এক ছেলে তার বাবার সাথে ফোনে কথা বলছে। সে তার বাবাকে বলছে, "আপনি টাকা পাঠান না কেন আমাকে?"
বাবা উত্তর দিলো, "হ্যাঁ বাবা, দিব ইনশাআল্লাহ।"
ছেলে বলল, "না... এই দিব দিব বলেন, কিন্তু টাকা তো দেন না।"
বাবা চুপ করে আছেন, হয়তো বলার মতো কোনো শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। একটু ঢোক গিলে বললেন, "অল্প কিছু টাকাও নেই তোমার কাছে?"
ছেলে কর্কশ গলায় বলল, "হ্যাঁ, টাকায় তো আমার বাক্স ভরে আছে!"বাবা আবার চুপ। বুকে চাপা হাজারো কষ্ট নিয়ে আবারও ছেলেকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, "আচ্ছা ঠিক আছে, আমি তাড়াতাড়ি তোমাকে টাকা পাঠানোর চেষ্টা করছি।"
ছেলে বলল, "হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করেন।" ছেলের মনে তো আনন্দের জলধারা বইতে শুরু করেছে, সে কিছুক্ষণের মধ্যে তার টাকা পেয়ে যাবে।কখনো ভেবে দেখেছেন, ঐ মুহূর্তে বাবার মনের অবস্থা কেমন? মাথায় টেনশন, কোথায় টাকা পাবে এখন সে? ছেলেকে তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু টাকা কোথায় পাবেন? পকেট তো খালি। কার কাছে হাত পাতবেন?এই দৃশ্যগুলো যখন স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে, মনে হয় বাবা-মা হওয়া হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। হৃদয়ে ভয় অনুভব হয়, আমার ছেলে সন্তানও কি আমার সাথে এমন আচরণ করবে? আমি কি পারব পিতা হিসেবে এই অবস্থা মেনে নিতে? নাকি চোখ বেয়ে নিজের অজান্তেই গড়িয়ে পড়বে দু-ফোঁটা নোনা অশ্রুজল? আমার ছেলের আচরণও কি আমার হৃদয়ে খোঁচা দেবে আর তা থেকে ঝরে পড়বে রক্তফোঁটা?মহান আল্লাহকে স্মরণ করি, তাঁকে বলি, "হে রব, তুমি ঐ বাবাকে ইয়াকুব (আঃ) এর মতো ধৈর্য ধারণের শক্তি দাও। আর ঐ ছেলেকে বানিয়ে দাও ইসমাইল (আঃ) এর মতো পিতার অনুগত সন্তান। হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাদেরকে এমন সন্তান দান কর যা আমাদের চক্ষুকে শীতল করবে।" ঠিক ঐ মুহূর্তে ঠোঁট ছুঁয়ে বেরিয়ে আসে ঐ দোয়াটি যা ইব্রাহিম (আঃ) করেছিলেন। আর তা এই যে,{ رَبِّ هَبۡ لِی مِنَ ٱلصَّـٰلِحِینَ }অনুবাদ: 'হে আমার রব! আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করুন।' (সূরা আস-সাফফাত: ১০০)
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।