নীরব মানুষটার শেষ সীমা
পর্ব–৭ : নিশির সবচেয়ে বড় ভুল
একটি ধারাবাহিক গল্প
লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
১০ জুলাই, ২০২৬
“নিশি ভেবেছিল, অভিক কখনো তাকে ছেড়ে যাবে না।”
এই বিশ্বাসটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ভুল।
অভিক তো কখনো রাগ করে বাড়ি ছেড়ে যায়নি।
কখনো গলা উঁচু করেনি।
কখনো বলেনি, “আমি আর পারছি না।”
তাই নিশির মনে হয়েছিল, মানুষটা এমনই।
যা-ই হোক, থেকে যাবে।
সেই বিশ্বাস থেকেই হয়তো যত্নটা ধীরে ধীরে কমে গেল।
কথা বলার ভঙ্গি বদলে গেল।
ধন্যবাদ দেওয়া বন্ধ হলো।
সরি বলাও।
একদিন অভিক অফিস থেকে ফিরতেই নিশি বলল,
“বাজারটা করে এনেছ?”
“না। আজ অফিসে একটু দেরি হয়ে গেছে।”
“একটা কাজও ঠিকমতো করতে পারো না।”
অভিক চুপ করে নিজের ঘরে চলে গেল।
আগে হলে হয়তো বলত,
“আজ সত্যিই খুব চাপ ছিল।”
এখন আর সে নিজের পক্ষেও কথা বলে না।
আরেকদিন রাতে খেতে বসে অভিক বলল,
“অনেক দিন কোথাও যাওয়া হয় না। যদি একদিন বাইরে ঘুরে আসতাম...”
নিশি না তাকিয়েই বলল,
“এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই। সংসারটা আগে দেখো।”
কথাটা সেখানেই শেষ।
আসলে অনেক দিন ধরেই তাদের সব কথার শেষ খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যেত।
এক রাতে অভিক বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।
নিশি পাশ দিয়ে গেল।
খেয়ালই করল না, মানুষটা অনেকক্ষণ ধরে একা দাঁড়িয়ে আছে।
এক সময় তো এই মানুষটার মন খারাপ হলেই সে পাশে গিয়ে দাঁড়াত।
কবে যে সেই অভ্যাসটা হারিয়ে গেল...
কেউ বুঝতে পারেনি।
নিশিও না।
অভিকও আর মনে করিয়ে দেয়নি।
যে মানুষ বারবার অবহেলিত হয়, সে একসময় চাওয়াটাই ছেড়ে দেয়।
তারপর একদিন...
থাকাটাও।
যেদিন অভিক সত্যিই চলে গেল, নিশি অনেকক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে ছিল।
তার বিশ্বাসই হচ্ছিল না।
যে মানুষটা এত বছর ধরে সবকিছু চুপচাপ মেনে নিয়েছে...
সে সত্যিই চলে যেতে পারে?
সেদিনই প্রথমবার নিশির মনে হলো—
মানুষকে হারানোর আগে তার দাম বোঝা যায় না।
আর কিছু সম্পর্ক ভাঙে একদিনে না।
প্রতিদিন একটু একটু করে।
চলবে...
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
একটা সম্পর্কে সবচেয়ে বড় ভুল কী? মানুষকে নিশ্চিত ধরে নেওয়া, নাকি তাকে সম্মান করতে ভুলে যাওয়া? আপনার মতামত জানাতে পারেন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।