থ্রিলার সিরিজ: ছায়ার নকশা
সিজন-১
পর্ব-৩ : অদৃশ্য নেটওয়ার্ক
আর্কাইভ রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল মেহেদী । তার সামনে দুজন অচেনা মানুষ। তাদের চোখে ছিল সন্দেহ আর কঠিন এক ধরনের শীতলতা।লোকটা আবার জিজ্ঞেস করল,
“তুমি এখানে কি করছ?”
পৃথিবী এক মুহূর্তের জন্য কিছু বলতে পারল না। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল
“আমি… আমি শুধু পুরোনো বই খুঁজছিলাম।”
লোক দুজন একে অপরের দিকে তাকাল। যেন তারা বুঝতে চেষ্টা করছে মেহেদী সত্য বলছে কি না।কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর তাদের একজন ধীরে বলল-
"এই অংশটা সাধারণ পাঠকদের জন্য নয়। তুমি বাইরে যাও।"
মেহেদী আর কিছু না বলে ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল। কিন্তু তার মাথার ভেতর তখন একটাই চিন্তা ঘুরছিল।
ডক্টর হামিদের ফাইল!
লাইব্রেরির মূল হলরুমে ফিরে এসে সে দ্রুত তার টেবিলে বসে পড়ল। বুকের ভেতর এখনও ধড়ফড় করছে।সে ধীরে ধীরে সেই পুরোনো ম্যাগাজিনটা খুলল।পাতার ভেতর সত্যিই একটা ভাঁজ করা কাগজ ছিল।পৃথিবী কাগজটা খুলতেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
কাগজে ডক্টর হামিদের হাতের লেখা।
উপরে বড় করে লেখা-
“প্রজেক্ট ইক্লিপস”
তার নিচে কয়েকটা লাইন।
“বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় এক গোপন নেটওয়ার্ক বহু বছর ধরে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ধর্মীয় আন্দোলনের উপর প্রভাব বিস্তার করছে।”
মেহেদীর বুক কেঁপে উঠল।
সে আরও পড়তে লাগল।
"এই সংগঠন সরাসরি কোনো রাষ্ট্র পরিচালনা করে না। বরং তারা ছায়া থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের সদস্যরা রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, মিডিয়া মালিক এবং কিছু ধর্মীয় নেতার মধ্যেও রয়েছে।"
মেহেদী বিশ্বাস করতে পারছিল না।
তার চোখ আবার সেই প্রতীকের দিকে গেল—ত্রিভুজের ভেতরে একটি চোখ।
কাগজে নিচে একটা বাক্য লেখা ছিল—
“যদি কেউ এই সত্য জানতে পারে, তার জীবন আর নিরাপদ থাকবে না।”
মেহেদীর গলা শুকিয়ে গেল।
ঠিক তখনই সে অনুভব করল কেউ তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।ধীরে ধীরে সে ঘুরে তাকাল।
লাইব্রেরির দরজার কাছে সেই কালো গাড়ির লোক দুজন দাঁড়িয়ে আছে।তারা শান্তভাবে তাকে দেখছে।মেহেদীর মনে হলো তারা বুঝে ফেলেছে।
লোকদের একজন ফোন কানে ধরে ধীরে বলল-
“হ্যাঁ… আমরা ছেলেটাকে খুঁজে পেয়েছি।”
মেহেদীর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
তার মাথায় তখন একটাই চিন্তা-
ডক্টর হামিদ যে সত্য খুঁজে পেয়েছিলেন, সেই একই পথে কি এখন সে হাঁটছে?
আর যদি তাই হয়…
তাহলে কি তার পরিণতিও একই হবে?
লাইব্রেরির বাইরে তখন রাত নেমে গেছে। রাস্তার বাতিগুলো একে একে জ্বলে উঠছে।
কিন্তু মেহেদীর কাছে মনে হচ্ছে যেন চারপাশে অদৃশ্য একটা জাল ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ফেলছে।
আর সেই জালের মালিক কারা—
তা সে এখনো পুরোপুরি জানে না।
চলবে…
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।