Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ প্রদীপ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
11 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,228 পয়েন্ট)   4 দিন পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিরিজ- থ্রিলার টাইম

শেষ প্রদীপimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ধর্মীয় রহস্যভিত্তিক থ্রিলার | ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাত তিনটা সতেরো। গ্রামের পুরোনো মসজিদটায় তখন কেউ থাকে না। মসজিদের বয়স দেড়শ বছরেরও বেশি। চারপাশে নতুন বাড়িঘর উঠেছে, কিন্তু পেছনের পুরোনো অংশটা এখনও আগের মতোই পড়ে আছে—শেওলা ধরা দেয়াল, ভাঙা কার্নিশ, আর মাটির নিচে নেমে যাওয়া একটা ছোট ঘর, যেটা বহু বছর ধরে বন্ধ।


সেদিন রাতেই মুয়াজ্জিন রহিম প্রথম আলোটা দেখেছিল। দরজার ফাঁক দিয়ে হলুদ একটা রেখা বেরিয়ে আসছিল। সে ভেবেছিল কেউ হয়তো ভেতরে ঢুকেছে। তালাটা হাতে নিয়ে দেখল, মরচে ধরা অবস্থাতেই আছে। দরজা খুলতেই তার বুকের ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে গেল।


ঘরের এক কোণে পিতলের একটা প্রদীপ জ্বলছে।


প্রদীপে তেল নেই। শুকনো সলতেটাও প্রায় পাথরের মতো শক্ত। তবু ছোট্ট আগুনটা স্থির হয়ে জ্বলছে।


রহিম আর ভেতরে ঢোকেনি।


পরদিন খবর পেয়ে ঢাকায় থাকা প্রত্নতত্ত্ব গবেষক সামিয়া রহমান এলেন। ঘরটা দেখে প্রথমেই তিনি প্রদীপের দিকে গেলেন। আঙুল দিয়ে পিতলের নিচের অংশটা ছুঁয়ে দেখলেন। তারপর প্রদীপটা নাড়াতে গিয়ে থেমে গেলেন।


পিতলের তলার সঙ্গে খুব সরু একটা ধাতব নল জোড়া। নলটা দেয়ালের ভেতরে ঢুকে গেছে।


“এটা প্রদীপ না,” সামিয়া বললেন, “কেউ এটাকে প্রদীপের মতো বানিয়েছে।”


দেয়ালের ভেতরের নলটা অনুসরণ করে তারা পুরোনো চুনসুরকির একটা ফাঁপা অংশ পেলেন। সেখানে শুকনো তেলের গন্ধ। বহু পুরোনো কোনো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা হয়তো এখনও কাজ করছে। প্রদীপের নিচে লুকানো ক্ষুদ্র আধারে জমে থাকা তেল ধীরে ধীরে সলতে পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছিল। বাইরে থেকে দেখলে তেলহীন প্রদীপ। আসলে তেল ছিল দেয়ালের ভেতরে।


রহস্যের প্রথম দরজা খুলল। কিন্তু দ্বিতীয় দরজাটা আরও অন্ধকার।


প্রদীপের পেছনে কাপড়ের একটা ছেঁড়া টুকরো পাওয়া গেল। তাতে আরবি-ফারসি মিশ্র পুরোনো হাতের লেখা। অনুবাদ করলে দাঁড়ায়—“যে আলো নিভবে না, তার সামনে দরজা খুলবে না।”


মসজিদের পুরোনো নথি খুঁজতে গিয়ে সামিয়া আরেকটি অস্বাভাবিক জিনিস পেলেন। ১৮৯১ থেকে ১৮৯৭—ছয় বছরের কোনো হিসাব নেই। ওয়াকফের খাতা আছে, জমির হিসাব আছে, মেরামতের খরচ আছে; শুধু ওই ছয় বছর যেন কেউ ইতিহাসের খাতা থেকে ছিঁড়ে নিয়েছে।


পুরোনো দলিলের একটি প্রান্তে অবশ্য লেখা ছিল—জমিটি দান করেছিলেন স্থানীয় এক হিন্দু জমিদার। শর্ত ছিল, এখানে প্রার্থনার জায়গা থাকবে এবং পথিক, দরিদ্র ও যে-কোনো ধর্মের মানুষ আশ্রয় পাবে। সেই সূত্র ধরেই ১৮৯৫ সালের একটি বিবর্ণ ছবি পাওয়া গেল।


