Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

রিকশা,আংটি ও আমি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
64 বার প্রদর্শিত
করেছেন (653 পয়েন্ট)   04 মার্চ "অন্যান্য" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
info_outline
করেছেন 07 মার্চ সম্পাদিত

পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

রিকশা,আংটি ও আমি

শামীমা আকতার


১ম পর্ব


১২ ফেব্রুয়ারি' ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১১ ফেব্রুয়ারি' ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ১০ ফেব্রুয়ারি ছুটির পর কোর্ট বিল্ডিংয়ের সামনের রাস্তায় অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর একটি রিকশা পেলাম। পরপর দুটো রাস্তা পার হয়ে রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা সত্যিই খুব ঝক্কির ব্যাপার। সব সময় ঠিকমতো রিকশা পেতেও বেশ বেগ পেতে হয়।


৮–১০ বার প্যাডেল ঘোরানোর পর রিকশাচালক থেমে নিচু হয়ে মনে হলো কিছু একটা তুললেন। সোজা হয়ে দাঁড়াতেই দেখলাম হাতে একটি ওয়ালেট। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিলাম, এটা তাঁরই ওয়ালেট—হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি আমার দিকে তাকিয়ে ওয়ালেট খুলে দেখে বললেন, “তেমন কোনো টাকা-পয়সা নেই।”


আমিও দেখলাম, শ-দেড়শ টাকার বেশি হবে না।

তাঁর  কথায় বুঝলাম, ওয়ালেটটি তাঁর নয়; এইমাত্র খুঁজে পেয়েছেন। রিকশাচালক ওয়ালেটটি লুঙ্গির মধ্যে গুজে আবার চলতে শুরু করলেন।


লালদিঘী পার হয়ে টেরিবাজারের মুখে এসেই রিকশাচালক আবার থেমে গেলেন। বললেন, “রিকশার চেইন ছিড়ে গিয়েছে, আর যাওয়া সম্ভব হবে না।”


বললাম, “আপনি রিকশা ঠিক করে দেন।”

একজন রিকশাচালককে ডেকে বললেন, “উনাকে জামাল খান নিয়ে যান। চল্লিশ টাকা ভাড়া দেবেন।”


আমি নতুন রিকশাচালককে বললাম, আগের রিকশাচালককে যেন ২০ টাকা দিয়ে দেন। আমি তাঁকে ৬০ টাকা দেব। নতুন রিকশাচালক আগের রিকশাচালককে ২০ টাকা দিয়ে দিলেন।

আগের রিকশাচালক কুড়িয়ে পাওয়া ওয়ালেটটি আবার খুলে দেখলেন। ভেতরে তেমন কোনো টাকা-পয়সা নেই। কথাটা বলতে বলতেই দেখলেন, ওয়ালেটের ভেতর একদম নিচে একটি কাগজের ছোট পুটলি। হঠাৎ দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই।


কাগজের পুটলিটি নতুন রিকশাচালকের হাতে দিয়ে বললেন, “দেখেন তো, এখানে কোনো ঠিকানা লেখা আছে কি না। থাকলে যার জিনিস, তাকে দিয়ে দেওয়া যাবে।” 

কথাটি বলেই তিনি তার রিকশা এক পাশে নিয়ে যাওয়ার জন্য চলে গেলেন।

নতুন রিকশাচালক পুটলি খুলে ভেতর থেকে একটি চিঠি বের করলেন। তাঁর সঙ্গে আমিও দেখলাম।


চিঠিতে লেখা ছিল—কোনো এক ভদ্রলোক খুব ব্যস্ত। তাই তিনি একজনকে (যাকে তিনি ‘ভাস্তে’ বলে সম্বোধন করেছেন) দায়িত্ব দিয়েছেন একটি ৩ ভরি ২২ ক্যারেটের আংটি পৌঁছে দিতে, মেয়ের বিয়ের জন্য। তা দিয়ে যেন একটি চেইন, কানের দুল ও চুড়ি তৈরি করে নেয়।


পুটলি থেকে সত্যি সত্যিই একটি মোটা প্লেইন আংটি বের হলো। বোঝাই যাচ্ছে, দেশের বাইরে থেকে পাঠানো। কোনো ঠিকানা পাওয়া গেল না। আমি রিকশাচালককে বললাম, “উনাকে ডাক দেন।”

পূর্বের রিকশাচালক কাছেই ছিলেন। ডাকা মাত্রই দৌড়ে এলেন। নতুন রিকশাচালক বললেন, “এটা যত্ন করে রাখেন। এখানে ৩ ভরি ২২ ক্যারেটের সোনা আছে।”


পুটলি হাতে নিয়েই রিকশাচালক বললেন, “এটা আমি আমার মালিকের বউকে দেব। একটা চেইন আর চুড়ি বানাতে বলব। যেটা দিয়ে আমার ছোট বোনকে বিয়ে দিতে পারব।”


কথাটি বলে তিনি আবার রিকশার কাছে চলে গেলেন।


এবার মনে হলো, আমার রিকশাচালকের কিছু ভাবান্তর হলো। তিনি বারবার বলতে লাগলেন, “মালিকের বউ তাকে ঠকিয়ে দেবে। সে বুঝছে না।"


তিনি আবার আগের রিকশাচালককে ডাক দিলেন।


লোকটি এলে বললেন, “আপনাকে ঠকিয়ে দেবে। আপনি মালিকের বউকে দেবেন না।”


