*প্রসঙ্গঃ পেশা হিসেবে গৃহকর্ম*(২য় পর্ব)
পেশা যাই হোক না কেন, প্রত্যেক ব্যক্তিই জন্মগতভাবেই মানুষ হিসেবে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে সেবাকর্মে নিয়োজিত থেকে দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতিতে অবদান রাখছে। কোনো পেশাজীবীকে বা পেশাকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। এতো পেশার ভিড়ে আজকে আমার আলোচনার বিষয় নিম্নবিত্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা ‘গৃহকর্ম’।
এ ধরণের পেশাজীবীরা মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের নিত্যদিনের সঙ্গী। নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মহিলারা এ পেশার সাথে জড়িত। এ ধরনের পেশায় সাধারণত দু’ধরনের কর্মী দেখা যায়। এক ধরনের কর্মী শুধু দিনের স্বল্প সময় বা ঘণ্টা কয়েকের জন্য কাজে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রাপ্তবয়স্ক মহিলারা সাধারণত এ ধরণের কাজে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। আরেক ধরণের কর্মী আছেন যারা সারাদিনের কাজের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং নিয়োগকারীর পরিবারে রাত্রিযাপন করেন। এদের বেশিরভাগই কম বয়সের শিশু ও কিশোরী। অনেক সময় অর্থাভাবে দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের শিশু ও কিশোরী মেয়েকে বিত্তবান পরিবারগুলোতে এ ধরণের পেশায় নিয়োজিত করেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এ পেশাকে আমরা এখনও সম্মানের চোখে দেখতে অভ্যস্ত হয়নি। যারা এ ধরণের কর্মী নিয়োগ দেন তাদের বেশিরভাগই ধনী–গরিবের দৃষ্টিকোণ থেকে এ পেশাকে বিবেচনা করেন। তাদের বেতনসহ অন্যান্য খাতে যা ব্যয় করা হয় সবটাই দয়া হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু একজন গৃহকর্মী যখন একটি পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানে কর্মী হিসেবে নিয়োজিত হন তখন তিনি সেখানে তার মূল্যবান সময়, শ্রম ও সেবা বিনিয়োগ করেন।
*এক্ষেত্রে একজন গৃহকর্মীর সাথে যে সব বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয় তা হলো-*
১। নিয়োগকারী পরিবারের সাথে কর্মীর খাদ্যে বৈষম্য সৃষ্টি।
২। কথায় কথায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা।
৩। অকারণে কাজের খুঁত ধরা।
৪। অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপানো।
৫। সারাদিনের জন্য কর্মরত কর্মীদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
৬। যৌন নিপীড়ন।
৭। সারাদিনের জন্য কর্মরত কর্মীদের পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুবিধা না দেওয়া; দিলেও স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ না দেওয়া।
৮। সারাদিনের জন্য কর্মরত কর্মীদের ছুটি না দেওয়া বা পরিবারের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া।
৯। ছুটিতে যাওয়ার সময় তার পোশাক-পরিচ্ছদসহ অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্য সাথে নিতে না দেওয়া।
১০। কথায় কথায় কর্মীকে দেওয়া সুযোগ–সুবিধার খোঁটা দেওয়া।
১১। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা না রাখা।
১২। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসা সহজলভ্য না করা।
১৩। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা না করা।
১৪। শিশু-কিশোর কর্মীদের জন্য আবশ্যকীয় মৌলিক শিক্ষার ব্যবস্থা না করা।
*এক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো হলো—*
১। নিজের পরিবারের সাথে কর্মীর খাদ্যে বৈষম্য না আনা।
২। উপযুক্ত থাকার জায়গা ও পোশাকের ব্যবস্থা করা।
৩। অতিরিক্ত কাজের বোঝা না চাপানো; কথায় কথায় কাজের খুঁত না ধরা।
৪। প্রয়োজনে তার কাজে সহযোগিতা করা।
৫। কর্মীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৬।দায়িত্ব দিলে সে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না করে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়া।
৭। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ছুটির ব্যবস্থা করা।
৮। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার সময় নজরদারি না করা।
৯। বাসায় অতিথি আসার কথা থাকলে অতিথি আসার আগেই তার খাবারের ব্যবস্থা করা।
১০। তাকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে যথাযথ সম্মান বজায় রাখা।
১১। পরিবারের ছোট সদস্যদের গৃহকর্মীকে সম্মান দিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া।
১২। কোনো দাওয়াতে বা বেড়াতে যাওয়ার সময় সম্ভব হলে তাকে সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করা।
১৩।শিশু-কিশোর গৃহকর্মীর ন্যূনতম আবশ্যকীয় মৌলিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
১৪। ঘরের কোনো কিছু হারানোর জন্য প্রথমেই গৃহকর্মীকে সন্দেহের আওতায় না আনা।
১৫। প্রয়োজনে কর্মীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
১৬। কর্মীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করা।
১৭। পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুবিধা সময়মতো প্রদান করা।
১৮। কর্মীর ধর্ম, সংস্কৃতি বা খাদ্যাভ্যাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
১৯। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
২০। কর্মীর পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ বা পরামর্শের ব্যবস্থা করা।
*শামীমা আকতার
#enolej_idea104354, #Shamima_Akter,#Shamim_Shamu
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।