থ্রিলার সিরিজ: ছায়ার নকশা
সিজন-১
পর্ব–৯ : আক্রমণের ছায়া
মেহেদী আর সারা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ত্রিভুজের মধ্যে চোখের প্রতীক যেন তাদের উপর সরাসরি নজর রাখছে। হঠাৎ কম্পিউটার থেকে একটি শব্দ ভেসে আসে—“চলো, সময় শেষ।”
মেহেদীর বুক কেঁপে ওঠে। সে সারার দিকে তাকায়, “এটা কি মানে?” সারা মাথা নেড়ে বলল, “তাদের খবর পেয়েছি। আমরা নিরাপদ নই।”
পরের মুহূর্তে বাইরে দরজার কাছে ধাক্কা, কাঁচের টুকরো ভাঙার শব্দ। দুজন দ্রুত পেছনের গোপন দরজার দিকে দৌড়ায়। মেহেদী ব্যাগে ডায়েরিটা শক্তভাবে ধরে রাখে। তারা জানে একবার ধরলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
গলির ভেতর দৌড়াতে দৌড়াতে তারা এক অন্ধকার নীচুতলায় পৌঁছায়। সেখানে কিছু কাচের বাক্স, পুরোনো সরঞ্জাম, আর একখানা বড় মানচিত্রে কয়েকটা লাল দাগ। সারা মানচিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলল, “এইগুলো হল তাদের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপের কেন্দ্র।” মেহেদীর চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়—রাজনীতির, অর্থনীতির, এমনকি ধর্মীয় সংঘাতের স্থানগুলো সবই এখানে চিহ্নিত।
হঠাৎ নিচ থেকে সোজা ধাপের শব্দ আসে। কেউ তাদের অনুসরণ করছে। মেহেদীর হাত স্বাভাবিকভাবেই কাঁপতে লাগল। সারা দ্রুত বলে, “এটা শুধু অনুচ্ছন্ন পথ, তারা জানে আমরা এখানে।” তারা গা ঢাকা দেয়। কয়েক সেকেন্ড পর, ভেতরের বাতাসে গলাগলির শব্দ এবং কণ্ঠস্বর ভেসে আসে।
মেহেদী কম্পিউটারের স্ক্রিন মনে পড়ে যায়। সে দ্রুত কম্পিউটার চালু করে ডায়েরির তথ্যগুলো ব্যাকআপ করার চেষ্টা করে। হঠাৎ স্ক্রিনে নতুন একটি ফাইল খোলে, নাম লেখা“চূড়ান্ত পরিকল্পনা: অর্ডার অফ দ্য ইক্লিপস”। মেহেদীর হৃদয় দ্রুত স্পন্দিত হতে থাকে।
সারা বলে, “এখনই শেষ মুহূর্ত, মেহেদী। আমরা যদি এই তথ্য বাইরে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে হয়তো মানুষরা জানতে পারবে সত্যটা।” মেহেদী মাথা নেড়ে ফাইলের সব তথ্য ডাউনলোড করা শুরু করে।
হঠাৎ নিচুতলার দরজা ভেঙে একদল কালো পোশাকের লোক ঢুকে পড়ে। তারা শুধু ডায়েরি চাইছে না, এই তথ্যও ধ্বংস করতে চায়। মেহেদী আর সারা জানে, এই লড়াই শুধুই শুরু। বাইরে রাতের অন্ধকার যেন তাদের ভেতরের ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মেহেদী ফিসফিস করে বলে, “এই লড়াই শেষ হবে না।” সারা ধীরে মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ, কারণ আমরা শুধু একটি সংগঠনকে নয়… পুরো বিশ্বের এক অদৃশ্য নেটওয়ার্কের সাথে লড়ছি।”
চলবে…
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।