থ্রিলার সিরিজ: ছায়ার নকশা
সিজন-১
পর্ব-৭ : বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া
ঘরের ভেতর বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। কামাল রহমান মাটিতে পড়ে আছে। তার কাঁধ থেকে রক্ত ঝরছে। তবুও তিনি দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
মেহেদীর হাত শক্ত করে ডায়েরির উপর।
তিনজন লোক ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে একজন ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
“ডায়েরিটা দাও। তাহলে আজ রাতটা তোমার শেষ রাত হবে না।”
মেহেদীর গলা শুকিয়ে গেছে। কিন্তু তার মাথার ভেতর ডক্টর হামিদের লেখা কথাগুলো ঘুরছে।
“যদি কেউ এই সত্য জানতে পারে, তার জীবন আর নিরাপদ থাকবে না।”
কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরের ভেতর অদ্ভুত নীরবতা।
ঠিক তখনই বাইরে হঠাৎ একটা গাড়ির শব্দ শোনা গেল।
বাড়ির সামনে আরেকটা গাড়ি এসে থামল।
তিনজন লোক এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।
হঠাৎ বাইরে থেকে দরজা ভেঙে কেউ ভেতরে ঢুকে পড়ল।
ধাম!
একটা গুলির শব্দ।
ঘরের আলো কেঁপে উঠল।
মেহেদী বিস্ময়ে দেখল একজন নতুন মানুষ ভেতরে ঢুকেছে। তার মুখে কালো মাস্ক, হাতে পিস্তল।
সে দ্রুত গুলি ছুড়ল।
কালো পোশাকের লোকগুলো আড়ালে চলে গেল।
মাস্ক পরা লোকটা চিৎকার করে বলল—
“মেহেদী! পেছনের দরজা দিয়ে বের হও!”
মেহেদী কিছু বুঝে ওঠার আগেই কামাল রহমান কষ্ট করে বললেন—
“যাও… এখনই যাও…”
মেহেদী এক মুহূর্তও দেরি করল না। ডায়েরিটা ব্যাগে ঢুকিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে দৌড়াতে শুরু করল।
বাইরে ঠান্ডা রাত।
সে অন্ধকার গলির মধ্যে দৌড়াতে লাগল।
কিছু দূর যাওয়ার পর সে থামল। বুক ধড়ফড় করছে।
হঠাৎ পেছন থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল।
“ভয় পেয়ো না।”
মেহেদী ঘুরে দাঁড়াল।
সেই মাস্ক পরা লোকটা তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
লোকটা ধীরে মাস্ক খুলল।
মেহেদী বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।
সে একজন নারী।
তার বয়স প্রায় ত্রিশের কাছাকাছি।
নারীটি শান্ত গলায় বলল-
“আমার নাম সারা।”
মেহেদী হতভম্ব হয়ে বলল-
“আপনি কে?”
সারা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।
তারপর ধীরে বলল-
“আমি সেই সংগঠনের ভেতরের একজন সদস্য ছিলাম।”
মেহেদীর বুক কেঁপে উঠল।
“মানে… আপনি তাদের লোক?”
সারা মাথা নেড়ে বলল-
“ছিলাম। এখন না।”
মেহেদী অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।
সারা ধীরে বলল-
“ডক্টর হামিদ আমাকে সত্যটা দেখিয়েছিলেন। তখনই বুঝেছিলাম আমরা একটা ভয়ংকর খেলায় অংশ নিচ্ছি।”
মেহেদীর মাথা ঘুরতে লাগল।
সে ফিসফিস করে বলল-
“তাহলে… অর্ডার অফ দ্য ইক্লিপস আসলে কি করতে চায়?”
সারা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর নিচু স্বরে বলল—
“তারা শুধু রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না।”
মেহেদী তাকিয়ে আছে।
সারা ধীরে বলল-
“তাদের পরিকল্পনা আরও বড়।”
মেহেদীর বুক ধড়ফড় করছে।
“কি পরিকল্পনা?”
সারা তার দিকে তাকিয়ে বলল-
“একটা নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করা… যেখানে মানুষের বিশ্বাস, রাজনীতি, এমনকি ধর্মও তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।”
মেহেদীর মনে হলো তার চারপাশের পৃথিবী হঠাৎ বদলে গেছে।
কিন্তু ঠিক তখনই দূরে সাইরেনের শব্দ শোনা গেল।
আর সেই সাথে গলির অন্ধকারে কয়েকটা ছায়া নড়তে দেখা গেল।
সারা দ্রুত বলল-
“ওরা আবার আসছে।”
মেহেদী বুঝতে পারল-
এটা শুধু শুরু।
কারণ এখন সে শুধু একটা গোপন সংগঠনের বিরুদ্ধে না…
একটা অদৃশ্য ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে।
চলবে…
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।