*প্রসঙ্গঃ পেশা হিসেবে গৃহকর্ম*(১ম পর্ব)
বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। শুধু বেঁচে থাকা বা জীবনধারণ নয়, জীবনমান উন্নয়ন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রতিটি ব্যক্তির সম্মানজনক, স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজন হয়। আর এ কারণেই মানুষ প্রতিনিয়ত অর্থ উপার্জনের জন্য ছুটছে। সেটা বৈধ উপায় হোক কিংবা অবৈধ। মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য যে কাজ করে তাকে আমরা সাধারণত পেশা হিসেবে আখ্যায়িত করি। কিন্তু অর্থ উপার্জনের সকল উপায় পেশা নয়। পেশার সাথে সেবার ব্যাপারটাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আমরা বলতে পারি, যে সেবাকর্মের মাধ্যমে মানুষ অর্থোপার্জন করে শুধুমাত্র তাকেই পেশা বলা যায়। সমগ্র বিশ্বে বিভিন্ন পেশাজীবী বাস করেন। অঞ্চলভিত্তিক চাহিদার কারণেও নতুন নতুন পেশার উদ্ভব ঘটে। আবার সময়ের চাহিদানুযায়ী যুগে যুগে নতুন পেশার উদ্ভব ও পুরাতন পেশার বিলুপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রযুক্তির ক্রমাগত উৎকর্ষতার কারণে নতুন নতুন পেশার উদ্ভব হচ্ছে। একই সাথে অনেকগুলো পেশা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।
পেশার এতো বহুমুখী পরিবর্তনের মধ্যেও আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে কিছু পেশার চাহিদা এখনো অপরিবর্তনশীল। যা সাধারণত আমাদের কাছে নিম্নবিত্তের পেশা হিসেবে পরিচিত। এ পেশাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—দিনমজুর, ক্ষেতমজুর, কৃষি শ্রমিক, পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিক, নির্মাণ কাজে নিয়োজিত দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যান চালক, পরিবহণ শ্রমিক এবং বিভিন্ন ছোটখাটো কলকারখানার শ্রমিক, গৃহকর্মী, দারোয়ান এবং অন্যান্য ছোটখাটো সেবামূলক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা। ছোট দোকানদার, ফেরিওয়ালা এবং বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা। এছাড়াও সুইপার, মুচি, ডোম, নাপিত—এদেরকেও নিম্নবিত্তের পেশার মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয়।
পেশা যাই হোক না কেন, প্রত্যেক ব্যক্তিই জন্মগতভাবেই মানুষ হিসেবে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে সেবাকর্মে নিয়োজিত থেকে দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতিতে অবদান রাখছে। কোনো পেশাজীবীকে বা পেশাকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।
শামীমা আকতার।
#enolej_idea104354, #Shamima_Akter,#Shamim_Shamu
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।