ইসলামিক ধারাবাহিক গল্প।
#হিদায়েতের_পথে
🍂পর্ব:০৪🍂
মমি মরিয়ম কে sms দিয়েছে,,,,,
তুই এইভাবে মুনাজাত করবি
🤲 হে আমার রব,
তুমি আমার উপর রহমাত দান করো। আমার সকল বিপদ দূর কর। হে আল্লাহ তুমি ছাড়া আর কে আছে বল যে আমার দূঃখ দূর করবে। তুমি তো আমার উওম বন্ধু। হে আমার মালিক তোমার অনেক বান্দা বান্দি আছে কিন্তু তুমি ছাড়া আমার কেউ নাই। আল্লাহ তুমি আমার অন্তরকে শান্ত করে দাও। হতাশা আর শয়তানের অসওয়াসা থেকে দুরে রাখ।
🤲হে আল্লাহ তুমি আমার স্বামীকে হিদায়েত দান কর। তাকে উওম ভাবে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। তাকে তোমার উওম বান্দা হিসাবে কবুল কর।
🤲হে আমার আল্লাহ আমি জানি আমার পাপের চেয়ে তোমার ক্ষমা অনেক বড়।
আমার চাওয়ার চেয়ে তোমার দান অনেক বেশি।
শুধু সময়ের অপেক্ষা। আর সেই উওম সময় পর্যন্ত আমাকে ধৈর্য ধারন করার তৈফিক দান কর।
(আমিন)
👉মনের সম্পুর্ন আবেগ অনুভূতি কষ্ট সব মিলেই আল্লাহর কাছে দোয়া করবি।
আর সব সময় এটা মনে মনে বলবি
আমার চাওয়া কবুল হলেও আলহামদুলিল্লাহ।
না হলেও আলহামদুলিল্লাহ।
যা পাবি তাতেই কল্যান।
মরিয়ম sms টা পড়ে নামাজে মনযোগ দেয়। আস্তে আস্তে সব কিছু থেকে স্বাভাবিক আচরণ শুরু করে মনে হয় কিছুই হয়নি। সব ঠিক আছে। সব মরিয়মের।
সন্ধ্যায় পর মাহির বাসায় আসে। এসে ল্যাপটপে অফিসিয়াল কাজ করতে ছিল।
মরিয়ম পাশে গিয়ে বসল। মাহির দেখেও না দেখার মত কাজ করতে থাকল।
মরিয়ম হটাৎ মাহির কে জরিয়ে ধরে। কারেন্টর সর্ট এর মত মাহির গায়ে ঝাড়া দিয়ে মরিয়ম কে ধাক্কা দিল।
মাহিরঃ- নির্লজ্জ বেহায়া মেয়ে। তোমাকে এত করে বল্লাম আমি তোমাকে ভালোবাসি না। তাও আসছোস ভালোবাসা দেখাইতে। এত অপমান করার পর ও কি তোর হয় নাই। চলে যা আমার জীবন থেকে। তোরে আমি কখনো স্ত্রী হিসাবে মানবো না মর্যাদা দিব না।
মরিয়মঃ- কাঁদতে না চাইলেও গাল বেয়ে চোখের পানি গুলো টপ টপ পড়তে থাকে। মরিয়ম বলতে থাকে কি শুরু করেছেন। দেখুন আমি আপনাকে ভালোবাসি কেন আমার সাথে এমন করছেন। আর আমি আপনার স্ত্রী।
মাহিরঃ- আবার স্ত্রী। চুপ কর। আমি তোকে স্ত্রী মানি না।
মাহিরের মা মাহির কে কিছু কথা বলার জন্য এসে ছিল। কিন্তু দুজনার এমন ঝগড়া দেখে সে ভিতেরে না গিয়ে দরজার আড়ালে শুনতে লাগল সব কথা।
মরিয়মঃ- মানেন নাহ বল্লেই হবে ইসলামি শরিয়া মেনে আমাদের বিয়ে হয়েছে। আর আপনি ৩ মাস তো ভালোই ব্যবহার করেছিলেন। হটাৎ আপনি এগুলা বল্লে আমি মেনে নিব। আগে থেকেই বলতে পারতেন।
মাহিরঃ- বাবার ভয়ে আমি এত দিন বলি নি। কিন্তু আর সহ্য হচ্ছে না। যদি একটু স্মার্ট হতে তাও মানিয়ে নিতাম। আমি পারিনা কাউকে আমার বউরে দেখাতে। তুমি ঘরের মধ্যে তো একদম সেজেগুজে থাক। বাহিরে গেলে তোমার বস্তা পড়তে হয়। তারপর তোমাকে আমি ভুরু প্লাগ করতে নিয়ে গেলাম তুমি আমাকে সবার সামনে ছোট করলে। সেখানে আমার হুকুম অমান্য করে চলে আসলে।
কেন আমার বন্ধুদের সামনে তুমি আমার মান ইজ্জত নষ্ট করছ??? ওরা কতবার তোমাকে দেখতে চাইছে কিন্তু আমি দেখাতে পারিনি।
মরিয়মঃ- এগুলো কি বলেন। আমরা মুসলিম পর্দা আামাদের জন্য ফরজ। কেন নিজের বউ কে অন্যর কাছে পন্যের মত দেখাবেন। আমি কি বাজারের পন্য??? যে সবাইকে দেখাতে হবে?? দেখ আমার স্ত্রী।
আপনার স্ত্রী আপনার সম্পদ। আপনার মুল্যবান সম্পদ। সে থাকবে আপনার সেবায়। যা কে শুধু আপনি দেখবেন।
আর কি বল্লেন ভ্রু প্লাক এটার তো প্রশ্নই আসে না তা আপনি যেই হন।
যারা ভ্রু প্লাগ করে আল্লাহ তাদের লানত দেয়।
