সংশোধন
ইসলামিক ধারাবাহিক _গল্প
২য়_পর্ব
-📃-আপনি নিজেকে খুব বড় কেউ মনে করেন? না আমাকে খুব নীচু কেউ মনে করেন। আমার দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিলে আপনার হাত পচে যেতো!! কী অদ্ভুত মানুষ আপনি!
: দুঃখিতো, আজ খুব বিজি, আসতেছি।
বলে সালাম দিয়ে চলে যাচ্ছিলো, আমি বললাম,
--দাঁড়ান,
: সত্যি আজ অনেক দেরী হয়ে গেলো আরেকদিন কথা বলবো,
--না আজই বলবেন,
বলে উনার বাম হাতটা শক্ত করে ধরে বললাম,
-- এই যে আপনার হাত ধরলাম, কোন প্রব্লেম? আপনার হাত কি পচে যাচ্ছে? এই যে জড়িয়েও ধরলাম, দেখি কী হয়।
উনি নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে করতে বললেন,
: ব্যপারটা আপনি বুঝতে পারছেন না।
--হুম আমি পারছি না, আমাকে বুঝিয়ে বলুন। আমি বুঝতে চাই তো।
: আসলে আমি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করি।
--তো তাতে কী? একজন পড়ে যাচ্ছে এমন কাউকে বাঁচাতে ধর্ম কী আপনাকে নিষেধ করেছে?
: না নিষেধ করেনি, আগে আমাকে ছাড়ুন।
--না ছাড়বো না, আগে বলুন। আপনাকে তো কবেই ছেড়ে দিয়েছি। আপনার হাতটাই তো ধরেছি।
: শুনুন কেউ দেখে ফেলবে। দয়া করে ছাড়ুন।
ইয়াসিরের কণ্ঠ স্পষ্ট আকুতি লক্ষ্য করছিলাম
--আপনি কী মেয়ে? কেউ দেখলে, আপনার বদনাম রটাবে। আপনার বিয়ে হবে না বলে ভয় পাচ্ছেন।
অদ্ভুদ! পুরুষ মানুষ হয়ে এতো ভয় পান কেন? কেউ দেখলে সমস্যা আমার হবে, আপনার নয়। দেখলে দেখুক, কিচ্ছু হবে না।
: কিন্তু আল্লাহ দেখলে তো অনেক কিছুই হবে। আর আল্লাহর কাছে কোন কিছুই লুকায়িত থাকে না।
-- তো তাই বলে এভাবেই আমাকে বিপদে রেখে চলে যাবেন।
: দেখুন, প্রথমত আপনি যখন পড়ে যাচ্ছেন, আমি আপনাকে লক্ষ্য করিনি। আমি বুঝে উঠার আগেই আপনি পড়ে গিয়েছেন। আর আপনি পড়ে যাওয়ার পর যদি আপনার ক্ষতির আশংকা থাকতো তবে অবশ্যই উঠাতে সহায়তা করতাম। কিন্তু আপনি অবশ্যই খুব সহজেই উঠতে পারবেন।
কোন প্রয়োজন ছাড়া বেগানা নারীকে স্পর্শ করা হারাম।
হাদীসে এসেছে,
বেগানা নারীকে স্পর্শ করা কতো বড়ো পাপ!!
“নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ডুকে দেয়া ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভাল,
যে তার জন্য হালাল নয়।” [তাবারানী, ছহীহুল
--বুঝতে পেরেছি, আজিব আপনাদের নিয়মগুলো।
: আজিব হবে কেন? যদি এই মুহুর্তে এমন কেউ আপনাকে উঠতে সাহায্য করতো যাকে আপনি পছন্দই করেন না বা নোংরা মানসিকতা সম্পন্ন কোন লোক তবে আপনার নিশ্চয় ব্যপারটা অপছন্দ হতো। অথবা যদি আপনাকে উঠাতে গিয়ে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে, আমার মনে খারাপ কিছু আসতো নিশ্চয় আপনার ভালো লাগতো না?
