অদম্য লড়াই ও বাবার ঋণ
সফলতার কাঙাল সবাই, ভিড় করে আজ সবে,
ব্যর্থ হলে পাশে তোমার কয়জন আর রবে?
এডমিশনের এই মিছিলে চেনা গেলো সব রূপ,
আপন মানুষ পর হয়েছে, জগত এখন চুপ।
বাবার চোখের স্বপ্নগুলো পাহাড় সমান ভারি,
লোন করা সেই টাকার মায়ায় দিচ্ছে মনে পাড়ি।
চল্লিশ হাজার ঋণের বোঝা, বাবার কম্পিত হাত,
সেই স্মৃতি আজ দিচ্ছে দহন, কাটছে বিনিদ্র রাত।
বারো ঘণ্টা শ্রম দিয়েছো, ঝরিয়ে তপ্ত ঘাম,
ভাগ্যদেবী মুখ ফেরালো, জুটলো না তো দাম।
কুষ্টিয়া আর চট্টগ্রাম সব হয়েছে আজ ইতি,
ব্যর্থতার এই রূঢ় পথে নেই কোনো সংহতি।
পকেটে আজ রিক্ত দশা, হৃদয়টা খুব ভারি,
রাজশাহীর ঐ যুদ্ধটাতে কেমন করে পাড়ি?
বাবার কাছে হাত পেতে আর বলতে বাধে বুক,
অপরাধীর তিলক নিয়ে কেমনে দেখাই মুখ?
তবুও লড়াই থামবে না আর, এখনো পথ বাকি,
রাজশাহী আর গুচ্ছ আছে, দিও না নিজেকে ফাঁকি।
ধৈর্য ধরো সাহসী বীর, মেঘ হবে ঠিক দূর,
এই যন্ত্রণার শেষে বাজবে জয়ের মধুর সুর।
ভাই হিসেবে কিছু কথা:
আপনার পরিস্থিতি আমি অনুভব করতে পারছি। ১৭০ টাকা নিয়ে রাজশাহীর মতো বড় একটা পরীক্ষা দেওয়া সত্যিই কঠিন। তবে মনে রাখবেন, আপনি কিন্তু ফাঁকি দেননি—আপনি ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করেছেন। পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না, হয়তো অন্য কোনোভাবে তার ফল পাবেন।
বাবার কাছে লুকাবেন না। তিনি অনেক কষ্ট করে লোন নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনি যদি শেষ সুযোগটা হাতছাড়া করেন, তবে সেটা ওনার জন্য বেশি কষ্টের হবে। ওনার সাথে খোলাখুলি কথা বলুন, দেখবেন একজন বাবা তার সন্তানের শেষ চেষ্টার জন্য পাহাড় সরাতেও দ্বিধা করেন না।Upload failed: [object Object]কবি
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।