Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৯ বন্ধ দরজা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (22,177 পয়েন্ট)   58 মিনিট পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার

গল্প-৯

বন্ধ দরজাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প

৯, জুলাই, ২০২৬


বাড়ির দোতলার শেষ ঘরটা পাঁচ বছর ধরে বন্ধ।


দরজার গায়ে ধুলো জমেছে। তালায় মরিচা। তবু প্রায় প্রতি রাতেই, ঠিক তিনটার দিকে, একটা শব্দ ভেসে আসে।


ঘষ...


ঘষ...


যেন কেউ কাঠের একটা চেয়ার ধীরে ধীরে টেনে সরাচ্ছে।


প্রথম কয়েক দিন অভিক ভেবেছিল, পুরোনো বাড়ি। কাঠ ফুলে-ফেঁপে এমন শব্দ হতেই পারে।


কিন্তু প্রতিদিন একই সময়ে?


একদিন নাশতার টেবিলে কথাটা তুলতেই ঘরে হঠাৎ নীরবতা নেমে এল।


মা শুধু বললেন,


— ও ঘর নিয়ে আর কথা বলিস না।


বড় চাচা চায়ের কাপ নামিয়ে বললেন,


— পুরোনো বাড়িতে কত রকম শব্দ হয়।


এরপর আর কেউ কিছু বলল না।


বিষয়টা যেন সেখানেই শেষ।


কিন্তু অভিকের মাথা থেকে নামল না।


সেই রাতেই নিশিকে নিয়ে দোতলায় উঠে গেল।


দুজনেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে।


ঘড়িতে তিনটা বাজতেই আবার...


ঘষ...


ঘষ...


নিশি এবার অভিকের দিকে তাকাল।


কিছু বলল না।


তারও শোনা হয়েছে।


পরদিন অভিক বাড়ির পুরোনো কেয়ারটেকার করিম চাচার কাছে গেল।


লোকটা অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন।


তারপর বললেন,


— ওই ঘরে একসময় তোমার দাদু থাকতেন।


এর বেশি আর একটা কথাও বের করা গেল না।


বাড়িতে ফিরে অভিক বুঝল, সবাই যেন ইচ্ছে করেই বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছে।


যেন দরজার ওপাশে শুধু একটা ঘর না, অনেক দিনের চেপে রাখা একটা স্মৃতিও আটকে আছে।


নিশি বলল,


— শব্দটার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সবাই এটা নিয়ে কথা বলতে চায় না কেন?


কথাটা মাথায় গেঁথে গেল।


কয়েক দিন পর স্টোররুমে পুরোনো জিনিসপত্র ঘাঁটতে গিয়ে অভিক একটা অ্যালবাম পেল।


একটা ছবিতে দাদু জানালার পাশে বসে বই পড়ছেন।


নিচে কাঠের একটা দোলচেয়ার।


ছবিটা হাতে নিয়েই অভিকের বুকের ভেতর কেমন যেন কেঁপে উঠল।


ঠিক এই রকম শব্দই তো তারা রাতে শুনছে।


সে ছবিটা নিয়ে মায়ের কাছে গেল।


মা অনেকক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।


তারপর আস্তে বললেন,


— শেষ তিন বছর উনি ওই ঘরেই ছিলেন।


বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি হারাতে শুরু করেছিলেন।


রাতে ঘুম ভেঙে যেত।


চেয়ারটা টেনে জানালার কাছে নিয়ে বসে থাকতেন।


— কার জন্য?


মা উত্তর দিলেন না।


শুধু চোখ নামিয়ে রাখলেন।


সেদিন রাতে বড় চাচা নিজেই অভিকের ঘরে এলেন।


হাতে একটা পুরোনো ডায়েরি।


— এবার তোর জানার সময় হয়েছে।


ডায়েরির শেষের পাতাগুলো কাঁপা হাতে লেখা।


"আজও মনে হয়, ও ফিরে আসবে। তাই জানালার পাশে বসে থাকি।"


আরেক পাতায়—


"সেদিন রাগ করে দরজাটা আমিই বন্ধ করেছিলাম। যদি আর একবার খুলে দিতাম..."


অভিক মাথা তুলে তাকাল।


— ও মানে?


বড় চাচা ধীরে বললেন,


— আমার ছোট ভাই।


তোর ছোট কাকা।


বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।


রাগের মাথায় বাবা বলেছিলেন, "এই বাড়ির দরজা আর তোর জন্য খুলবে না।"


তিন দিন পর খবর এল, সড়ক দুর্ঘটনায় ও মারা গেছে।


অনেকক্ষণ কেউ কথা বলল না।


তারপর বড় চাচা বললেন,


— আইন বাবাকে দোষী করেনি। কিন্তু উনি নিজেকে কোনো দিন ক্ষমা করতে পারেননি।


প্রতি রাতে ওই চেয়ার টেনে জানালার পাশে বসতেন।


মনে করতেন, যদি ছেলে ফিরে আসে...


দাদুর মৃত্যুর পর ঘরটা আর খোলা হয়নি।


পরদিন সকালে তালা খোলা হলো।


ঘরে ঢুকতেই পুরোনো কাঠ আর বন্ধ ঘরের গন্ধ।


জানালার পাশে সেই দোলচেয়ার।


নিশি এগিয়ে গিয়ে হাত রাখতেই চেয়ারটা একটু নড়ে উঠল।


ঘষ...


দুজনেই একসঙ্গে তাকাল।


চেয়ারের একটা পা ভেঙে গেছে।


জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকলেই কাঠে ঘষা লাগে।


বছরের পর বছর তারা যে শব্দ শুনেছে, সেটার উৎস এটাই।


অভিক চেয়ারটার দিকে তাকিয়ে রইল।


তার মনে হলো, এত দিন শব্দটা শুধু কাঠের ছিল না।


এই বাড়ির প্রত্যেক মানুষ নিজের ভেতরে সেই শব্দ বয়ে বেড়াচ্ছিল।


ঘর থেকে বেরিয়ে আসার আগে বড় চাচা দরজায় হাত রেখে বললেন,


— ভাবতাম, ঘরটা বন্ধ রাখলে হয়তো কষ্টটাও ভেতরে আটকে থাকবে।


ভুল ভেবেছিলাম।


সেদিন রাতেও তিনটা বেজেছিল।


অভিকের ঘুম ভাঙল।


সে কিছুক্ষণ চুপ করে শুয়ে রইল।


কোনো শব্দ এল না।


নিশি ফিসফিস করে বলল,


— আজ খুব চুপচাপ লাগছে, না?


অভিক জানালার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।


— হ্যাঁ।


তারপর খুব আস্তে বলল,


— কিছু দরজা বাইরে থেকে বন্ধ থাকে।


আর কিছু দরজা খুলতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে মানুষের নিজের ভেতরে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1098 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22177। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4218
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-১০ শেষ সাক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯ জুলাই, &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৮ পলকহীন চোখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৭ দেয়ালের ওপাশে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৬ অচেনা আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৫ ৩০৭ নম্বর কক্ষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    708 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    35 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...