ইসলামিক ধারাবাহিক গল্প
হিদায়েতের_পথে
🌼পর্ব:০২🌼
এশার নামাজ আদায় করে। মরিয়ম নিচে যায় সবার জন্য নাস্তা রেডি করে।
সাবাইকে খাবারের জন্য ডাকে।
মরিয়মের শ্বশুর মরিয়ম কে অনেক ভালোবাসে।
শ্বশুরঃ- কি রে মা, আজকে কিছু হয়েছে? চোখ মূখের এমন অবস্থা কেন?
মরিয়মঃ- না বাবা কিছুই হয়নি।এমনি ভালো লাগছিল না।
আচ্ছা বাবা আপনারা সবাই খেতে বসুন।
শ্বশুরঃ- হুমম বসছি। আচ্ছা মাহির কোথায়? আজকে তো বাসায় থাকার কথা।
মাহিরঃ- এই তো বাবা এসে গেছি।
বাবাঃ- কই ছিলি এতক্ষণ? তোর সাথে আমার কথা আছে।
মাহিরঃ- আচ্ছা খেয়ে নে। তারপর কথা হবে। কই মরিয়ম তারাতাড়ি খেতে দাও। ( এমন ভাব নিচ্ছে মনে হয় বউ কে সে খুব ভালোবাসে কিছুই হয় নাই।)
মরিয়মঃ- হুমম দিচ্ছি।
মাহির মনে মনে চিন্তা করে সন্ধায় এত কিছু হলো তাও কেমন যেন কোনো পরিবর্তন নাই।
সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে যে যার রুমে যায়। মাহিরঃ- শোন মরিয়ম সন্ধ্যায় তোমাকে আমি যা বলেছি। সব কিছু সিরিয়াস ভাবে বলেছি। তো তুমি নিজ থেকে চলে যাবে। আর যদি না যাও তাহলে অন্য ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।
মরিয়মঃ- মানে।
মাহিরঃ- এত মানে বুঝা লাগবে না। ঘুমাও
বলে মাহির পাশ ফিরে শুয়ে পরে।
মরিয়মঃ- কান্না জরিত বলতে লাগল। কেন বিয়ে করছেন আমায়,। কেন আমার জিবন এমনি তে নষ্ট করলেন আপনি।
কি ক্ষতি করছি আপনার????
মাহিরঃ- এই মেয়ে ঘুৃমা। নেকা কান্না কানতে আসবি না। আমাকে ঘুমাতে দে।
মরিয়ম ঃ- প্লিজ দেখুন যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। সব ভুলে যাই আমরা নতুন সম্পর্ক নতুন ভাবে গড়ে তুলি। আর ও আমি আপনার স্ত্রী। আপনার আর আমার সম্পর্ক হালাল। কিন্তু আপনার তানিয়ার সাথে যে সম্পর্ক তা হল হারাম। আর শয়তানের ধোকা।
শুনেন বেগানা নারীর সাথে কথা বলা হারাম।
মাহিরঃ- অতিরিক্ত কথা হচ্ছে। মাথা গরম হলে তোর খবর বানিয়ে ছাড়ব। শোন দুনিয়া হচ্ছে ভোগের বস্তু যারা দুনিয়া পায় তারাই পৃথিবীর স্বাধ গ্রহন করতে পারে। আর তোর মত এমন আটকা বন্দী চিন্তা ভাবনা নিয়ে জীবনে কোনো আনন্দ আছে।
তোর মত ক্ষেত মার্কা মেয়ের সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছে নাই। ঘরে থেকে বের করে দিব।
মরিয়মঃ- জ্বী না দুনিয়া কখনো ভোগের বস্তু নাহ। এটা ভুল ধারনা,,,,, দুনিয়া হলো একটা পরিক্ষা ক্ষেত্র।
আজ হোক কাল মৃত্যু বরন করতেই হবে,,,
اَلۡہٰکُمُ التَّکَاثُرُ ۙ
প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে,
حَتّٰی زُرۡتُمُ الۡمَقَابِرَ ؕ
এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও।
—আত তাকাসুর - ১-২
এই মরিচিকা ময় পৃথিবীতে আমরা কেউ স্থায়ী না।
