সংশোধন
ইসলামিক ধারাবাহিক গল্প
৬ষ্ট_পর্ব
📃আগে বলো ভালোবাসবে না কেন?
: কারণ বিয়ের আগে প্রেম মারাত্মক গুনাহ।
--গুনাহ হবে কেন? আমরা কখনো খারাপ কিছু বলবো না বা করবো না। ডেট করবো না। সময় হলেই বিয়ে করবো এতে গুনাহের কী আছে?
: আছে, অনেক কিছুই আছে। সে তুমি বুঝবে না!
-- আজব! বুঝব না মানে কী। বুঝতে চাই তো।
: এত গরম মেজাজ নিয়ে কিছু বুঝা যায় না। আগে মেজাজ শান্ত করো। আর রাগ কমাও কারণ রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে।
.
"রাসুল (স

বলেন , ‘যখন তোমাদের কারো রাগ আসে, তখন সে দাঁড়িয়ে থাকলে যেন বসে পড়ে। তাতে যদি রাগ দমে না যায় তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে।’ (তিরমিজি)।
.
অপর হাদীসে এসেছে, রাসুল ( স

বলেন, ‘রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে, শয়তানকে তৈরি করা হয়েছে আগুন থেকে। আগুন নির্বাপিত হয় ঠাণ্ডা পানি দ্বারা। ঠাণ্ডা পানি পান করলে রাগের কারণে রক্তে যে উষ্ণতা সৃষ্টি হয় সেই উষ্ণ ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। এভাবে রাগ পড়ে যাবে। (আবু দাউদ)।"
.
রাগ উঠলেই অজু করবে সাথে সাথে।
-- ওহ হ্যাল্লো, আমি রাগী নই, অভিমানী। আর হ্যা, আমি যাদের ভালোবাসি শুধু তাদের সাথেই অভিমান করি। আমি তোমায় ভালোবাসি বলেই অভিমান করি।
: এভাবে করলে কী যে করি,,,,,
আহ! ওর চেহারাটা কত যে মিষ্টি লাগছিলো!
একটু দুষ্টু হেসে বললাম,
--কিছুই করতে হবে না, জাস্ট একটু মিষ্টি করে বলো না। দেখো কতো শান্ত হয়ে গেছি। শুধু শান্ত নয়, তোমাকে ভালোবেসে, সাথে নিয়ে আগুনেও লাফ দিতে পারি।
: আমাকে ভালোবেসে আগুন লাফ দেওয়া লাগবে না। আল্লাহকে ভালোবেসে আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার পথেই যেতে হবে।
-- বলো না তুমি যেভাবে বলো করবো, শুধু একবার বলো ভালোবাসি।
: বলেছি তো আমি যেভাবে বলি, করতে হবে না। আল্লাহ যেভাবে বলেছেন করতে হবে।
-- আল্লাহ তো কাউকে ভালোবাসতে নিষেধ করেননি। আর ভালোবাসাতো আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আল্লাহর হুকুমের বাইরে গাছের পাতাও পড়ে না। যাদের প্রেম করে বিয়ে হয় তাদেরও আল্লাহর হুকুমেই হয়।
: তোমায় এভাবে বুঝানো সম্ভব নয়। ওয়েট বলছি,
প্রথমত আল্লাহ ভালোবাসতে নিষেধ করেননি কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কের নারীদের ভালোবাসতে পারবে।। তার মধ্যে গায়রে মহরাম অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন,
আল্লাহ তায়ালা এ সম্বন্ধে কুরআন মজীদে বলেন:
অর্থাৎ, তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা,কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমাতা, দুধ বোন, শাশুড়ী, দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এমন স্ত্রীর অন্য ঘরের যে কন্যা তোমার লালন পালনে আছে; যদি তাদের সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত না হয় তাহলে, তাকে বিবাহ করাতে দোষ নেই। এ ছাড়া তোমাদের ঐরসজাত পুত্রের স্ত্রী, ও একত্রে দুই সহদরা বোনকে বিবাহাধীনে রাখা। তবে, আয়াত নাযিলের পুর্বে যা হয়ে গেছে তা আলাদা। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর (শরীয়ত সম্মত পন্থায় প্রাপ্ত) ক্রীতদাসী ব্যতিত বিবাহিতা (যে অন্যের বিবাহাধীনে আছে) মহিলাদেরকেও তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। এদের বাইরে যে কোন (মুসলিম বা আহলে কিতাব) মহিলাকে তোমাদের জন্য বিবাহ করা বৈধ করা হয়েছে। এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট। (সুরা নিসা: ২৩-২৪)কোরানে বর্ণিত এই নির্দিষ্ট ব্যক্তিগুলোকে ছাড়া অন্য সবাইকে বিয়ে করা যাবে অর্থাৎ এর বাইরের সবাই গায়রে মহরাম।
এরা ব্যতিত অন্যদের সাথে কথা বলা বা অন্য কিছুর ব্যপারে হাদীসে এসেছে,