সেই খারাপ বা নোংরা মানসিক অবস্থার কারণে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতো বা ক্ষতি করতো।
জানেন, যদি সব পুরুষরা ইসলামের গায়রে মাহরামের সাথে সম্পর্কিত কোরানের আয়াত আর হাদীসগুলা মেনে চলতো দেশে কোন ধর্ষণ হতো না!
এই যে আপনার দিকে দৃষ্টি দিবো না, আপনাকে স্পর্শ করবো না, আপনার সাথে কথা বলবো না; যদি এভাবে হয় তবে আপনার সাথে, আমার দ্বারা বা যে এই সম্পর্কিত আয়াত গুলো মানে তাদের দ্বারা কোন খারাপ কাজ যেমন ধর্ষণ, যৌন হয়রানি জাতীয় অপরাধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?
--আমাকে ভীষণভাবে ভাবালেন, সত্যি এভাবে কখনো ভেবে দেখিনি। এই ধরণের আয়াতগুলো পড়তে চাই। জানতে চাই যদি বলতেন!
: অবশ্যই বলবো। সন্ধ্যায় বাসায় আসবেন।
এখন একটু তাড়াহুড়ায় আছি। আসবেন তো?
মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি, কীভাবে সম্ভব!? ইয়াসিরের বাসায় যাওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলাম। আমি এই সুযোগটাই তো চাচ্ছিলাম।
বিকালে ছাদে তাসনি আসলো, আমি তাসনির সাথে ভাব জমানোর জন্য নিজে থেকেই কথা বলতে এগিয়ে গেলাম। তাসনি সালাম দিয়ে কেমন আছি জিজ্ঞাস করল।
ভাই-বোন দুইজনের মধ্যেই সালাম দেওয়ার প্রবনতা বেশি। ইয়া বড় উড়না দিয়ে সারা শরীর ঢেকে রেখেছে। আগে ও সালাম দিয়েছে, উড়নাও এভাবেই পড়তো কিন্তু কখনো এভাবে লক্ষ্য করিনি। বললাম,
-কেমন আছো?
--হুম ভালো, তুমি ভালো আছ তো?
: জ্বী আলহামদুলিল্লাহ, বাসায় কখন আসবেন?
--মানে?
: ভাইয়া আপনাকে আসতে বললো!
--অহ, দেখি সন্ধ্যার দিকে আসবো।
আচ্ছা তুমি বা ইয়াসিরের মধ্যে অনেক ধার্মিকতা দেখেছি, শুনেছি ধার্মিক পরিবারের মেয়েরা পড়ালেখা কম করে; কিন্তু তুমি রেটিনায় ভর্তি হয়েছো কেন? তুমি ধার্মিক হয়েও ডাক্তার হতে চাও কেন?
এমনিতেই সাধারণ পড়ালেখা এক বিষয় কিন্তু ডাক্তার হওয়া অন্য বিষয়!
--কে বললো, ধার্মিক মেয়েরা পড়ালেখা করে না! আর ডাক্তারি? আমার মতে মেয়েদের ডাক্তার হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরী।
আমি তাসনির কথা শুনে থ হয়ে গেলাম! কীভাবে জরুরী? আমার এক বান্ধবী থেকে শুনেছিলাম, ওর বোন দ্বীনে ফেরার পর এম বি বি এস তৃতীয় বর্ষের পর আর পড়ালেখা করেনি। আর এই মেয়ে কি বলে? এসব ভেবে আমাকে চুপ থাকতে দেখে তাসনি আবার বললো,
: কেন জানেন? যদি আমাদের মানে মহিলাদের চিকিৎসার কারণে বিশেষকরে মাতৃত্বকালীন প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে যেতে হয় তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই চাইবো যেন কোন মহিলা ডাক্তারের কাছ থেকেই ট্রিটমেন্ট নিতে পারি কিন্তু যদি মেয়েরা ডাক্তারি না পড়ে তাহলে বাধ্য হয়েই পুরুষ ডাক্তারের শরণাপন্না হতে হবে। সেক্ষেত্রে অনেক সময় ফিতনার আশংকা থাকে।
--কিন্তু ইসলামে তো কি যেন? কণ্ঠের পর্দা, একসাথে পড়ালেখা এসব জায়েজ নয়। বাংলাদেশে বা পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই নারীদের জন্য আলাদা মেডিকেল কলেজ তো দূরের কথা আলাদা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাও খুব কম। তো তুমি পরিপূর্ণ পর্দা রক্ষা করে কীভাবে মেডিকেলে পড়বে?
