পাপগুলো সাময়িকভাবে কিছুটা আনন্দ দিলেও আমাদের থেকে কেড়ে নেয় হৃদয়ে বহে যাওয়া প্রশান্তির জলধারা। এই জলধারা তখন হৃদয়-নদীতে বহে, যখন দিনগুলো হয় দোয়ামুখর; যখন সকাল-সন্ধ্যার অধিকাংশ সময় কাটে ঠোঁট ছুঁয়ে বেরিয়ে আসা 'আস্তাগফিরুল্লাহ'-র মাধ্যমে। সুখ-দুঃখের সাগরের একমাত্র কিনারা যখন হয় আল্লাহর স্মরণ।
এই পাপগুলো অক্ষত হৃদয়কে খোঁচা দিয়ে দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। আর তা থেকে ঝরে পড়ে ব্যথার রক্তকণা; মস্তিষ্ককে এলোমেলো করে দেয়, বিলীন করে দেয় ধৈর্য নামক অমূল্য সম্পদকে। যার ফলে আমরা অল্পতেই রেগে যাই। প্রিয় মানুষগুলোর প্রতি নিজের অজান্তেই এমন ব্যবহার করে ফেলি, যা ভাবলে আজ অনুশোচনায় মন ভরে ওঠে। সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাই, নিজের প্রতি বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে। হৃদয় গহীনে কাজ করে এক নাম না জানা বিষণ্ণতা। যখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি—কেন এই হতাশা আমাকে মুড়িয়ে নিয়েছে? কেন জীবনের স্বাদ হারিয়ে গেছে? কেন আজ আমার হৃদয় ক্ষতে জর্জরিত?
এর থেকে পরিত্রাণের কি কোনো উপায় নেই?
তখনই হৃদয়ের আয়নায় ভেসে ওঠে মহান রবের বাতলে দেওয়া সেই প্রতিষেধক, যা তিনি সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে তাঁর রাসূলকে (সা.) বলেছেন:
'জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই মন প্রশান্ত হয়।' (সূরা আর-রা'দ: ২৮)
এখন আমি জেনে গেছি আমার হতাশা, কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা আর অস্থিরতার মহৌষধ হলো আল্লাহর জিকির। এখন জীবনে তা বাস্তবায়নের পালা। প্রতিটি সুখ ও সংকটে মহান রবের স্মরণে অবিচল থাকার বদ্ধপরিকর হওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সাজিয়ে তোলা মহান রবের কৃতজ্ঞতার সুরে।"
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।