ইসলামিক ধারাবাহিক গল্প
🌼হেদায়েতের_পথে🌼
🌺পর্ব:০১🌺
এত দিন শুধু বকাঝকা শুনেছি আজ স্বামীর হাতে মার ও খেলাম।
আজ আমার স্বামীর বন্ধুর বিয়েতে মুখ খুলে বিয়েতে যাইনি তাই আমার স্বামী আমার গায়ে হাত তুলল।
আমি আনস্মার্ট ক্ষেত মেডেল ক্লাস মেয়ে। আমার সাথে তার যায় না।
আজ আমার বন্ধুর বিয়ে আজকে তোমাকে এইভাবে না গেলে হতো না?
ঘরে তো সারাক্ষণ সেজেগুজে থাক বাহিরে বের হলেই কি তো এই রকম বস্তা পড়া লাগে??
আজকে বিয়ের দিন একটু সাজুগুজু না করলেই নয়।
তুমি আমার মানসম্মান কিছুই রাখলে না।
আজ কান খুলে শুনে রাখ মরিয়ম। আমি তোমাকে ভালোবাসি না। তুমি কি বুঝ না। আমি একজন আধুনিকা মেয়ে চাই ওকে,,,,,,,,
সে আজকে বলে দিয়েছে অন্য কোথাও নাকি বিয়ে করবে৷
আমাকে নাকি রাখবে না।
সে আধুনিকা মেয়ে চায়। আমি নাকি তার পায়ের যোগ্যতাও রাখি না।
সে তার বাবার কথা রাখতে বিয়ে করেছে। বিয়ের ৩ মাস হবে এমন। এতদিন সে আমাকে কিছু বলেনি কারন তার বাবাকে সে ভয় পায়।
সে একটা মেয়েকে ভালোবাসে। তার নাম তানিয়া। সে নাকি দেশের বাইরে গিয়েছে পড়ালেখার জন্য। ৬ মাস পর দেশে আসবে। তারপর তাকে বিয়ে করবে আমাকে নাকি সে ছেড়ে দিবে।
আমার স্বামী মাহির এগুলো বলে আমাকে ধাক্কা মেরে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে চলে গেল। আর দরজায় দাড়িয়ে বলে গেল আজকের ঘটনা বাবা মার কানে যেন না যায়।
আস্তে আস্তে বিছানায় উঠে কাঁদতে কাঁদতে ভাবছি আমার সাথে কেন এমন হলো।
আমি মরিয়ম কখনো ভাবিনি আমি পর্দা করব। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ব।
আমার জিবন ছিল রঙিন দুনিয়ায় চিন্তা ভাবনা। ঘুরব ফিরব দুনিয়ায় মায়া জালে আমার স্বপ্ন দেখা।
আমি ছিলাম বই প্রেমিক যখনি হাতে টাকা আসত বই কিনতাম। কান্না কাটি করেও বই কিনতাম।
সারাদিন বই পরতাম। পরিক্ষায় আমার রেজাল্ট ভালোই ছিল।
আর সেই বইয়ের প্রতটি পাতায় আমার স্বপ্ন আকিবুকি করত।
আমার একটা বান্ধবী ছিল মমি । ও আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড ছিল। ও ছিল ধার্মিক প্রকৃতির। ও আমাকে আমার ধর্ম সম্পর্কে অনেক বুঝাইতো কিন্তু আমার তখন ওর কথা গায়ে লাগত না। এমন কি মাঝে মাঝে কান্না করে দিত।
আমার বাবার টাকা পয়সা আল্লাহর রহমতে ভালোই ছিল। কিন্তু মমির বাবার তেমন টাকা পয়সা ছিল না। ওরা অনেক ধার্মিক ছিল।
ওরে আমি মাঝে মাঝে বলতাম তা মমি আমি যতদুর শুনেছি। মুসলিম মেয়েরা মানে যারা সব কিছু মানে তারা নাকি বেশি পড়ালেখা করে না। তারাতারি বিয়ে করে ঘর সংসার করে তারা ঘর থেকে বের হয় না। যদিও বের হয় তোর মত তাম্বুরা পড়ে বের হয়।
মমিঃ- চুপ কর! তুই ইদানীং বেশি ফাজলামো করস শোন তুই মুসলিম মেয়ে হয়ে পর্দা কর না ঠিক আছে সেটা তোর মতে তোর বেপার।
কিন্তু এটা আমার কাছে আমার মহান রবের আদেশ।
যা আমার জন্য ফরজ। আর আমি আল্লাহ কে খুশি করার জন্য পর্দা করি। তোদের খুশির জন্য বা তোদের এই কটু কথায় আমার কিছু হবে না।