আজ হোক কাল আমাদের মৃত্যু বরন করতেই হবে। আপনার তো টাকা পয়সা সব আল্লাহ দিছে তাও কেন শুকরিয়া আদায় করেন না।
মাহির মরিয়মের কোনো কথা কানে না নিয়ে তানিয়ার সাথে কথা বলতে শুরু করে।
এতদিন মাহির আমার সামনে কখনো ঐ মেয়ের সাথে কথা বলেনি। কালকের পর থেকে সব আমার সামনেই করছে।
একটা মেয়ে পৃথিবীতে সব কিছুর ভাগ দেয় কিন্তু স্বামীর ভাগ কাউকে দিতে চায় না।
মরিয়মের পৃথিবী এখন অন্ধকার।
মরিয়মঃ-আল্লাহ আমি আর সহ্য করতে পারছি। আল্লাহ আমাকে তুমি ধৈর্য হারা কইরো না। আমার সহায় হও।
মাহিরঃ- হ্যালো তানিয়া। তুমি কবে আসছ দেশে আর ভালো লাগছে না। প্লিজ তারাতারি চলে এসো। তোমার অপেক্ষায় আমি সারাদিন তুমি আমার দুনিয়া।
লেখিকাঃ-( যেদিন বুকের উপর ছুরি মেরে যাবে সেদিন বুঝবি কে দুনিয়া আর আখিরাত ছিল যত্তসব ফালতু পোলাপাইন )
তানিয়াঃ- ওহ ডিয়ার এইতো চলে আসবো। আর তো কটা দিন।,,,,,,, আচ্ছা বাবু আমার কিছু টাকা লাগবে পাঠিয়ে দাও না।
মাহিরঃ- ওকে আমার সব তো তোমারি।
,,,,,,,,,
,,,,,,,,,,,,,,,
,,,,,,
মাহির কথা শেষ করে বিছানায় এসে শুয়ে পরে। মরিয়ম কোথায় আছে খোজ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ল না।
শুয়ে পড়ার সাথে সাথে। মরিয়ম খাটের পাশে বসে মাহিরের ২ পা জরিয়ে ধরে। প্লিজ আপনি আমার সাথে এমন করবেন নাহ। আপনি আমাকে ছেড়ে দিয়েন নাহ। আমি আপনাকে অনেক অনেক ভালোবাসি। আমার জিবনে আপনি প্রথম পুরুষ। আপনি আমার সব। আমি এই কদিনে আপনাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। আমি আপনাকে ছাড়া থাকতে পারব না।
অনেক ভালোবাসি,,,,
মাহিরঃ- এই পা ছাড় কি করছিস। ঘুমাতে দে। তোকে বলছিনা আমি তানিয়া কে ভালোবাসি আমার নিজের থেকেও ভালোবাসি।
লেখিকাঃ-(ওকে দেখমুনে তোর এই ভালোবাসা কই যায়)
আনস্মার্ট ক্ষেত।
বাবার জন্য তোরে আমি বিয়া করছি। বাবাকে ভয় পাই। নাহলে তোর মত মেয়ে আমার কাজের লোক হওয়ার যোগ্যতাও রাখে না।
লেখিকাঃ- ( তুই ওর স্বামী হওয়ার যোগ্যতা রাখ কিনা সেটা বল)
মরিয়ঃ- আপনার বাবার জন্য আমার জিবন টা নষ্ট করলেন কেন। কেন আমার জিবন টা নষ্ট করলেন।
মাহিরঃ- তুই এত ধার্মিক তোর মত কাউরে বিয়ে করতি। আমার মত মর্ডান ছেলেকে বিয়ে করলি কেন?? আমার বাবার টাকা দেখে আর সহ্য হয় নাই। চলে আসলি একদম।
মরিয়ম ঃ- না,,,,,,,,,,,,
আমি তো এই বিয়ে করতে চাইছিলাম না। গরিব সৎ দ্বীনদার ছেলেও ভালো । কিন্তু আমি আমার বাবা মা কে বুঝাতে পারিনি ।
মা- বাবা কে এত করে বল্লাম বাবা আমার বেশি কিছু বলার নাই তাও এই রকম ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিও না। আমাকে আমার মত ধার্মিক কোনো ছেলের সাথে বিয়ে দেও।
মাঃ- হো হইছে অনেক ভালো ফেমিলি। ছেলে খারাপ হবে না। তাদের অনেক টাকা পয়সা। তুই সূখে থাকবি।
