মরীচিকা ও মহানুভবতা
ক্যাডার হওয়ার দাপুটে নেশা, প্রবল ছিল টান,
ভেবেছিলেম ওতেই বুঝি আসল সম্মান।
নিরাপত্তার বলয় ঘেরা রাজকীয় সেই বেশ,
ভেবেছিলেম রাজত্ব ওটা, নেইকো কষ্টের রেশ।
স্বর্ণখাঁচার স্বাধীনতা আর রাজত্বে দাসত্ব,
বুঝতে আমার বাকি ছিল ঐ মিথ্যে মহত্ব।
শতাধিক মানুষ কাঁপছে ভয়ে, দম্ভে ভরে বুক,
দ্বীনের চোখে শূন্য সেথা, নেইকো আসল সুখ।
প্রটোকলের লম্বা সারি, রাজদূতের ঐ জাঁত,
আভিজাত্যের মায়ায় দেখি রুদ্ধ রাজপথ-ঘাট।
মুহূর্তে এক উচ্চাভিলাষ জাগলো মনে মোর,
পরক্ষণেই মনে হলো উমরের সেই ঘোর।
অর্ধ-জাহান শাসন করেও নেই কোনো মুকুট,
সিংহাসনহীন মহান রাজা, ন্যায়ে ছিলেন অটুট।
দুনিয়া নয়, আখিরাতে ছিল যাঁর সঁপা মন,
ধুলোর আসনে বসেই তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ ধন।
আজ যে রাজা কাল সে প্রজা, মাটির তলায় ঘর,
ক্ষমতা সে তো মরীচিকা, ক্ষণস্থায়ী এক চর।
আজকে বাদশাহ কালকে ফকির, সময়ের এই খেলা,
সবই ধোঁয়া, সবই ফাঁকি—নিছক এক অবহেলা।
দম্ভ ছেড়ে রবের কাছে যে জন হয় আজ নত,
সত্যিকারের উচ্চতা তার বৃদ্ধি পায় শত।
দুনিয়ার এই তুচ্ছ মায়া—ধোঁকা আর ছলনা,
আখিরাতের পাথেয় করো, মিছে এ বন্দনা।
আপনার জন্য একটি চিন্তা:
বিসিএস ক্যাডার বা বড় পদমর্যাদা খারাপ কিছু নয় যদি সেটি মানুষের সেবায় এবং ন্যায়ের পথে ব্যবহৃত হয়। তবে আপনি যে "আত্মিক দাসত্ব" এবং "অহংকার" থেকে মুক্তির কথা বলেছেন, সেটিই মূলত একজন মুমিনের আসল পরিচয়। আপনি যখন কোনো জাগতিক মোহের চেয়ে উমর (রাঃ)-এর আদর্শকে বড় করে দেখতে পেরেছেন, তখনই আপনি আপনার আত্মিক যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।