পর্দা একটি মেয়েকে ঐ রকম হিফাজত করে যেমন টা ঝিনুকের ভিতর মুক্ত লুকিয়ে থাকে। পর্দা আমার অহংকার।
আর হ্যাঁ কি বল্লি তুই পড়া লেখা করা যাবে না? এই সব হচ্ছে অজ্ঞ মানুষের কথা।
মা আয়েশা (রা) ছিলেন নবীর স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী। তিনি অনেক অনেক হাদিস মুখস্থ করে। সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে।
শোন আমাদের নবি শিক্ষা গ্রহণের জন্য সুদূর চিনে যাওয়া লাগলে তাও জেতে বলছেন। আর হু পর্দার সাথে মেয়েরা সব কাজ করতে পারবে শুধু কিছু ক্ষেত্রে বাধা আছে। যদি আমরা তা করতে যাই তাহলে আমরাই বিপদে পরব।
আর আমরা যদি শিক্ষিত না হই তাহলে বিধর্মীদের জবাব দিব কিভাবে।
যাই হোক তুই তো আর আমার কথা শুনবি না। দোয়া রাখি আল্লাহ তোকে হিদায়েত দান করুক আমিন।
মরিয়ম ঃ- হইছে চল। ক্লাসে যাই।
আজ আমি ওর দোয়ায় মনে হয় হিদায়েত পেয়েছি। ওর উছিলাই আমি সত্যের পথে আসতে পারছি।
ও যদি আমার জন্মদিনে আমাকে,,
মা খাদিজা,মা আয়েশা, মা ফাতিমা।
আমার নবীর জিবনি এই তিনটা বই আমার জন্মদিনের উপহার হিসেবে না দিত তাহলে আমি আজ এখানে আসতে পারতাম না।
ঐ বই গুলো পরেই আমার জিবনে নতুন মোর নেয়।
এর জন্যই মনে হয় বলা হয়ছে,,,,,
সৎ সঙ্গে সর্গ বাস
অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।
জিবনে একজন উওম বন্ধু সবার দরকার।
ওরে যদি আল্লাহ আমার বন্ধু না করে দিতেন তাহলে যে কি হইত আমার আল্লাহ মাফ কর।
হিদায়েত পাব তাই মনে হয় আল্লাহ আমাকে এমন একজন বন্ধু দান করছেন।
মরিয়মের ধ্যান ভাংগে। বাস্তবে ফিরে এসে কাঁদছে আর বির বির করে বলছে
আমি তো যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে আল্লাহর কাছে চাওয়া ছিল একটা আল্লাহ যেন আমাকে তার কোনো প্রিয় বান্দা আমার জিবন সংগী হিসাবে দান করে।
প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত পড়তাম।
তাও কেন আমার কপালে এমন স্বামী হলো কেন এমন টা হলো।
এশার আজান শুরু হয়। মরিয়ম আজানের উওর দিয়ে দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করে।
( আজানের পর ইকামতের সময় দোয়া করলে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন)
হে আল্লাহ তুমি আমার স্বামীকে হিদায়েত দান কর। আমার স্বামীকে হিদায়েত দান কর। তাকেও তোমার দয়ার সাগরে ডুবিয়ে দাও।) আমিন।
ভংগে পড়লে চলবে না। মুমিন কখনো হতাশ হয় না। যেকোনো বিপদে আমাকে ধৈর্য ধরতেই হবে। আমার আল্লাহ আমার জন্য যা ভালো দান করবেন। আমি তার কাছে মন প্রান উজার করে চাইবো
নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার জন্য কল্যান দান করবে।
( আসসালামু আলাইকুম,,, কেমন হইছে জানাবেন আপনাদের মতামত পেলে আরো ভালো ভালো গল্প উপস্থাপন করব । আর এখানে ভুল ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিবেন আর ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
লেখা ও উপস্থাপক:আল-মামুন রেজা।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।