Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিশির দিনগুলো পর্ব - ১ : বিধবার সাদা শাড়ি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (22,802 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "উপন্যাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিশির দিনগুলো

পর্ব - ১ : বিধবার সাদা শাড়ি

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

১৫ জুলাই, ২০২৬


স্বামী মারা যাওয়ার পর সবাই নিশির চোখের জল দেখেছিল। কিন্তু তার ভেতরে যে স্বপ্নগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল, তার খবর কেউ রাখেনি।


অভিক চলে যাওয়ার দিনটা নিশির কাছে আজও একটা দুঃস্বপ্ন। হাসপাতালের করিডরে ডাক্তার এসে শুধু বলেছিলেন, "আমরা আর পারলাম না।"


তারপর কী হয়েছিল, সবটা তার মনে নেই। শুধু মনে আছে, বাড়ি ফিরে দরজা খুলতেই চৌকাঠের পাশে রাখা অভিকের জোড়া স্যান্ডেলটা চোখে পড়েছিল। তখনই প্রথম বুঝেছিল, একজন মানুষ চলে গেলে শুধু একজন মানুষ হারায় না, একটা আস্ত পৃথিবী হারিয়ে যায়।


তখন বড় মেয়ে মেঘ ক্লাস সেভেনে পড়ে। ছোট মিশি পড়ে ক্লাস টু-তে। ওরা বুঝতে পেরেছিল, বাবা আর ফিরবে না। কিন্তু মৃত্যু শব্দটার ওজন ঠিক কতটা, তা বোঝার বয়স তখনও ওদের হয়নি।


প্রথম কয়েক দিন বাড়িটা মানুষে ভরা ছিল।


"নিশি, শক্ত হও।"

"মেয়েদের মুখের দিকে তাকাও।"

"অভিক খুব ভালো মানুষ ছিল।"


তারপর ধীরে ধীরে সবাই যে যার জীবনে ফিরে গেল। শুধু নিশির জীবনটাই আর আগের মতো রইল না।


সংসারের খরচ তো থেমে থাকে না। বাড়ি ভাড়া, বাজারের থলে, মেঘের স্কুলের বেতন, মিশির বই-খাতা, সব আগের মতোই থেকে গেল। শুধু মাস শেষে অভিকের হাতে করে বাজার নিয়ে ঘরে ফেরাটা বন্ধ হয়ে গেল।


একদিন রাতে খেতে বসে মিশি হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,

"মা, বাবা কি আকাশ থেকে আমাদের দেখতে পায়?"


নিশির হাত থেমে গেল। ভাতের থালায় আঙুলগুলো আটকে রইল। গলাটা শুকিয়ে এল।


সে হেসে বলল, "পায় তো মা। সব দেখতে পায়।"


সেদিন রাতে নিশির বালিশ ভিজে গিয়েছিল। কিন্তু মেয়েদের সামনে সে এক ফোঁটা চোখের জল ফেলেনি।


অভিকের রেখে যাওয়া সামান্য সঞ্চয় কয়েক মাসেই ফুরিয়ে গেল।


এক আত্মীয় একদিন এসে বললেন, "দুই মেয়ে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখার কী আছে? যেমন করে পারো, বড় করে দাও।"


কথাটা কাঁটার মতো বিঁধে রইল নিশির বুকে।


সেদিনই সে আলমারির ভেতর থেকে নিজের পুরোনো সার্টিফিকেটগুলো বের করল। অভিক একদিন বলেছিল, "কোনোদিন যদি দরকার হয়, তুমি ঠিক পারবে। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখো।"


সেই একটা কথাই তাকে নতুন করে দাঁড়াতে শিখিয়েছিল।


চাকরি খুঁজতে গিয়ে কম অপমান সহ্য করতে হয়নি তাকে।

কোথাও শুনতে হয়েছে, "এতদিন তো সংসার সামলেছেন, এখন অফিসের কাজ পারবেন?"