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কোন গায়রে মাহরাম নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যেনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যেনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যেনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যেনা, খারাপ কথা শোনা কানের যেনা আর যেনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যেনা । অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়”। (সুত্রঃ সহীহ বুখারী শরীফঃ হা/৬২৪৩)
সুতরাং এর বাইরে সবই গুনাহ।
দ্বিতীয়ত,
বিয়ে আল্লাহর হুকুমেই হয়, আর ভালোবাসাও আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। সমস্ত জেনা থেকে দূরে থেকেই কাউকে ভালো লাগাটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তার সাথে কথা বলা যাবে না। তাকে খারাপ নিয়তে দেখা যাবে না অর্থাৎ জেনার সাথে সম্পর্কিত কিছুই করা যাবে না।
কারো মাধ্যমে বাবা বা অন্য কোন মুরুব্বীর কাছে জানানো। যেন তারা পারিবারিকভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারে।
আমাদের দেশে সমস্যা হচ্ছেঃ মেয়েরা বলতে লজ্জা পায়, আর বলে দিলে সে মেয়েকে বেহায়া বলা হয়।
যাই হোক, পারিবারিকভাবে জানানোর চেষ্টা করতে হবে।
ইসলামে বিয়ের আগে দেখা করা জায়েজ, কিছু কথা বলা জায়েজ; তবে সাথে একজন মুরুব্বী মাহারাম থাকতে হবে। একা একা কথা বলা, দেখা করা, ফোনে অযথা কথা বলা হারাম (প্রয়োজনীয় ২/৪টা কথা বলা যেতে পারে, তবে সতর্ক থাকতে হবে যে জেনা হয়ে যাচ্ছে না তো)। বাকি আল্লাহই ভালো জানেন।
তবে এক্ষেত্রে, যেহেতু বিয়ের জন্য পাত্র নির্বাচন খুব কঠিন একটা কাজ। আর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন মানে কার সাথে কে সুখী হবে তা শুধু আল্লাহই ভালো জানেন, তাই এক্ষেত্রে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নেয়াই ভালো।
এর সাথে এভাবেই দোয়া করা উচিৎ যে, আমি অমুককে পছন্দ করি, সে যদি আমার জন্য কল্যাণকর হয়, আমাকে জান্নাতে নিয়ে যেতে সহায়তাকারী হয়, তবে আমাদের বিয়ে তুমি সহজ করে দাও।
আল্লাহ্ সব কিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন। দোয়ার মাধ্যমে এটা পাওয়া সহজ হবে। তাই যার সাথে বিয়ে লেখা আছে তার সাথে বিয়ে হবেই সবাই বাধা দিলেও।
-- বাবরে, কত কিছু বলে ফেলছো! এবার একটু থামো। আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং তোমাকেই বিয়ে করবো, এক্ষেত্রে প্রেম করলে কী এমন ক্ষতি হয়ে যাবে।
সে নীচের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখেই একটু বিরক্ত হয়ে বললো,
: যেহেতু সব কিছু আল্লাহর হুকুমেই হয়, তুমি যদি কারো সাথে প্রেম কর, তার সাথে যদি তোমার বিয়ে না হয়ে অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়, তবে দুটো ক্ষতি,
প্রথমত, তুমি তাকে ভুলতে পারবে না, অন্য যার সাথেই বিয়ে হবে তাকে মন থেকে কখনো ভালোবাসতে পারবে না। স্মৃতির মণিকোঠায় একটু হলেও তার স্মৃতি ভেসে থাকবে তখনই শয়তানের সুযোগ হয়ে যাবে তোমাকে কুমন্ত্রণা দেওয়ার। শয়তান তোমাকে বুঝাবে তুমি অমুকের (আগের প্রেমিকের) সাথে হলে এসব হতো না। তুমি তাকে মিস করবে। শুরু হবে সংসারে অশান্তি। স্বামীর সংসারে নিজে এবং স্বামী কেউই শান্তিতে থাকতে পারবে না আর শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাধিয়ে।
দ্বিতীয়ত, আল্লাহর হুকুম না মেনে পর পুরুষের দিনের পর দিন মেলা মেশার কারণে মারাত্মক গুনাহের সম্মুখীন হবে।
--কিন্তু আমি যে তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
: এতকিছু বলার পরও আবার এসব বলতেছ!?
--আচ্ছা, বাদ দাও, যদি কেউ কাউকে ভালোবাসে সেক্ষেত্রে কি করনীয়?
