নক্ষত্র-আশীর্বাদ ও শুভ যাত্রা
আকাশে বা অন্তরিক্ষে, জলে কিংবা ভূমির পরে,
নক্ষত্ররা জাগুক আজি আমার এই আঁধার ঘরে।
পর্বত আর দিকবিদিকে ছড়ানো যত নক্ষত্র-দল,
চন্দ্রালোকে স্নাত হয়ে দিক তারা সুখেৱ ফল।
আটাশটি তারার মেলা এক হয়ে আজ সুপ্রসন্ন হোক,
ঘুচিয়ে দিক সকল বাধা, ঘুচিয়ে দিক মনের শোক।
অলভ্য যা তা যেন পাই, লব্ধ ধন রয় যেন সাথে,
ভূমিষ্ঠ হই প্রণাম ভরে দিবসে আর গভীর রাতে।
ভোরবেলাটি আসুক হয়ে পরম সুখের কর্ম-ধার,
সন্ধ্যাবেলাও স্নিগ্ধ থাকুক, কাটুক গ্লানির অন্ধকার।
দিবা-রাত্রি কাটুক মোর শান্তি এবং হর্ষেতে ভরে,
পক্ষী ও মৃগকুল যেন নির্ভয়ে সব বিচরণ করে।
হে সবিতা! যাত্রা পথে সামনে-পিছে রুক্ষ ডাক,
দুর্নিমিত্তের সকল আপদ নক্ষত্রেরা কেড়ে নিউক।
শূন্য কলস কিংবা হাঁচি— কু-লক্ষণের যত বাধা,
আপনারই কৃপায় যেন আর না দেয় আমায় ধাঁধা।
ক্ষতিকারক হাঁচিটুকু বদলে যাক যে কল্যাণ-আশিসে,
ভয়-ভীতি সব পালিয়ে যাক ঐ সুদূরের নীল আকাশে।
শৃগাল-ডাক কি নপুংসক— অশুভ যত দৃষ্টির রেশ,
আপনারই করুণাতে হোক তারা আজি নিঃ-শেষ।
হে ইন্দ্র! হে ব্রহ্মণস্পতি! মন্ত্ররাজির অধীশ্বর তুমি,
পুব আকাশে ঝঞ্ঝা বয়, কাঁপছে আজি মর্ত্য-ভূমি।
উন্মাতাল ঐ বায়ু-ঝড় দিশেহারা ও দিক-বিদিক,
আপনারই বলে স্থির করো সব দিক ও অধিক।
ভয়হীন এক জগৎ গড়ো, অমোঘ হোক মোর কল্যাণ,
দিবা-রাত্রি শান্ত থাকুক, গাই যেন ঐ জয়ের গান।
অবিনাশী মঙ্গল আজি স্পর্শ করুক আমার মন,
নক্ষত্রেরা সাথে থাকুক, অটুট থাকুক এ জীবন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।