*প্রসঙ্গঃ পেশা হিসেবে গৃহকর্ম*(শেষ পর্ব)
নিয়োগকারী পরিবারের যেমন গৃহকর্মীর উপর কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে, তেমনি গৃহকর্মীরও কাজের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা থাকা বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে গৃহকর্মীও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মতো তার কাজকে ধনী–দরিদ্রের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেন। ঠিক একই কারণে অনেক পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে গৃহকর্মী দ্বারা সৃষ্ট নানাবিধ সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
*গৃহকর্মী দ্বারা নিয়োগকারী পরিবার যে সব সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়—*
১। পেশাদারিত্ব মনোভাবের ঘাটতি।
২। গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার বুঝে কাজ না করা।
৩। চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া।
৪। নির্দেশ অমান্য করার প্রবণতা।
৫। নিয়োগকারীর অনুপস্থিতিতে তার শিশু সন্তানের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
৬। জিনিসপত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে যত্নশীল না হওয়া এবং বিভিন্ন আর্থিক ক্ষতির কারণ হওয়া।
৭। অকারণে বা তুচ্ছ কারণে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া।
৮। যথাসময়ে কাজে উপস্থিত না হওয়া।
৯। নিয়োগকারী পরিবারের রীতিনীতি ও নিয়ম–শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়া।
*এক্ষেত্রে গৃহকর্মী কর্তৃক করণীয় দিকগুলো হলো—*
১। নিয়োগকারীর প্রতি বিশ্বাসভাজন ও আস্থাভাজন হওয়া; এমন কিছু না করা যাতে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার জায়গায় অবনতি ঘটে।
২। পরিবারের অসুস্থ, বয়স্ক ও শিশুর প্রতি যত্নশীল হওয়া।
৩। অবহেলা বা রাগের বশবর্তী হয়ে নিয়োগকারী পরিবারের আর্থিক ক্ষতির কারণ না হওয়া।
৪। কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ব্যতীত কাজে অনুপস্থিত না থাকা।
৫। কাজের সময় পূর্বানুমতি ব্যতীত ঘরের বাইরে না যাওয়া।
৬। কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
৭। কাজ সম্পাদনে সময়ানুবর্তিতা ও নিষ্ঠাবান হওয়া।
সকল পেশাজীবীর সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে। গৃহকর্মকে যতদিন পর্যন্ত আমরা অন্যান্য পেশার মতো মর্যাদার দৃষ্টিতে বিবেচনায় আনতে না পারব ততদিন এ ধরণের সমস্যা চলতে থাকবে। এক্ষেত্রে নিয়োগকারী পরিবার ও গৃহকর্মীর উভয়ের মানসিকতা ও চিন্তাধারার পরিবর্তন প্রয়োজন। একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার চেয়ারে যেমন অধস্তন কর্মচারী বসতে পারেন না, ঠিক তেমনি অন্যান্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠানের মতো পারিবারিক প্রতিষ্ঠানেও সুনির্দিষ্ট কিছু ডেকোরাম—অর্থাৎ রীতিনীতি ও শিষ্টাচার—মেনে চলা আবশ্যক। অন্যথায় কাজের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়। এখানে ধনী বা দরিদ্র হওয়ার বিষয়টি বিবেচ্য নয়। বাংলাদেশে গৃহকর্মীদের জন্য আলাদা কোনো শ্রম আইন না থাকলেও “গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫” প্রণয়ন করা হয়েছে, যা তাদের অধিকার ও সুরক্ষার কথা বলে। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত আমরা মন-মানসিকতার পরিবর্তন আনতে না পারব ততদিন এই পেশাজীবী ও নিয়োগকারীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হবে না। তাই অন্যান্য পেশার মতো গৃহকর্মকে মর্যাদা দান এখন সময়ের দাবিমাত্র।
#enolej_idea104354, #Shamima_Akter, #Shamim_Shamu
*শামীমা আকতার
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।