শূন্য উঠোন
শামীমা আকতার
বিশাল উঠোন, তার চেয়েও
বিশাল বুঝি কাঁঠাল গাছটা।
কাঁঠাল পাতায় বিছানো
কাছারির সামনেটা।
ছোট্ট আর একটি উঠোন—
কাছারি হলে পার,
উঠোন পেরোলেই ঘর।
শব্দ নয় পাতা মাড়ানোর,
নয় কোনো পায়ের শব্দ;
নিঃশব্দে অফিস ফেরত তুমি—
আমি ঠিক বুঝতাম।
বালিশে হেলান দিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে,
পায়ের ওপর পা তুলে,
পত্রিকায় তোমার চোখ।
আমি পাশে উপুড় হয়ে শুয়ে,
বই-খাতা নিয়ে আছি মুখ গুঁজে,
স্বপ্নে বিভোর তোমার দু’চোখ।
জীবনে বসেছি যত পরীক্ষায়,
তুমি বাহিরে অধীর উৎকণ্ঠায়।
যতবার করেছি পাস,
ততবার নিয়েছো স্বস্তির শ্বাস।
সেদিন কাঁঠাল গাছের বুঝি,
পাতা ঝরার ইচ্ছে হলো বেশি
শব্দ ছিলো পাতা মাড়ানোর,
শব্দ ছিলো পায়ের,
কাছারি হলো গমগম,
উঠোন - ঘর, যোজন-যোজন দূর;
নিঃশব্দে পারিনি ঢুকতে ঘর।
পৃথিবীর সব স্নেহ-ভালোবাসা
উজাড় করে নিঃশেষ হলে তুমি।
তুমি হারিয়ে গেলে, বাবা—
ভালোবাসায় শূন্য হলাম আমি।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।