মাঝে মাঝে আমার রব আল্লাহ আমার নিকট এমন কিছু অনুগ্রহ প্রেরণ করেন, যার কারণে নিজের অজান্তেই মুখ থেকে ঠোঁট ছুঁয়ে বেরিয়ে আসে, "আলহামদুলিল্লাহ।" হে আমার রব! সকল প্রশংসা তোমার জন্যই নিবেদিত। ওই মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি; এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণ কোন দুশ্চিন্তা নয়, নয় কোন হতাশা। সিদ্ধান্তহীনতা এই যে, কোন কাজের মাধ্যমে আমার রবের দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তা যথাযথ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন হবে। গভীর ভাবনায় হারিয়ে যাই, আমার রব আমাকে যে এত বড় নিয়ামত প্রদান করলেন, করণীয় হিসেবে আমি কিভাবে তার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করব? জরূরীভাবে ভাবতে বসি, অনেক চিন্তা-ভাবনা করে একটি কাজ চয়ন করি, মনে হয় এই কাজটি করলেই হয়তো তার নেয়ামতের পরিপূর্ণ শুকরিয়া আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু একটু পরে আবার ভাবি, আমার রবের নেয়ামতের সামনে এ তো অনেক ছোট শুকরিয়া হয়ে যাবে। না, না, আমাকে আরো উৎকৃষ্ট একটি কাজ খুঁজে বের করতে হবে, যাতে করে তার পরিপূর্ণ শুকরিয়া আদায় করতে পারি। এই চিন্তার পথটা এতটাই দীর্ঘ হয় যে, সকালের সূর্যটি মিষ্টি আলো নিয়ে উঠে, এই মিষ্টি আলো কঠিন তাপে রূপান্তরিত হয়ে, আবারো দিনের শেষে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। আলোকসজ্জায় আলোকিত পৃথিবীকে নিকষ কালো আঁধার তার কৃষ্ণতা দিয়ে মুড়িয়ে নেয়। আবার এই আলোকে দূরীভূত করতে পশ্চিম গগনের নিলিমায় মমতাময়ী আলো নিয়ে আসে চাঁদ মামা। এতটা সময় গড়িয়ে যায়, কিন্তু আমি এমন কোন কাজ খুঁজে পাই না, যা দিয়ে মহান রবের পরিপূর্ণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারবো। অজু করে দু রাকাত সালাত আদায় করি, হাত দুটো আকাশের দিকে মেলে ধরি আর বলি, "হে আল্লাহ! আমার কাছে তো এমন কোন উপকরণ নেই, যার মাধ্যমে তোমার দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি। হে আল্লাহ! তোমার দেওয়া নেয়ামতগুলোর মধ্য হতে শুধুমাত্র একটি নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপও যদি মৃত্যুপর্যন্ত শুকরিয়া আদায়ে ব্যস্ত থাকি, তবুও তা আদায় হবে না। হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপসমূহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাকে তোমার মুখলিস বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও।" একটু ভাবুন তো, আল্লাহ আপনাকে একজন দ্বীনদার স্ত্রী দান করেছেন; এই যে এত বড় নেয়ামতের শুকরিয়া, আপনি কিভাবে আদায় করবেন? আরেকটু ভাবুন তো, আমরা মুসলিম হিসেবে আমাদের জীবনের সবচেয়ে পাওয়া হলো, তিনি আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে কবুল করেছেন। কল্পনা করুন তো, যদি তিনি আমাদেরকে একজন অমুসলিমের ঘরে জন্মগ্রহণ করাতেন এবং রবের প্রতি ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করাতেন, তাহলে আমাদের জীবন কেমন হতো? অথচ তিনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করে আমাদেরকে মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করিয়েছেন; এর চেয়ে বড় নেয়ামত কি হতে পারে? এই নেয়ামতের শুকরিয়া আপনি কিভাবে আদায় করবেন? এখন আপনিও ভাবছেন, তাই না? ঠিকই তো, এত উৎকৃষ্ট নিয়ামতগুলোর শুকরিয়া কিভাবে আদায় করবেন? আমিও এরকম হতাশায় ভুগি, কিভাবে তার পরিপূর্ণ শুকরিয়া আদায় করব? দিনের শেষে যখন কিছু ভেবে পাইনা, তখন হাত দুটো তুলে মহান রবকে বলি, "হে রব! আমার কাছে এমন কোন ভাষার মজুদ নেই, যা ব্যবহার করে আমি আপনার শুকরিয়া আদায় করতে পারি; এমন কোন কাজ নেই, যা সম্পাদনের মাধ্যমে তোমার শুকরিয়া আদায় করতে পারবো । আপনিই আমাকে শিখিয়ে দিন, কিভাবে আপনার পরিপূর্ণ শুকরিয়া আদায় করব। হে আমার রব! আপনি আমাকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করুন এবং আপনার বাতলে দেওয়া বিধিবিধানগুলো পালন করার তাওফীক দান করুন।" পরিশেষে, আমি নিজেকে এবং আপনাদেরকে আল্লাহভীতির নসিহত করছি এবং প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদেরকে আল্লাহভীরু বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফীক দান করেন। আমীন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।