আবার কোথাও তার যোগ্যতার চেয়ে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই প্রশ্ন বেশি হয়েছে।


প্রতিদিন ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরত। কিন্তু দরজা খুলেই হাসিমুখে বলত,

"মেঘ, তোর পড়া হলো?"

"মিশি, আজ স্কুলে কী শিখলি?"


সে চাইত না, মেয়েরা কোনোদিন বুঝুক, তাদের মা বাইরে সারাদিন কতটা লড়াই করে এসেছে।


অনেক চেষ্টার পর একটা ছোট প্রতিষ্ঠানে চাকরি হলো তার। বেতন খুব বেশি ছিল না। কিন্তু প্রথম মাসের টাকাটা হাতে নিয়ে মনে হলো, অভিক না থাকলেও সে সংসারের হাল ছেড়ে দেয়নি। সে পেরেছে।


তবু মানুষের কথা থামল না।


একবার ঈদের আগে মেঘ জোর করে মাকে একটা হালকা নীল শাড়ি কিনে দিল।


পাশের বাড়ির এক মহিলা সেটা দেখে বলে ফেললেন, "বিধবা মানুষের আবার রঙিন শাড়ি?"


নিশি সেদিন শুধু মৃদু হেসেছিল, কিছু বলেনি।


রাতে শাড়িটা ভাঁজ করতে করতে সে মনে মনে বলেছিল, "আমার শাড়ির রঙে যদি কারও আপত্তি থাকে, সে আপত্তি তার। আমার দুই মেয়ের মুখে হাসি থাকলেই আমার ঈদ হয়।"


এভাবেই বছর কেটে গেল।


একদিন মেঘ দৌড়ে এসে খবর দিল, সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিছুদিন পর মিশিও বৃত্তি পেল।


সেদিন দুই মেয়েকে পাশে বসিয়ে নিশি অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল। কোনো কথা বলতে পারছিল না।


গভীর রাতে সে অভিকের ছবিটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আস্তে করে বলল,

"দেখো অভিক, আমি কথা রেখেছি। মেঘ আর মিশিকে আমি কারও কাছে মাথা নত করতে দিইনি। তুমি না থাকলেও তোমার স্বপ্নগুলো আমি বাঁচিয়ে রেখেছি।"


ঘরটা তখন একেবারে নীরব।


তবু নিশির মনে হলো, অভিক যেন খুব কাছেই কোথাও দাঁড়িয়ে আছে। আর মৃদু হেসে বলছে, "আমি জানতাম, তুমি পারবে।"


মানুষ আজও তাকে বিধবা বলে ডাকে।


কিন্তু মেঘ আর মিশির কাছে সে শুধু বিধবা নয়। সে তাদের মা। যে নিজের সব কান্না আড়াল করে দুই মেয়ের জন্য একটা নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছে।


তাই সাদা শাড়ি তার পরিচয় নয়।


তার আসল পরিচয়, দুই মেয়ের হাত শক্ত করে ধরে হার না মানা এক মায়ের গল্প।


চলবে......গল্প-২ : দ্বিতীয় বিয়ের প্রশ্ন(আসল প্রশ্ন হলো, একজন বিধবা নারী নিজের জীবন নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, আমরা কি সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে পারি?)image

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1129 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22802। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4241
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নিশির দিনগুলো গল্প-১০ : নতুন সকাল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সব হারিয়েও [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৯ : সমাজের বিচার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ একজন বিধবা &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৮ : একাকী রাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ দিনের ভিড়ে সে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশির দিনগুলো গল্প-৭ : ঈদের দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ সবাই যখন নতুন কা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

নিশির দিনগুলো গল্প-৬ : চাকরির দরজা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ১৫ জুলাই, ২০২৬ স্বামী হারানোর পর সে শুধু একজন বিধবা হয়ে থাকল না, হয়ে গেল একজন চাকরিপ্রার্থীও। অভিক চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস নিশ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    66 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...