(" হযরত আলকামা( রা) বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) লানত করেন এমন সব নারীর উপর, যারা অপরের অঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করে। যারা কপাল প্রশস্ত করার জন্য কপালের উপরিভাগের চুল গুলো উপরে ফেলে ( ভ্রু প্লাগ) এবং যারা সৌন্দর্য্যের জন্য দাঁত সরূ করে ও বড় করে কৃত্রিম উপায়ে আল্লাহর সৃষ্টি বদলে ফেলে।
তখন উম্মে ইয়াকুব জিঙ্গেস করলেন, এটা কেন..? উত্তরে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বললেন, আমি কেন তার উপর লানত করব না যার উপর স্বয়ং রাসূলুল্লাহ( সাঃ) লানত করেছেন। এমনকি আল্লাহর কিতাবেও তাই আছে।
তখন উম্মে ইয়াকুব বললেন, আমি সমস্ত কিতাব ( কুরআন) পরেছি, কিন্তু তাতে তো এটা পেলাম না। তখন আব্দুল্লাহ বললেন, যদি তুমি কুরআন পাঠ করতে তা হলে অবশ্যই তাতে পেতে-
" রাসূল যা তোমাদের দেন তা মজবুত ভাবে আকড়ে ধর আর যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক ( বুখারী - ৫৫১৪))))
মাহিরঃ- হইছে থাম! আমাকে জ্ঞান দেওয়া লাগবে না। মনে রাখবে তোমার থেকে আমি বেশি শিক্ষিত।
মরিয়মঃ- যে শিক্ষা নিজের স্ত্রী কে অসম্মান করতে শেখায়। নিজের ধর্মকে অমান্য করতে শিখায়। কথাবার্তা অমানুষের মত বলে ঐ শিক্ষার মূল্য আমার কাছে কিছুই না।
মাহির মরিয়মের কথা সহ্য না করতে পেরে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিল। তারপর চুলের মুঠি ধরে বলতে লাগল তুই আমাকে অমানুষ বল্লি তোরে আজকে থেকে এতটাই নির্যাতন করব যে নিজে থেকে চলে যেতে বাধ্য হবি।
মরিয়মঃ- ছাড়ুন প্লিজ অনেক ব্যথা পাচ্ছি।
মাহিরঃ- শয়তানি হাসি দিয়ে। ব্যথা পাওয়ার জন্য ধরছি।
মাহিরের মা আর সহ্য না করতে পেরে। দৌড়ে এসে মরিয়ম কে ছাড়িয়ে নেয়।
মাঃ- ছি মাহির এগুলো কি করছিস ঘরের বউ কে এইভাবে কেউ গায়ে হাত তুলে। তোর বাবা শুনলে তোরে আস্ত রাখবে মনে করস।
মাহিরঃ- মা বাবার জন্য আজ আমার এই পরিস্থিতি। তোমরা আমাকে কোনো কথা বলার সু্যোগ দেও নি। একটা আন স্মার্ট মেয়েকে আমার ঘারে চাপিওছো।
তোমাদের জন্য আমি তানিয়া কে এখনো বিয়ে করতে পারিনি। আমি তানিয়া কে ভালোবাসি ভালোবাসি।
মাঃ- চুপ কর বেয়াদব। এতদিন তোকে এই জন্য কষ্ট করে বড় করেছি। তানিয়া একটা বাজে মেয়ে তোকে আগেই বলছি। আর তানিয়া কে আগেও আমার পছন্দ নাহ। এখনো আমার পছন্দ না।
মাহিরঃ- সেটা সময় বলে দিবে।
মাঃ- আমি ঘরে কোনো অশান্তি চাই না যা হইছে ভুলে যাও। বেশি করলে তোর বাবার কাছে বলে দিব। আর মরিয়ম কে পরবর্তীতে গায়ে হাত তুললে তোর খবর আছে।
মাহির কিছু না বলে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়।
শাশুড়ীঃ- মরিয়ম একটু শক্ত হইতে শিখ।ছেলে বড় হইছে মা বাবার কথা বেশিক্ষন শুনবে না। অতিরিক্ত সাসন করলে আজ হোক কাল আমাদের কে ফেলে চলে যেতেও দ্বিধা করবে না। আর এখন ও বিবাহিত তুমি ওর স্ত্রী সুতরাং কিভাবে কি করবে তুমি নিজেই ভেবে দেখ আমরা তোমার পাশে আছি।
মরিয়ম শ্বাশুড়ি কে ধরে অঝোরে কান্না বয়ে দেয়।
মা আমার সাথে কেন এমন হলো। এখন কি করলে আমার স্বামীকে ফিরোত পাব।
শাশুড়ীঃ- ভেবে দেখ। আর আল্লাহ আল্লাহ কর। যেভাবে হোক ঠিক তো করতেই হবে। আর বেশি ভেব না। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
শাশুড়ী চলে যায়।
মরিয়ম কাঁদতে কাঁদতে ভাবে তাহলে কি আমি নিজেকে পরিবর্তন করব আমার স্বামীর জন্য।
আমার স্বামী আমাকে যে ভাবে চায় আমিও কি সেই ভাবে নিজেকে গড়ে তুলব।
স্বামীর মন তো জয় করতেই হবে।
তাহলে আমাকে আধুনিকা হতে হবে,,,,,,????
,,,,,,
,,,,,,,,চলবে,,,,,,,,,,,,,
উপস্থাপক:আল-মামুন রেজা।
ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন দয়া করে ভুল গুলা ধরিয়ে দিবেন।)
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।