আমাদের একটি পেইজ ছিল(২য় পর্ব)
কিন্তু কী অদ্ভুত আমাদের জীবন।আর কী অদ্ভুত আমাদের মানসিকতা।যার জন্য আকুল হয়ে সমগ্র জীবন অপেক্ষা করতে রাজি ছিলাম;অপেক্ষার অবসান হওয়ার অনেক আগেই যে তার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি সেটা বুঝতেই পারিনা।
জীবনের কঠিনতম সত্যিগুলো উপলব্ধি করতে করতে অনেকটা সময় আমরা নষ্ট করি।ততদিনে সুন্দর সম্পর্ক গুলো নষ্ট হয়ে যায়।সম্পর্কের একটা ধরন তৈরি হয়ে গেলে সেখান থেকে বের হওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। তাই জীবনে অনেক কিছুই ইগনোর করতে হয়।সুদীর্ঘ ৩৩ বছর পর আমাদের যোগাযোগের একটা সূত্র খুঁজে পাওয়া গিয়েছে মাত্র।যোগাযোগ হয়েছে সেটাও বলা যাবেনা।কারণ বেশীর ভাগ বন্ধুর সাথে হয়তো এই এক জীবনে আর দেখা হবেনা।আমাদের পেইজটা শুধু কথা বলার একটা প্ল্যাটফর্ম মাত্র।দু'একজনের হয়তো পরস্পরের সাথে যোগাযোগ বা দেখা সাক্ষাৎ হতে পারে কিন্তু বেশীরভাগই ধরা ছোঁয়ার অনেক বাইরে থাকবে।আমাদের বয়স হচ্ছে। কথা বলার যে স্পৃহা সেটাও একসময় স্তিমিত হবে।আমাদের পরিবারে দু- চারজন আপনজন থাকে মাত্র।তাদের সাথে দেখা যায় সব বিষয়ে একমত হতে পারিনা।সবচেয়ে আপনজনের সাথেই হয়তো মতের অমিল বেশী হয়।তাই বলে আমরা ঘর থেকে বের হয়ে যায় না বা কাউকে বের করে দিই না।আমরা এখানে যারা আছি তাদের দু-একজনের মধ্যে (যাদের আগে থেকে যোগাযোগ ছিল)পরস্পরের সাথে মতের মিল বা অমিল থাকতে পারে।আমাদের কারো সাথে কারোর স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা ও নাই। হওয়ার সম্ভাবনাও নাই। দেখতে চাইলেও অনেককে দেখার সুযোগ এ জীবনে আর হবেনা।আমরা শুধু পরস্পরের ফোন নম্বরটা পেয়েছি।কোনোদিন স্মৃতি কাতর হলে -একটু যেনো বলতে পারি 'হ্যালো'।বেশীরভাগেরই চেহারা, নাম সবই ভুলে গিয়েছি।কিছুই আর মনে নাই।
৩৩ বছরে সবার আলাদা সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান এবং আলাদা ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাধারা তৈরি হয়েছে।এজন্যেই বোধ হয় ধীরে ধীরে অনেকের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন শুরু হয়।উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনায় ভাটা পরে। কেউ কারো জীবনের সাথে জড়িয়ে না থাকলেও ইগো আমাদের পিছো ছাড়ে না।ভাবি, এমন কী কখনও হবে? মনের কথা বলার যে প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পেয়েছি সেটাকে অবহেলা করার জন্য একদিন না আমরা আফসোস করি।
#enolej idea104354,#Shamima Akter #Shamim shamu
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।