সব কথা বলা হয় না,
কিছু কথা দাঁড়িয়ে থাকে
গলার কাছেই—
নিঃশব্দ হয়ে।
আমি সেই নীরবতাকে চিনি,
যে নীরবতা ভদ্র নয়,
যে নীরবতা শান্ত না,
যে নীরবতা প্রশ্নের মতো
চেয়ে থাকে চোখে চোখে।
শব্দেরা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে,
যখন ব্যাখ্যা দিতে দিতে
মনের ভেতর ফাটল ধরে,
তখন নীরবতা সামনে এসে দাঁড়ায়—
ভারী, অথচ স্পষ্ট।
নীরবতা চিৎকার করে না,
কিন্তু দায় চাপায়।
বলতে বাধ্য করে না,
কিন্তু ভাবতে বাধ্য করে।
আমি বহুবার কথা বলেছি
নিজেকে বাঁচাতে,
আর বহুবার চুপ থেকেছি
নিজেকে হারাতে হারাতে।
এই নীরবতা কোনো দুর্বলতা নয়,
এ এক দীর্ঘ প্রতিরোধ।
যেখানে শব্দ হার মানে,
সেখানে নীরবতা
প্রতিউত্তর হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ সব প্রশ্নের উত্তর
উচ্চস্বরে দেওয়া যায় না।
কিছু উত্তর
শুধু চুপ করেই দিতে হয়।
আমি আজও চুপ করে আছি,
পলায়ন নয়—
এই নীরবতাই আমার অবস্থান,
এই নীরবতাই আমার
প্রতিউত্তর।
অর্থ :
এই কবিতায় নীরবতাকে দুর্বলতা নয়, বরং এক ধরনের শক্তিশালী প্রতিউত্তর হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সব পরিস্থিতিতে কথা বলা সম্ভব বা প্রয়োজনীয় নয়—কিছু ক্ষেত্রে চুপ থাকাই নিজের অবস্থান, আত্মসম্মান এবং প্রতিরোধের ভাষা।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।