মনে হলো ইয়াসির কিছুটা কঠিন দৃষ্টি দিয়ে জাস্ট কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখ তুলে তাকালো। বললো,
: যদি এমন কিছু হয় তবে পরিবারকে তাড়াতাড়ি বিয়ের ব্যবস্থা করতে বলা উচিৎ। যাতে গুনাহ থেকে বাঁচা যায়।
--অহ বুঝেছি, আমাকেই কিছু করতে হবে।
বলে দুষ্টুমির হাসি হাসতে থাকলাম।
সে বোধহয় আমার অবস্থা বুঝে বলল,
: এসব বাজে চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দিয়ে পড়ালেখায় মনোযোগ দাও, সামনে পরীক্ষা।
--কি বাজে চিন্তা? তুমিই তো বললে, কাউকে ভালোবাসলে বিয়ের ব্যবস্থা করা উচিৎ। আমিতো তাই করতে চাচ্ছি।
তাছাড়া তুমি নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিজে দেওয়াকে সমর্থন করেছ। আর আমি তো গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই। তোমাকে ভালোবেসে নিজেকে বদলাতে চাই।
: আমার জন্য, আমাকে ভালোবেসে বদলে যাওয়ার কোনই দরকার নেই। খুব বেশি দরকার হলো, আল্লাহকে ভালোবেসে , আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর বিধানের মত করেই নিজেকে বদলানো।
আমি আরেকটু কাছে ঘেঁষে বললাম,
-- প্লীজ তুমিই না হয় তোমার পরিবারকে বল না, বিয়ের প্রস্তাব দিতে!
: কেন আমি বলবো? আমি কী বলেছি আমার বিয়ে করা প্রয়োজন।
--তাহলে আমিই বলবো। আমিও দেখবো, তুমি কীভাবে, কি, করো।
সে চুপ হয়েই থাকলো একটা শব্দও বললো না। আবার আমিই বললাম,
-- অহ আচ্ছা, বুঝেছি তুমি কি চাচ্ছো। সোজা গিয়ে শ্বাশুড়ি মা'কে বলবো, " আমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। আমি আপনার ছেলেকে বিয়ে করতে চাই।"
.
সেদিন বাসায় গিয়ে ইয়াসিরের কথাগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবনায় পড়ে গেলাম। তবে আমার ভাবনাটা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার শেষ কিছুই নেই। বলা যায় আমাকে কী করতে হবে এক প্রকার ধরেই নিয়েছি।
এমনও হতে পারে এইটা ইয়াসিরের পক্ষ থেকে ঈংগিত। হয়তো তিনিও আমাকে পছন্দ করেন কিন্তু মানুষের মঙলের জন্য নির্ধারিত ধর্মের বিধি-বিধান তাকে অনেক কিছু করতে বাধা দিচ্ছে। যেটা আমরা ধর্ম সম্পর্কে না জানা মানুষ
মানি না বা মানতে চাই না।
হুম আমি বুঝে গিয়েছি উনার সাথে প্রেম করা সম্ভব নয়, আমার ভালোবাসা যতই খাঁটি হউক না কেন! তবে আমার পরিবারকে বিয়েতে রাজী করাতে পারি। এটাই শেষ পথ। উনিতো বুঝিয়েই দিয়েছেন, নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিজে দেওয়াটা বেহায়াপনা নয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রব্লেম আমার আধুনিক পরিবার একটা ধার্মিক পরিবারে বিয়ে মেনে নিতে পারবে তো?
ইয়াসিরের কথায় যা কিছু বুঝেছি, আল্লাহর নির্ধারিত হুকুমের বাইরে কিচ্ছু হয় না। যা আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই হবে।
মাঝেমাঝে খুব ইচ্ছে করে ইয়াসিরের সাথে কথা বলতে। কী কারণে কল দিচ্ছি তা এস এম এস দিয়ে না বলা পর্যন্ত কখনো কল রিসিভ করে না। কতবার বলেছি ফেইসবুক আইডিটা দাও। সে কখনো দিবে না। আরে বাবা, মেসেঞ্জার দিয়ে আমি তো তাকে খেয়ে ফেলতে পারবো না।
আর কিছুই ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছে না, কল দিয়েই দিলাম, একবার, দুইবার, তিনবার কল রিসিভ করলো না। মেসেজ দিয়ে বললাম, জরুরি দরকার, প্লীজ কথা বলো।
টুং করে তার মেসেজ "আমি বাইরে আছি কাল ফজরের পরে দেখা করো"
হুহ, কাল দেখা করো বললেই হলো, আমার যে এক্ষুণি কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে।
দাঁড়াও, অপেক্ষা কর সব তোমাকে দেখাবো। আমাকে এড়িয়ে চলার মজা দেখিয়ে ছাড়বো। কাল হতে দাও!!!
:
:
:.
চলবে,,
✔ইনশাআল্লাহ
উপস্থাপনা: আল-মামুন রেজা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।