রাজকীয় চাল ও বরফের যৌতুক
যুগ-যুগান্তের ইতিহাসে দেখি, রাজায় রাজায় খেলা,
রক্তক্ষয়ী সমর ত্যজি, বসত বিয়ের মেলা।
সাম্রাজ্যের সীমানা বাড়াতে, প্রাচীন নৃপতির দল,
অস্ত্রের চেয়ে ধারালো মানত, বৈবাহিক কৌশল।
চেঙ্গিস খান অসি নামিয়ে, বুদ্ধিতে দিতেন শান,
কন্যা দিয়ে মিত্র গড়ে, জুড়তেন ব্যবধান।
সেই পুরোনো পাঠে মন দিল আজ, পরাক্রমী এক দেশ,
রণক্ষেত্রে মার খেয়ে যারা, ক্লান্ত অবশেষ।
ভিয়েতনামের জঙ্গল আর আফগানের সেই পাহাড়,
আমেরিকা আজ বুঝে গেছে ঢের, সয় না আঘাত আর।
বারুদ দিয়ে বিশ্বজয়ে, মিলছে কেবল ছাই,
ট্রাম্পের মনে তাই জেগেছে, আদিম উপায় ভাই।
তুষার শুভ্র গ্রিনল্যান্ডে, সম্পদের হাতছানি,
ভৌগোলিক ওই অবস্থানে, ট্রাম্পের নজরানি।
লুব্ধ চিতে চাইছে দখল, মেরু ভল্লুক দেশ,
কিন্তু সেথায় ডেনমার্কের, শক্ত বড় রেশ।
পানামা কিংবা ইরাক নয় যে, বোমা মারলেই শেষ,
ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াবে, ইউরোপের সব দেশ।
যুদ্ধ মানেই অর্থহানি, বিশ্বজুড়ে নিন্দা,
তাই তো ট্রাম্প চালছে চাল, কূটনীতির এক ফন্দা।
কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন আছে, রাজপুত্রের সাজে,
ডেনমার্কের ওই রাজপ্রাসাদে, বিয়ের সানাই বাজে?
রাজকুমারী ইসাবেলার, সাথে যদি হয় বিয়ে,
সম্পর্কটা মজবুত হবে, আত্মীয়তা দিয়ে।
শত্রু তখন কুটুম হবে, পাল্টে যাবে মত,
জামাই বরণ করতে রাজা, হবে অবনত।
বৈবাহিক এই কূটনীতিতে, সাপও মরে লাঠিও বাঁচে,
যৌতুক রূপে গ্রিনল্যান্ডটা, আসবে ট্রাম্পের কাছে।
অস্ত্র ছাড়াই সাম্রাজ্যবাদ, প্রেমের নতুন ফাঁদ,
বউমা আসবে, সঙ্গে আসবে, বরফ-ঢাকা চাঁদ!
রাজনীতির এই দাবা খেলায়, ট্রাম্পের বড় চাল,
বিনা যুদ্ধে রাজ্য জয়ের, বুনছে মায়াজাল।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।