আমাদের একটি পেইজ ছিলো (৩য় পর্ব)
অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যারা স্মৃতিপটে স্থায়ী আসন করে ছিলো,যাদের কখনও ভুলিনি তাদের অনেকের সাথে আর স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে উঠলনা।অথচ যাদের নাম-চেহারা কিছুই মনে ছিলোনা,তাদের সাথে নতুন করে আবার বন্ধুত্ব তৈরি হলো।
এর মধ্যে কয়েকজন বন্ধুর কিছু বেদনাদায়ক সংবাদ নিজের ভিতর এক অদৃশ্য ভার তৈরি করলো। আমাদের দু'জন প্রিয় বন্ধু ফিরোজ ও পিকলু পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অন্য ভুবনের বাসিন্দা হয়েছে । শুনেছি ভালোবাসা,বিশ্বাস ও ভরসার হাত দুটি তাদের ছেড়ে দিয়েছিলো।অত্যন্ত মেধাবী ও প্রিয় বন্ধু হাসিনা স্ট্রোক করে দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে শয্যাশায়ী। একটা সম্ভাবনাময় জীবন তাদের হতে পারতো।কিন্তু হায়! হলোনা -হয়তো জীবনে ভুল মানুষের আবির্ভাব কিংবা ভাগ্যের নির্মম পরিহাস।
বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ তাদের জয়- পরাজয়,সফলতা- ব্যর্থতার সংবাদ আমাকে এমনভাবে বিভোর করে রাখলো-আমি ভুলে যেতে বসলাম আমি কে?
এরমধ্যে হঠাৎ একটা ঘটনা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিলো।আমার জন্মদিন ছিল-আমার বাচ্চারা কেক এনে সেলিব্রেট করে আমাকে সারপ্রাইজ দিলো।আমরা কত কিছুর জন্যই না কষ্ট পাই, অথচ জীবনের মূল্যবান এ অর্জন গুলোর কথা খেয়ালই করিনা।
এই অবিমিশ্র আনন্দ -বেদনার মাঝে হঠাৎ এক অদ্ভুত অনুভুতি আমাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করলো।চোখ দুটি নিজের অজান্তে ভিজে এলো।এক ভয়ংকর তীব্র বাঁধ ভাঙা কষ্ট গ্রাস করে নিলো।নিজেকে সামলানো খুবই কঠিন হয়ে গেলো।এ কষ্টের উৎস কী? বুঝা খুবই মুশকিল।
মনে মনে বুঝলাম- নিয়ন্ত্রণহীন কোনো তীব্র কষ্টের অনুভুতি যখন আমাদের গ্রাস করে তখন তার সুনির্দিষ্ট একটি কারণ থাকেনা।অনেকগুলো বিষয় এর সাথে জড়িত হয়ে যায়।দীর্ঘ তেত্রিশ বছর পর হঠাৎ বন্ধুদের প্রাপ্তি,কারো কারো সাথে সম্পর্কের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির পার্থক্য,জীবনের কিছু অপ্রাপ্তি আর অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষত,দীর্ঘদিনের দায়িত্ব - কর্তব্যের চাপ ও ক্লান্তি,পরিবারের আপনজনদের ভালোবাসা সব মিলে নিজের ভিতরে অবচেতন মনে আগে থেকেই একটা অদৃশ্য আবেগানুভুতি তৈরি হয়ে ছিলো।যা তীব্র মানসিক যন্ত্রণার রূপ নিয়ে বের হলো। খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে-যে মানসিক ধাক্কাটা আমি পেয়েছিলাম, এ ধরণের কিছু বা তার কাছাকাছি কোনো অনুভুতি কী আমার বব্ধুদের হয়েছিল?
শামীমা আকতার
#enolej_idea_104354,#Shamima_Akter,#Shamim_Shamu
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।