ছবিতে পাঁচজন মানুষ।


একজন মুসলিম আলেম। একজন খ্রিস্টান পুরোহিত। একজন হিন্দু সন্ন্যাসী। পাশে দাঁড়িয়ে দুজন ইউরোপীয় পোশাকের মানুষ।


ছবির পেছনে কালি দিয়ে লেখা—

“১৮৯৫। শেষ রাত।”


তার নিচে আরেকটি বাক্য।


“আজ যে সিদ্ধান্ত হবে, তার কথা কেউ জানবে না।”


সামিয়া ছবিটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইলেন।


রাত নামার পর আবার প্রদীপটা জ্বলে উঠল।


এইবার তিনি একা ছিলেন না। রহিম দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। ঘরের বাতাসে পুরোনো তেলের গন্ধ। দেয়ালের নিচে খসখসে শব্দ হচ্ছিল। সামিয়া মেঝের একটি পাথর সরাতেই নিচে কাঠের ছোট বাক্স দেখা গেল।


বাক্সের ভেতর ছিল কয়েকটি কাগজ, একটি পুরোনো সিলমোহর এবং সেই পাঁচজনের আরেকটি ছবি।


কিন্তু দ্বিতীয় ছবিটায় একজন মানুষ নেই।


প্রথম ছবিতে পাঁচজন। দ্বিতীয়টিতে চারজন।


পেছনে লেখা—


“চুক্তি রক্ষা হয়নি। জমির দলিল বদলে দেওয়া হয়েছে। যে বদলেছে, সে আমাদেরই একজন।”


সামিয়ার চোখ এবার সিলমোহরের দিকে গেল। সেটি জমিদারের নয়। মসজিদেরও নয়। পাঁচজনের মধ্যে থাকা ইউরোপীয়দের একজনের ব্যক্তিগত সিল।


আর তার পাশে ভাঁজ করা একটি কাগজ।


নামটি পড়েই সামিয়া থেমে গেলেন।


নামটা তিনি আগেও দেখেছেন—১৮৯৭ সালের পরের একটি সরকারি জমির নথিতে। সেখানে ওই ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়নি। বরং কয়েক বছর পরেও তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়।


অর্থাৎ ছবির মানুষটি অদৃশ্য হয়নি।


অদৃশ্য হয়েছিল শুধু সত্যিটা।


সামিয়া ধীরে ধীরে প্রথম ছবিটা আবার হাতে নিলেন। প্রদীপের আলো ছবির ওপর পড়ছিল। পাঁচজনের মুখ স্পষ্ট হয়ে উঠল।


চারজন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে।


শুধু একজন অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।


তার হাতে ক্যামেরা।


ছবিটা আসলে সে-ই তুলেছিল।


সামিয়া ছবিটা উল্টে দিলেন।


পেছনে নতুন করে একটি লাইন দেখা গেল, যেটা এতক্ষণ ধুলোয় ঢাকা ছিল—


“যে ছবি তোলে, সে-ই সবসময় ছবির ভেতরে থাকে না।”


ঠিক তখনই প্রদীপের শিখা নিভে গেল।


ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।


আর দেয়ালের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ধাতব কিছু ঘষে ওঠার শব্দ শোনা গেল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1348 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27228। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4839
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সিরিজ- থ্রিলার টাইম শেষ প্রদীপ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ধর্মীয় রহস্যভিত্তিক থ্রিলার[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

ছোট্ট প্রদীপ এক রাতে একটি ছোট্ট প্রদীপ ভাবল, “আমি তো এত ছোট, আমার আলোতেই বা কী হবে?” তারপরও সে জ্বলতে থাকল। কিছুক্ষণ পর চারপাশের অন্ধকারে পথ হারানো এক বৃদ্ধ সেই ছোট্ট আলো দেখে পথ খুঁজে পেলেন�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
32 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ- থ্রিলার টাইম মানচিত্রের শেষ দাগ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন অভিযানভিত্তিক থ্রিল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ- থ্রিলার টাইম শেষ ফরমান মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ঐতিহাসিক থ্রিলার | ৯ সেপ্টেম্ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ- থ্রিলার টাইম শেষ ব্যালট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন রাজনৈতিক থ্রিলার | ৯ সেপ্টেম্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1129 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    269 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...