থ্রিলার সিরিজ: ছায়ার নকশা
সিজন-১
পর্ব-৪ : অন্ধকার অনুসরণ
লাইব্রেরির দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা লোক দুজনের চোখ তখন সরাসরি মেহেদীর উপর। তাদের মুখে কোনো রাগ নেই, কিন্তু সেই শান্ত চেহারার ভেতরেই যেন লুকিয়ে আছে বিপদ।
মেহেদীর বুক ধকধক করতে লাগল।
লোকদের একজন ফোন কানে ধরে নিচু স্বরে বলল,
“হ্যাঁ… আমরা ছেলেটাকে দেখেছি। সম্ভবত কাগজটা তার কাছেই আছে।”এই কথা শোনার সাথে সাথেই মেহেদী বুঝে গেল, এখানে আর এক সেকেন্ডও থাকা নিরাপদ না।
সে দ্রুত ম্যাগাজিনটা বন্ধ করে কাগজটা নিজের ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলল। তারপর স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে গেল।বাইরে তখন রাত নেমে গেছে। রাস্তার বাতির হলুদ আলোয় পুরো এলাকা যেন একটু রহস্যময় লাগছিল।মেহেদী দ্রুত হাঁটতে লাগল।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই সে বুঝতে পারল কেউ তাকে অনুসরণ করছে।
সে একটু ঘুরে তাকাল।
দূরে সেই কালো গাড়িটা ধীরে ধীরে তার পেছনে আসছে।
মেহেদীর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
“ওরা আমাকে ফলো করছে।”
সে দ্রুত রাস্তার এক ভিড়ের মধ্যে ঢুকে গেল। কিছুক্ষণ হাঁটার পর একটা গলিতে ঢুকে পড়ল।
গলিটা অন্ধকার। দুপাশে পুরোনো বাড়ি।
হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল।
অচেনা নাম্বার।
মেহেদী কয়েক সেকেন্ড দ্বিধা করল। তারপর ফোনটা রিসিভ করল।
ওপাশ থেকে একটা কর্কশ কণ্ঠ ভেসে এল।
“ডক্টর হামিদের কাগজটা তোমার কাছে আছে।”
মেহেদীর বুক কেঁপে উঠল।
“কে আপনি?” সে জিজ্ঞেস করল।
ওপাশ থেকে লোকটা শান্তভাবে বলল-
“যদি বাঁচতে চাও, কাগজটা ধ্বংস করে ফেলো।”
মেহেদী কিছু বলার আগেই ফোন কেটে গেল।
ঠিক তখনই গলির মুখে একটা গাড়ির আলো জ্বলে উঠল।
কালো গাড়ি।
গাড়ি থেকে দুজন লোক নেমে এল।
তাদের একজন ধীরে ধীরে বলল-
“তুমি ভুল জায়গায় ভুল জিনিস নিয়ে চলে এসেছ।”
মেহেদীর মনে হলো তার চারপাশের বাতাস জমে গেছে।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে পিছন দিক থেকে আরেকটা কণ্ঠ শোনা গেল।
“ওকে ছেড়ে দাও।”
মেহেদী দ্রুত ঘুরে তাকাল।
অন্ধকার থেকে একজন মধ্যবয়সী মানুষ বেরিয়ে আসছে। তার হাতে একটা পুরোনো ব্যাগ।
লোকটা শান্ত গলায় বলল-
“ডক্টর হামিদ আমার বন্ধু ছিল।”
কালো গাড়ির লোক দুজন একে অপরের দিকে তাকাল।
মধ্যবয়সী লোকটা আবার বলল—
“আর এই ছেলেটা এখন এমন একটা সত্যের কাছে পৌঁছে গেছে… যা তোমরা বহু বছর ধরে লুকিয়ে রেখেছ।”
মেহেদীর মাথা ঘুরতে লাগল।
এই মানুষটা কে?
সে কি বন্ধু, নাকি নতুন কোনো বিপদ?
লোকটা মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বলল-
“যদি সত্য জানতে চাও… তাহলে আমার সাথে চলো।”
গলির বাতাস তখন নিস্তব্ধ।
মেহেদী বুঝতে পারল—এখন তার সামনে শুধু দুইটা পথ।
একটা পথ নিরাপদ অন্ধকারে ফিরে যাওয়ার।
আরেকটা পথ সেই ভয়ংকর সত্যের দিকে… যার জন্য হয়তো ডক্টর হামিদকে জীবন দিতে হয়েছিল।
মেহেদী ধীরে ধীরে সেই অচেনা লোকটার দিকে তাকাল।
তার মনে হলো
এই রাত হয়তো তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে যাচ্ছে।
চলবে…
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।