নীরব মানুষটার শেষ সীমা
পর্ব–৫ : অহংকারের সংসার
একটি ধারাবাহিক গল্প
লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
১০ জুলাই, ২০২৬
“‘তুমি আমার ছাড়া কিছুই না।’
কথাটা নিশি রাগের মাথায় বলেছিল।
হয়তো বলেই ভুলে গিয়েছিল।
কিন্তু অভিক ভুলতে পারেনি।
কিছু কথা চিৎকার করে বলতে হয় না।
একবার বললেই যথেষ্ট।”
সেদিন রাতের পর থেকে অভিক নিজের ভেতরে কেমন যেন গুটিয়ে গেল।
এরপর প্রায়ই এমন হতো।
কোনো বিষয়ে দুজনের মত না মিললেই নিশি বলত,
“তোমাকে নিয়ে না থাকলে তুমি কিছুই সামলাতে পারতে না।”
অথবা,
“আমার জন্যই মানুষ হয়েছ।”
আগে এসব শুনলে অভিক প্রতিবাদ করত।
পরে শুধু চুপ করে থাকত।
কারণ সে বুঝে গিয়েছিল, নিজের সম্মান নিয়ে তর্ক করা যায় না।
ওটা হয় থাকে, না হয় থাকে না।
একদিন অফিস থেকে ফিরে একটা ছোট্ট সাফল্যের কথা বলতে গিয়েছিল।
বস তার কাজের প্রশংসা করেছেন।
কথাটা শেষ করার আগেই নিশি বলল,
“অফিসে দুটো প্রশংসা করলেই এত খুশি হওয়ার কী আছে?”
কথাটা শুনে অভিক আর কিছু বলেনি।
সেদিন প্রথমবার সে বুঝল, তার আনন্দেরও যেন কোনো দাম নেই।
ধীরে ধীরে সে সুখের খবরও বলা বন্ধ করে দিল।
কষ্টের কথাও না।
কারণ দুটোরই শেষ উত্তর প্রায় একই হতো।
একদিন আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো—
শেষ কবে কেউ তাকে সম্মান নিয়ে কথা বলেছে?
মনে পড়ল না।
ভালোবাসা শুধু পাশে থাকার নাম না।
ভালোবাসা মানে এমন একটা জায়গা, যেখানে মানুষ নিজের মতো কথা বলতে পারে, ভুল করতে পারে, ছোট হতে পারে—তবু নিজের সম্মান হারায় না।
সেই জায়গাটা তাদের সংসার থেকে অনেক আগেই হারিয়ে গিয়েছিল।
শুধু কেউ সেটা বুঝতে পারেনি।
অভিকও না।
নিশিও না।
চলবে...
পাঠকের কাছে প্রশ্ন:
একটা সম্পর্কে ভালোবাসার চেয়ে সম্মান কি বেশি জরুরি? নাকি দুটো একে অপরকে ছাড়া অসম্পূর্ণ? আপনার মতামত জানাতে পারেন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।