লোকটি বললেন, “না, ঠকাবে না। আমার সব টাকা-পয়সা উনার কাছে থাকে।” কথাটি বলে তিনি যেতে উদ্যত হলে আমার রিকশাচালক বললেন, “আপনি আমার সঙ্গে চলেন। আমি আপনাকে চেইন আর চুড়ি দেব।”


লোকটি বললেন, “আমাকে নিয়ে মেরে ফেলার জন্য, আর কী!” বলে তিনি আবার তার রিকশার কাছে চলে গেলেন।


ইতোমধ্যে আমার অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। রিকশাচালককে তাগাদা দিলাম। তিনি প্যাডেল ঘোরাতে শুরু করলেন। কিন্তু মনে হলো, তার মনোজগতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।


  বারবার বলতে লাগলেন, “তাকে ঠকিয়ে দেবে। আংটিটা নিয়ে আমার বউয়ের কিছু সোনা ছিল, এগুলো দিয়ে দিতে পারতাম।”


আমাকে বললেন, “আপনার যদি কোনো চেইন-টেইন থাকে, তার সঙ্গে অল্প কিছু টাকা থাকলে তা দিয়ে আংটিটা নিয়ে নেন।”


আমি বললাম, “আপনার এসব নিয়ে চিন্তার দরকার নেই। তাড়াতাড়ি চলেন, দেরি হয়ে যাচ্ছে।”


কিন্তু রিকশা চালাতে তাঁর মন ছিল না। বারবার থেমে পিছনে তাকাচ্ছিলেন। মোমিন রোডের মুখে এসে আবার দাঁড়িয়ে গেলেন। এমন সময় এক লোক এসে বললেন, “এক ভদ্রলোক প্রায় ৮–১০ লাখ টাকার গয়না হারিয়েছেন। এখন বাইকে করে খুঁজছেন।”


বুঝলাম, আংটিটি ভদ্রলোকটির। জিজ্ঞেস করলাম, “লোকটি এখন কোথায়?”

বললেন, “একটু আগে বাইক নিয়ে চলে গিয়েছেন।”

বুঝলাম, লোকটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

রিকশাচালক জিজ্ঞেস করলেন, “লোকটি দেখতে কেমন? বড়লোক নাকি গরিব?”

ভদ্রলোক বললেন, “বাইকে করে এসেছেন, নিশ্চয়ই গরিব হবেন না।”

রিকশাচালককে আবারও তাগাদা দিলাম রিকশা চালানোর জন্য। কিন্তু তার পা কিছুতেই চলছিল না।


চেরাগী পাহাড়ের মোড়ে এসে বললেন, “আপনি নেমে যান। আমি আর যাব না। দেখি, ওকে ধরতে পারি কি না। আংটিটা নিয়ে আমার বউয়ের কিছু জিনিস ছিল, সেগুলো দিয়ে দিতে পারি কি না। না হলে ওকে ঠকিয়ে দেবে। আপনার কিছু টাকা-পয়সা থাকলে সেগুলো দিয়েও নিয়ে নিতে পারেন।”


আমি বললাম, “আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা বা গয়না নেই। লোকটি থানায় গিয়ে জিনিসটি জমা দিতে পারে।”


রিকশাচালক বললেন, “কার জিনিস, কোনো ঠিকানা নেই। থানায় নিয়ে গিয়েও লাভ হবে না। পুলিশরা নিয়ে নেবে।”


একবার ভাবলাম, পরিচিত এক জুয়েলারি দোকানের ঠিকানা দিয়ে ফোন করব। কিন্তু লোকটিকে আর দেখতে পেলাম না।

আবার বললাম, “আপনি চলেন।”

কিন্তু তিনি আর যেতে রাজি হলেন না।

বললাম, “আমাকে যদি এখানে নামতে হয়, তাহলে কোনো ভাড়া দেব না।”

রিকশাচালক বললেন, “ভাড়া লাগবে না।”

অগত্যা আর কথা না বাড়িয়ে নেমে গেলাম।

নামার সময় আমার হাতের আংটি দেখে বললেন, “আপনার তো জিনিস ছিল। আপনি নিয়ে নিতে পারতেন।”


দু’কদম সামনে গিয়ে আবার ফিরে এসে তাকে ভাড়াটা দিয়ে দিলাম।


সামনে দু'টো রিকশা ছিল, কোনোটাই যেতে রাজি হলো না। রিকশার জন্য আর অপেক্ষা না করে হাঁটা শুরু করলাম।

পেছনে পড়ে রইল একটি আংটি, আর সামনে খুলে গেল অদৃশ্য কিছু প্রশ্ন।image

সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3522
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
রিকশা, আংটি ও আমি (২য় পর্ব) হাঁটতে হাঁটতে চিন্তা করলাম—এখানে কী আমার করার কিছু ছিল? আ÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
77 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঝগড়ার সন্ধি। শামীমা আকতার এমন একজন মানুষ কি দিতে পারবে? প্রেম নয়, ভালোবাসা নয়, মায়া[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হে মরুচারী! খাঁ খাঁ মরু থেকে তুলে এনেছিলে এক ক্যাকটাস— বুকে ছিল যার আজন্মের তৃষ্ণা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
58 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হাড়ি-পাতিল খেলা শামীমা আকতারপায়ে খাড়ু, হাতে বাজু, কোমরে বিছা, শান বাঁধানো দিঘীর ঘাটে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
70 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পড়াশোনা: শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থী শামীমা আকতার পর্ব–১ আমরা যারা সবসময় সন্তানের ভ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
75 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1687 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    191 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. মাহাতাব হোসেন অপল

    170 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...