: যেহেতু মেডিকেলে পড়াটা জরুরী, সেক্ষেত্রে,
যদি নারীদের জন্য স্বতন্ত্র মেডিকেল কলেজ/ইউনির্ভাসিটি না থাকে তাহলে বাধ্য হয়ে পুরুষদের সাথে স্ট্রাডি করা যাবে শর্ত স্বাপেক্ষে। আর তা হল, পুরুষ সহপাঠির সাথে বিনাপ্রয়োজনে কথা বলা যাবে না, দুষ্টামী বা হাসাহাসি করা যাবে না এবং কথা বলার সময় কোমল কণ্ঠ পরিহার করবে ইত্যাদি। বাকি আল্লাহ ভালো জানেন।
আচ্ছা মাগরিবের আজান হচ্ছে চলুন বাসায় যাই। মাগরিবের নামাজের সময় খুব কম। দেরী হয়ে যাবে। বলেই দুইজন একসাথে লিফটে উঠলাম, তাসনি সালাম দিয়ে নয় তলায় নেমে গেলো, যেতে যেতে বলে গেলো,
: বাসায় আসবেন কিন্তু,
আমিও হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লাম।
বাসায় আসার পর কেমন যেন খুব ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছে, আমিও মেডিকেলে পড়তে চেয়েছিলাম। ভালো রেজাল্ট করার পরও ভাগ্য সায় দিলো না। সবচেয়ে বেশি ভাবনায় ফেলে দিলো এই ইয়াসির আর তাসনি। তাদের কথায় জাদু আছে, চুম্বকের মতো আকর্ষণ করতে পারে মানুষকে। ধর্মীয় বিষয়ে আমার কোন কালেই কোন আগ্রহ ছিলো না। নামাজ থেকেও অনেক দূরে, আর আধুনিক চলাফেরায় অভ্যস্ত। হিজাব অনেক পরের ব্যাপার, আমি মাথায় কাপড় দিতেও আগ্রহী নই বরং আমার ঘন, কালো চুলগুলো ছেড়ে দিয়ে মেয়েদের ঈর্ষান্বিত করতেই ভালো লাগে। সবচেয়ে বড় কথা, মাথায় কাপড় দিলেই খুব গরম লাগে। আর এই বোরখাওয়ালীরা বা তাসনিও ইয়া বড় উড়না পড়ে এদের গরম লাগে না! ভাবতে গেলেই বেশ অবাক লাগে। আর ইয়াসির এতো সুন্দর করে কথা বলেন, উনার প্রতিটি কথাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে ইচ্ছে করে। কোন কথাই না শুনে যেন পারি না! ইয়াসিরের কথা ভাবতেই ঠোঁটের কোণায় মিষ্টি হাসির রেখা ফুটে উঠলো। নিজেই লজ্জা পেয়ে গেলাম। আমার একটা বদ অভ্যাস আয়নার সামনে বসলেই সারাদিন কী কী হয়েছে সব মনে পড়ে।
নাস্তা করে, হালকা একটু সাজলাম, জাস্ট হালকা! যেন মুখে কিছুই দেয়নি এমন তবে দেখতে ফ্রেশ লাগবে।
:
:
:
চলবে,,,,,
লেখা ও উপস্থাপনা: আল-মামুন রেজা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।