থ্রিলার সিরিজ: ছায়ার নকশা
সিজন-১
পর্ব–২ : নিষিদ্ধ ফাইল
লাইব্রেরির ভেতরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। মেহেদী দূর থেকে দেখছিল সেই দুজন লোক ধীরে ধীরে তার টেবিলের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, কিন্তু চোখে ছিল অদ্ভুত এক কঠোরতা। মেহেদীর বুক ধড়ফড় করছিল।সে দ্রুত মাথা নিচু করে বইয়ের পাতায় চোখ রাখল, যেন সে খুব মন দিয়ে পড়ছে। কিন্তু তার মনের ভেতর তখন ঝড় চলছে। "ওরা কি আমাকে খুঁজছে?"
লোক দুজন পাশের টেবিলে গিয়ে দাঁড়াল। তাদের একজন ধীরে ধীরে লাইব্রেরির চারপাশে তাকাতে লাগল।
হঠাৎ সে নিচু স্বরে বলল-
“ফাইলটা এখানেই থাকার কথা।”
আরেকজন বলল-
"ডক্টর হামিদ শেষবার এখানে এসেছিল।"
রাশেদের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
ডক্টর হামিদের নাম আবার শুনে তার সন্দেহ আরও গভীর হলো।কিছুক্ষণ পর লাইব্রেরির বৃদ্ধ কর্মচারী তাদের কাছে এগিয়ে এল।"আপনারা কাউকে খুঁজছেন?"সে জিজ্ঞেস করল।
লোকদের একজন শান্ত গলায় বলল-
“আমরা একটা পুরোনো গবেষণার কপি খুঁজছি। ডক্টর হামিদের লেখা।”
বৃদ্ধ লোকটা একটু ভেবে বলল-
“ওনার কিছু কাগজপত্র আর্কাইভ রুমে আছে।”
লোক দুজন তখন লাইব্রেরির ভেতরের একটা অন্ধকার করিডোর দিয়ে চলে গেল।মেহেদী কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বসে থাকল।তার মাথায় একটা চিন্তা ঘুরছিল-
“ডক্টর হামিদ কি এমন কিছু আবিষ্কার করেছিলেন, যার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে?”
কৌতূহল আর ভয় একসাথে তাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল।
সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল এবং দূর থেকে লোক দুজনকে অনুসরণ করতে লাগল।লাইব্রেরির আর্কাইভ রুমটা ছিল অনেক পুরোনো। ধুলো জমে থাকা তাক আর হাজার হাজার পুরোনো ফাইল সেখানে সাজানো।মেহেদী দরজার আড়াল থেকে দেখল লোক দুজন একটা ফাইল খুঁজছে।
কিছুক্ষণ পর তাদের একজন রাগে বলল
"ফাইলটা নেই!"
আরেকজন গম্ভীর স্বরে বলল-
"তাহলে কেউ আগে নিয়ে গেছে।"
এই কথা শুনে রাশেদের বুক কেঁপে উঠল।
কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে সে মনে করতে পারলকিছুক্ষণ আগে সে যে পুরোনো ম্যাগাজিন পড়ছিল, তার ভেতরে একটা ভাঁজ করা কাগজ ছিল।সে তখন গুরুত্ব দেয়নি।
কিন্তু এখন তার মনে হচ্ছে সেই কাগজটাই হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ।ঠিক তখনই হঠাৎ লাইব্রেরির আলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য নিভে গেল।অন্ধকার।
তারপর আবার আলো জ্বলে উঠল।
আর সেই মুহূর্তেই লোক দুজন দরজার দিকে তাকাল।
তাদের চোখ সরাসরি রাশেদের উপর পড়ল।
একজন ধীরে ধীরে বলল
“তুমি এখানে কি করছ?” মেহেদীর গলা শুকিয়ে গেল।
সে কিছু বলার আগেই লোকটা তার দিকে এগিয়ে এল।
তার আঙুলের আংটিতে আবার সেই ভয়ংকর প্রতীকটা ঝলসে উঠল। ত্রিভুজের ভেতরে একটি চোখ।
লোকটা নিচু স্বরে বলল-
“তুমি কি কিছু দেখেছ?”
রাশেদের মনে হলো সে যেন এক ভয়ংকর জালের মধ্যে আটকে গেছে।কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রশ্ন এখন তার মাথায় ঘুরছে—
“ডক্টর হামিদের সেই নিষিদ্ধ
ফাইলে আসলে কি ছিল?”
চলবে…
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।