থ্রিলার সিরিজ: ছায়ার নকশা
সিজন-১
পর্ব-৫ : ডক্টর হামিদের ডায়েরি
গলির ভেতরের বাতাস তখন অদ্ভুত ঠান্ডা। এক পাশে কালো গাড়ির লোক দুজন, আর অন্য পাশে দাঁড়িয়ে সেই রহস্যময় মধ্যবয়সী মানুষ।মেহেদীর মনে হচ্ছিল সে যেন কোনো অদৃশ্য যুদ্ধের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যবয়সী লোকটা শান্তভাবে বলল,
“মেহেদী, সময় খুব কম। আমার সাথে চলো।”
মেহেদী অবাক হয়ে গেল।
“আপনি… আমার নাম জানেন?”
লোকটা হালকা হাসল।
“ডক্টর হামিদ তোমার কথা বলেছিলেন।”
এই কথা শোনার সাথে সাথে মেহেদীর বুক কেঁপে উঠল।
কিন্তু কালো গাড়ির লোক দুজন তখন আর অপেক্ষা করছিল না। তাদের একজন সামনে এগিয়ে এসে কঠিন গলায় বলল
“ডায়েরিটা আমাদের দিতে হবে।”
মধ্যবয়সী লোকটা এবার আর শান্ত থাকল না।
সে মেহেদীর দিকে তাকিয়ে দ্রুত বলল-
“দৌড়াও!”
পরের মুহূর্তেই সে মেহেদীর হাত ধরে গলির ভেতর দিয়ে দৌড়াতে শুরু করল।
পেছনে লোক দুজন চিৎকার করছে।
কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর তারা একটা পুরোনো বাড়ির সামনে এসে থামল। লোকটা দ্রুত দরজা খুলে মেহেদীকে ভেতরে ঢুকতে বলল।
ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করতেই চারপাশে গভীর নীরবতা নেমে এল।
মেহেদী হাঁপাতে হাঁপাতে বলল-
“আপনি কে?”
লোকটা চেয়ার টেনে বসে পড়ল।
“আমার নাম কামাল রহমান। আমি ডক্টর হামিদের সহকর্মী ছিলাম।”
মেহেদীর চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
কামাল রহমান ব্যাগটা খুলল। ভেতর থেকে একটা পুরোনো চামড়ার ডায়েরি বের করল।
ডায়েরির মলাটে ধুলো জমে আছে।
সে ধীরে বলল-
“এই ডায়েরিটা ডক্টর হামিদের শেষ গবেষণা।”
মেহেদী ধীরে ডায়েরিটা হাতে নিল।
প্রথম পাতায় লেখা-
“যদি কেউ এই ডায়েরি পড়ে, তাহলে বুঝবে পৃথিবীর ক্ষমতার আসল খেলা কোথায় হয়।”
মেহেদীর গলা শুকিয়ে গেল।
সে পরের পাতা খুলল।
সেখানে লেখা-
“পৃথিবীর অনেক বড় রাজনৈতিক ঘটনা আসলে কিছু গোপন সংগঠনের পরিকল্পনার অংশ। তারা সরাসরি ক্ষমতায় থাকে না। কিন্তু ছায়া থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।”
মেহেদী অবিশ্বাসের সাথে পড়তে লাগল।
ডায়েরিতে আরও লেখা-
“তাদের সদস্যরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে। কিছু রাজনীতিবিদ, কিছু মিডিয়া মালিক, এমনকি কিছু ধর্মীয় নেতাও তাদের প্রভাবের ভেতরে।”
মেহেদীর মাথা ঘুরতে লাগল।
“তাহলে… তারা ধর্মকেও ব্যবহার করছে?” সে ফিসফিস করে বলল।
কামাল রহমান ধীরে মাথা নেড়ে বলল-
“হ্যাঁ। কখনো ধর্মকে শক্তি হিসেবে, কখনো আবার বিভাজনের অস্ত্র হিসেবে।”
মেহেদী ডায়েরির শেষ পাতাটা খুলল।
সেখানে একটা প্রতীক আঁকা।
ত্রিভুজের ভেতরে একটি চোখ।
তার নিচে একটা নাম লেখা-
“অর্ডার অফ দ্য ইক্লিপস”
মেহেদীর বুকের ভেতর যেন কাঁপন শুরু হলো।
ঠিক তখনই বাইরে একটা শব্দ হলো।
কারো পায়ের শব্দ।
কামাল রহমান ধীরে জানালার কাছে গিয়ে বাইরে তাকাল।
তার মুখ মুহূর্তেই গম্ভীর হয়ে গেল।
“ওরা আমাদের খুঁজে পেয়েছে।”
মেহেদীর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
বাইরে সেই কালো গাড়িটা আবার দাঁড়িয়ে আছে।
আর এবার গাড়ি থেকে তিনজন লোক নামছে।
কামাল রহমান ধীরে বলল-
“মেহেদী… এখন তুমি এমন এক খেলায় ঢুকে পড়েছ, যেখানে সত্য জানার মূল্য অনেক বড়।”
মেহেদী জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাল।
অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোর হাতে অস্ত্রের ঝলক দেখা যাচ্ছে।
এই প্রথমবার তার মনে হলো-
এই রহস্য শুধু একটা গল্প না।
এটা হয়তো সত্যিই একটা যুদ্ধ।
চলবে…
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।