মরিয়ম ঃ- মা টাকা পয়সায় কি সুখ বয়ে আনে মা।
মাঃ- এখানেই তোর বিয়ে হবে। বিয়ের পর এমনি ভালো হয়ে যাবে। আর কথা বাড়াস না।
মরিয়ম চিৎকার করে বলে ওঠে মা ও মা আজ তোমাদের টাকার লোভে আমি আজ ঘরের ফেলনা হয়ে গেছি। ওমা কেন করলে আমার সাথে।
দেখুন যা হয়েছে তা হয়ে গেছে। প্লিজ আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না। আমি আপনাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।
মাহিরঃ- হইছে এই সব নেকামি বাদ দে। আর যদি ঘুমের ডিস্টার্ব কর। তাহলে তোর গায়ে হাত উঠাতে বাধ্য হব।
লেখিকাঃ- ( কইছে তোরে নেকামি। খাচ্চোর পোলাপান তোদের জন্য মেয়েদের জিবন গুলো নষ্ট হয়। তোরা এই সেই কইরা বিয়ে কর তারপর একটা মেয়ে কে পুতুলের মত ব্যবহার কর। তারপর পরকিয়া কর, পুরান প্রেমিক ভুলতে পার না। স্ত্রী রে কষ্ট দিয়ে ডিভোর্স দেও। একটা বার ভাবোস না তোর স্ত্রী তোরে কতটা ভালোবাসে। বুঝতেই চেষ্টা কর না। ডিভোর্সের পর মেয়েটা কতটা অসহায় বুঝতেই চাস না।
একজন ডিভোর্সি মেয়ে পরিবার, সমাজ, আত্ত্বীয় সজন সবার কাছে অসহায়।
কেন দুনিয়ার একটু সুখের জন্য একটা সংসার নষ্ট কর?
সব ভুলে দুজন দুজনকে ক্ষমা করে। ভালোবাসা দিয়ে তো বিশ্বজয় ও করতে পারো। কেন নিজের গায়ে স্ত্রী গায়ে ডিভোর্সের দিয়ে দাগ লাগাও?
তোদের পারথের মত হৃদয় গলেই না ভাবোস সব নেকামি সময় মত ঠিক হবে। তোদের মত বেইমান জঘন্য গুলার শাস্তি হবে)
মরিয়ম ঃ- কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। সারারাত কাঁদতে কাঁদতে কাটিয়ে দেয়৷ মনের অশান্তি কিভাবে শান্ত করবে।
সকালে কোনো ভাবে ফজরের নামাজ আদায় করে। কিছুই ভালো লাগে না কি করবে। হতাশায় ডুবে গেছে।
তাও শ্বশুড় শাশুড়ীর জন্য অনেক কষ্টে নাস্তা বানায়। মুখ ফুটে কিছুই বলে না। মুখ অন্ধকার। সকল কষ্ট মরিয়ম কে গ্রাস করে নিয়েছে।
মাহিরঃ- নাস্তা খেয়ে বেড় হয়ে যায়। একবার মরিয়মের দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করল না।
লেখিকা ( তা তাকাবি কেন,,ওর হাতের রান্না তো গিলতে পার। সে কেমন আছে তার খোজ নিতে তোদের কষ্ট লাগে তোদের তো পেট ভরলেই হইছে)
মরিয়মঃ- কোনোরকম কিছু খেয়ে রুমে চলে গেল। সাথে সাথে ওর মায়ের ফোন।
ফোন ধরে মরিয়ম,,,,,,,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
( আসসালামু আলাইকুম,,,,,
কেমন হইছে মতামত আশা করছি। আর ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,,,, আর ভুল গুলো ধরিয়ে দিবেন। নবীজি পড়ালেখার জন্য শুদুর চিনে যেতে বলছেন এটা একটা মিথ্যা হাদিস। আমি জানতাম না পোস্ট দেওয়ার পর জানতে পারছি।
আমার জন্য দোয়া করবেন)
উপস্থাপক:আল-মামুন রেজা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।