দিল?"


নিশি তখন খেয়াল করল, আলমারির জায়গাটাও বদলে গেছে। অভিকের বইগুলো আর আগের তাকে নেই।


কেউ তাকে কিছু জানায়নি।


একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো তার। মনে হলো, সে এই বাড়িতেই আছে, কিন্তু এই বাড়ির কেউ আর সে নয়।


কয়েক দিন পর বড় ভাশুর ডাকলেন।


টেবিলের ওপর কয়েকটা কাগজ রাখা।


"এখানে সই করে দাও।"


নিশি কাগজের দিকে তাকিয়ে বলল,

"কীসের কাগজ?"


"এত কিছু তোমার জানার দরকার নেই। বাড়ির ব্যাপার।"


নিশি কাগজটা আস্তে করে নামিয়ে রাখল।


"না জেনে আমি কোনো কাগজে সই করব না।"


সেদিন থেকেই সম্পর্কটা আর আগের মতো রইল না।


কথা কমে গেল। খাওয়ার সময় কেউ আর ডাকত না। মাঝে মাঝে এমনও হতো, নিশি আর তার দুই মেয়ে খেয়েছে কি না, সেটা কারও মনেই থাকত না।


মেঘ সব বুঝত। কিন্তু কিছু বলত না।


এক রাতে সে ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করল,

"মা... আমাদের কি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে?"


নিশি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে পারল না। কারণ সে নিজেও জানত না, সামনে কী আছে।


অভিক বেঁচে থাকতে এসব নিয়ে কোনোদিন ভাবতে হয়নি। জমির কাগজ, নামজারি, উত্তরাধিকার, আইনের মারপ্যাঁচ, সব অভিকই সামলাত।


এখন সে বুঝল, কিছুই সে জানে না। আর না জানাটাই তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।


পরদিন সে অফিসে গেল না। সোজা গেল একজন নারী আইনজীবীর কাছে।


সেখানে বসে প্রথমবারের মতো সে জানল, আইন তাকে ফেলে দেয়নি।


আইনজীবী তাকে বুঝিয়ে বললেন, স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে স্ত্রী হিসেবে তার অধিকার আছে, দুই মেয়ের অধিকার আছে। কেউ চাইলেই কাগজে সই করিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যু সনদ, সব কাগজপত্র নিজের কাছে রাখতে হবে। কোনো কাগজ না পড়ে সই করা যাবে না।


বাড়ি ফিরে নিশি আর আগের মতো চুপ করে থাকল না।


সেদিন সন্ধ্যায় সবাই বসে ছিল। সে শান্ত গলায় বলল,

"আমি কারও সম্পত্তি নিতে চাই না। কিন্তু অভিকের স্ত্রী হিসেবে এবং মেঘ আর মিশির মা হিসেবে আমাদের যা প্রাপ্য, সেটা আমি ছেড়ে দেব না। এটা দয়া নয়, এটা আমাদের অধিকার।"


কিছুক্ষণ ঘরে নিস্তব্ধতা নেমে এল।


তারপর শুরু হলো মনোমালিন্য। কেউ মুখ ফিরিয়ে নিল। কেউ কথা বলা বন্ধ করে দিল। কেউ বলল, "শেষ পর্যন্ত টাকার জন্য?"


নিশি আর তর্ক করল না। সে আইনের পথেই হাঁটল। কাগজপত্র গুছিয়ে নিজের আর মেয়েদের নামে যা প্রাপ্য, তা বুঝে নিল। সে কারও সঙ্গে ঝগড়া করল না, শুধু নিজের অধিকার থেকে সরে দাঁড়াল না।


কয়েক মাস পর সে একটা ছোট বাসা ভাড়া নিল।


যেদিন বাড়ি ছাড়ছে, মিশি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

"মা, আমরা কি হেরে গেলাম?"


নিশি মেয়ের হাতটা শক্ত করে ধরল।


"না মা। হেরে গেলে আমরা মাথা নিচু করে অন্যায়টা মেনে নিতাম। আমরা হারিনি। আমরা নিজের মতো করে বাঁচতে বের হচ্ছি।"


নতুন বাসায় খুব বেশি কিছু ছিল না। একটা পুরোনো খাট, কয়েকটা চেয়ার আর দেয়ালে অভিকের হাসিমুখের ছবিটা।


কিন্তু অনেক দিন পর নিশির মনে হলো, এই ঘরে অন্তত কেউ তার অনুমতি ছাড়া আলমারির চাবি নেবে না। কেউ তার মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না।


সেদিন সে বুঝেছিল, উত্তরাধিকার মানে শুধু জমি বা বাড়ি নয়।


আত্মসম্মানও এক ধরনের উত্তরাধিকার। সেটা একবার হারিয়ে ফেললে, আর কিছুই সত্যিকারের নিজের থাকে না।


চলবে.........গল্প-৪ : সন্তানের জন্য(একদিন পাশের বাড়ির একজন বললেন,

"দুই মেয়েকে এত পড়িয়ে কী হবে? শেষ পর্যন্ত তো বিয়েই দিতে হবে।")

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1129 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22802। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4243
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিশির দিনগুলো গল্প-১০ : নতুন সকাল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সব হারিয়েও [...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৯ : সমাজের বিচার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ একজন বিধবা &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৮ : একাকী রাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ দিনের ভিড়ে সে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৭ : ঈদের দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সবাই যখন নতুন কা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

নিশির দিনগুলো গল্প-৬ : চাকরির দরজা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ স্বামী হারানোর পর সে শুধু একজন বিধবা হয়ে থাকল না, হয়ে গেল একজন চাকরিপ্রার্থীও। অভিক চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস নিশ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    66 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...