Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-২ বারোটার ফোন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (22,177 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার

গল্প-২

বারোটার ফোন

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প

৯, জুলাই, ২০২৬

রাত ঠিক বারোটা।

ফোনের শব্দে অভিকের ঘুম ভেঙে গেল।

এত রাতে ফোন আসা নতুন কিছু নয়, কিন্তু স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটা দেখে তার হাত থেমে গেল।

রিয়াদ।

এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, ফোনটা ভুল দেখাচ্ছে।

আবার তাকাল।

না, ভুল নয়।

এই নামটা সে শেষ দেখেছিল পাঁচ বছর আগে।

রিয়াদ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার দিন।

সেদিন হাসপাতালেও ছিল অভিক। জানাজায়ও। কবর দেওয়ার সময় শেষ মুঠো মাটিটাও সে ফেলেছিল।

তবু আজ, রাত বারোটায়, ফোন করছে রিয়াদ।

অভিক ধীরে ধীরে কলটা রিসিভ করল।

— হ্যালো...

ওপাশে কোনো কথা নেই।

শুধু যেন খুব আস্তে কেউ শ্বাস নিচ্ছে।

কয়েক সেকেন্ড পর লাইন কেটে গেল।

ফোনটা হাতে নিয়েই বসে রইল অভিক।

কিছুক্ষণ পর নিজের অজান্তেই কল-লগ খুলে দেখল।

নম্বরটাও ঠিক রিয়াদেরটাই।

পরের রাতেও একই সময়ে ফোন এল।

তার পরের রাতেও।

প্রতিবার একই ঘটনা।

কল ধরলে নীরবতা।

তারপর লাইন কেটে যায়।

চতুর্থ দিন অফিসে বসে একটা হিসাব তিনবার মিলিয়েও ভুল করল।

বস অবাক হয়ে বললেন,

— সব ঠিক আছে তো?

অভিক শুধু মাথা নাড়ল।

আসলে কিছুই ঠিক ছিল না।

বাড়ি ফিরে নিশি বুঝে গেল।

খাবারের প্লেট সামনে রেখেও অভিক চুপচাপ বসে আছে।

— কী হয়েছে?

প্রথমে এড়িয়ে গেল।

তারপর একসময় সব বলল।

নিশি মন দিয়ে শুনল।

কোনো মন্তব্য করল না।

শুধু বলল,

— নম্বরটা এখন কার নামে আছে, সেটা জানা যায় না?

পরদিন খোঁজ নিয়ে জানা গেল, রিয়াদের মৃত্যুর দুই বছর পর নম্বরটা আবার চালু হয়েছে।

অন্য একজনের নামে।

তবু প্রশ্নটা থেকে গেল।

ঠিক রাত বারোটায় কেন?

আর ফোন ধরলে মানুষটা চুপ করে থাকে কেন?

নিশিই বলল,

— চল, মানুষটার সঙ্গে দেখা করি।

দুই দিন পর তারা শহরের পুরোনো এক মহল্লায় পৌঁছাল।

ছোট্ট একতলা বাড়ি।

দরজা খুললেন এক বৃদ্ধ।

অভিক নম্বরটার কথা বলতেই তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।

তারপর ধীরে বললেন,

— ভেতরে আসো।

ঘরে ঢুকেই অভিকের চোখ পড়ল দেয়ালে টাঙানো একটা ছবিতে।

রিয়াদ।

একই হাসি।

একই চোখ।

বৃদ্ধ ছবিটার দিকে তাকিয়ে বললেন,

— ও আমার ছেলে।

কথাটা বলার সময় তাঁর গলায় কোনো নাটকীয়তা ছিল না।

শুধু ক্লান্তি।

অভিক আস্তে করে জিজ্ঞেস করল,

— এই নম্বরটা... এখনো রাখছেন?

বৃদ্ধ হালকা মাথা নাড়লেন।

— পারিনি ছাড়তে।

অনেকেই বলেছে নতুন নম্বর নিতে। মনে হয়েছে, এটা ছেড়ে দিলে ছেলের শেষ চিহ্নটাও হারিয়ে যাবে।

কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি আবার বললেন,

— মাঝে মাঝে ওর বন্ধুদের ফোন করি।

কিন্তু কথা বলতে পারি না।

জানি না কী বলব।

শুধু জানতে ইচ্ছে করে... কেউ কি এখনো ওকে মনে রেখেছে?

অভিকের বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে উঠল।

বৃদ্ধ মানুষটা জানালার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

ধীরে ধীরে বললেন,

— শেষ কয়েক দিন ছেলেটা খুব অস্থির ছিল। বারবার বলছিল, সবকিছু ঠিকঠাক লাগছে না। তারপর এক রাতে খবর এল—দুর্ঘটনা।

এরপর আর কিছুই প্রমাণ করতে পারিনি।

ঘরের ভেতর আবার নীরবতা নেমে এল।

নিশি চুপচাপ বসে ছিল।

তার মনে হলো, এই মানুষটা এত বছর ধরে উত্তর খুঁজছেন না।

তিনি শুধু এমন কাউকে খুঁজছেন, যে এখনো রিয়াদের নাম শুনে থেমে যাবে।

ফিরে আসার পথে গাড়িতে কেউ কথা বলছিল না।

অনেকটা পথ পেরিয়ে নিশি বলল,

— শোকটা বোধহয় সবচেয়ে ভারী হয়, যখন সেটা কাউকে বলা যায় না।

অভিক জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।

মনে হচ্ছিল, পাঁচ বছর আগে রিয়াদকে নয়, তার চারপাশের মানুষগুলোকেও যেন সবাই একটু একটু করে হারিয়ে ফেলেছিল।

সেদিন রাতেও ঘড়িতে বারোটা বাজল।

ফোন আর এল না।

অভিক নিজেই নম্বরটা ডায়াল করল।

ওপাশ থেকে বৃদ্ধ মানুষটার গলা ভেসে এল।

— হ্যালো...

অভিক আস্তে বলল,

— চাচা, আমি অভিক।

আপনি যদি কখনো কথা বলতে চান... ফোন করবেন।

আমি ধরব।

ওপাশে অনেকক্ষণ কোনো শব্দ ছিল না।

তারপর খুব চাপা একটা কান্না।

অভিক ফোনটা কানে ধরে রইল।

সেদিন সে বুঝেছিল, সব নীরবতার পেছনে রহস্য থাকে না।

কিছু নীরবতার ভেতরে শুধু একজন বাবার না-বলা কথাগুলো জমে থাকে।
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1098 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 22177। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4211
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-১০ শেষ সাক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯ জুলাই, &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৯ বন্ধ দরজা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৮ পলকহীন চোখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৭ দেয়ালের ওপাশে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৬ অচেনা আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    708 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    35 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...