থ্রিলার সিরিজ: ছায়ার নকশা
সিজন-১
পর্ব-৬ : প্রথম আঘাত
বাড়ির ভেতরে নিস্তব্ধতা। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়ির হেডলাইট জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে অদ্ভুত আলো তৈরি করছে।মেহেদীর হাতে তখনও ডক্টর হামিদের ডায়েরি।তার বুকের ভেতর ধড়ফড় করছে। মনে হচ্ছে এই ডায়েরিটাই যেন সব বিপদের মূল।কামাল রহমান জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। কয়েক সেকেন্ড পরে সে ধীরে বলল-
“ওরা তিনজন।”
মেহেদী কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল,
“ওরা কি আমাদের মেরে ফেলবে?”
কামাল রহমান শান্তভাবে বলল-
“যদি প্রয়োজন পড়ে, তারা এক সেকেন্ডও দেরি করবে না।”
বাইরে পায়ের শব্দ শোনা গেল।
ধীরে ধীরে কেউ বাড়ির দরজার দিকে এগিয়ে আসছে।
মেহেদীর গলা শুকিয়ে গেল।
হঠাৎ-
ধাক্কা!
দরজায় জোরে আঘাত পড়ল।
আরেকটা ধাক্কা।
পুরোনো দরজাটা কেঁপে উঠল।
বাইরে থেকে একটা ঠান্ডা কণ্ঠ ভেসে এল-
“দরজা খোলো। আমরা জানি তোমরা ভেতরে আছ।”
মেহেদীর মনে হলো তার বুকের ভেতর হৃদপিণ্ড যেন থেমে যাবে।
কামাল রহমান দ্রুত টেবিলের নিচ থেকে একটা ছোট ব্যাগ বের করল।ভেতর থেকে একটা পিস্তল বের করল।
মেহেদী বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।
“আপনার কাছে বন্দুক কেন?” সে ফিসফিস করে বলল।
কামাল রহমান গম্ভীর গলায় বলল-
“কারণ আমি অনেক আগেই বুঝেছিলাম এই লড়াই শান্তভাবে শেষ হবে না।”বাইরে আবার ধাক্কা পড়ল।
এইবার দরজার একটা অংশ ফেটে গেল।
কামাল রহমান দ্রুত মেহেদীর দিকে তাকাল।
“শোনো। পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাও।”
মেহেদী হতবাক হয়ে বলল-
“আর আপনি?”
“আমি ওদের আটকে রাখব।”
মেহেদী মাথা নেড়ে বলল-
“না! আমি আপনাকে রেখে যাব না।”
কামাল রহমান হালকা হেসে বলল-
“এই ডায়েরিটা এখন তোমার কাছে আছে। ডক্টর হামিদের সত্য এখন তোমার দায়িত্ব।”
বাইরে তখন দরজার শেষ অংশটাও ভেঙে পড়তে চলেছে।
মেহেদীর চোখে ভয় আর দ্বিধা।
ঠিক তখনই-
ধাম!
দরজা ভেঙে গেল।
তিনজন কালো পোশাকের লোক ঘরে ঢুকে পড়ল।
তাদের একজন ঠান্ডা কণ্ঠে বলল-
“ডায়েরিটা দিয়ে দাও।”
কামাল রহমান সামনে এগিয়ে দাঁড়াল।
তার হাতে পিস্তল।
“আর এক কদম এগোলে গুলি করব।”
কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা।
তারপর সবকিছু খুব দ্রুত ঘটল।
একটা গুলির শব্দ।
ধাম!
মেহেদী চমকে উঠল।
সে দেখল কামাল রহমান মাটিতে পড়ে যাচ্ছে।
তার কাঁধ থেকে রক্ত বের হচ্ছে।
লোকগুলোর একজন এগিয়ে এসে ঠান্ডা গলায় বলল-
“আমরা শুধু ডায়েরি চাই।”
মেহেদীর শরীর জমে গেল।
সে বুঝতে পারল-
এখন তার সামনে আর কোনো পথ নেই।
হয় সে ডায়েরি দিয়ে দেবে…
নাহলে এই রাতেই তার গল্প শেষ হয়ে যাবে।
তার হাত শক্ত করে ডায়েরির উপর চেপে আছে।
তার মাথায় তখন শুধু একটা চিন্তা ঘুরছে—
ডক্টর হামিদ কি সত্যিই এই রহস্যের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন?
আর এখন কি সেই একই পথেই হাঁটছে সে?
ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
লোকগুলো ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে।
চলবে…
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।